সিরাজগঞ্জে চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা
এফএনএস : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের সোনাখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপনের (৪৫) বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে। আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপন ২নং সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। গত বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জ থানা আমলী আদালতে মামলাটি করেন ওই উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের বন্দিহার গ্রামের আবদুল মান্নান। গত বৃহস্পতিবার রাতে রায়গঞ্জ থানার ওসি শহিদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, একই ইউনিয়নের বাসাইল জুব্বারের ছেলে সোরহাব আলী (৩৮), মৃত আজাহার আলীর ছেলে আহমাদ (৫০), ভুইয়ট গ্রামের মৃত আসমত আলীর ছেলে জয়নাল হোসেন (৫৮) ও তার দুই ছেলে আবদুল জব্বার (৩৫), সুমন শেখ (৩০), ইসরাফিলের ছেলে সোহাগ (২৮) ও আবদুল খালেক (৩৫), মৃত মনছের আলীর ছেলে ইসরাফিল (৬০) এবং মৃত শাহজান আলীর ছেলে ফরহাদ (৫৫), ফরহাদের ছেলে আরিফ (৩২) ও ফারুক (৩৫)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিমগাছী বাজারের মৎস্য আড়তদার মামলার ১নং সাক্ষী আবু সাঈদ শেখের কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মামলার বাদী আবদুল মান্নানের ছেলে রেজাউল করিমকে নিমগাছী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিছন্নতা কর্মী পদে (এমএলএসএস) চাকরি দেয়ার জন্য নগদ আট লাখ টাকা নেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপন। তবে চাকরি দেয়া হয় প্রধান আসামি আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপনের ভাগনে আসলাম হোসেনকে। পরে ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর আবদুল মান্নান টাকা ফেরত চাইলে আসামি তিন মাস সময় নেয়।
এরপর নানা ঘটনার পর রিপন ৯০ হাজার টাকা ফেরত দিলেও বাকি সাত লাখ ১০ হাজার টাকা আর ফেরত দিবেন না বলে হুমকি দেন। মামলার বাদী আবদুল মান্নান বলেন, আসামিরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। বর্তমানে আমরা চরম আতঙ্কে রয়েছি। এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. লোকমান হাকিম বলেন, রায়গঞ্জ থানা আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চেক জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সোনাখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপন বলেন, চাকরি বিষয়ে আমার সঙ্গে কারো কোনো লেনদেন হয়নি। মূলত সামনে নির্বাচন। এজন্য প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্তের আদেশটি এখনও হাতে পাইনি। পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে।
