সাপাহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে দুর্গন্ধে নাকাল রোগীরা
তোফায়েল আহমেদ, সাপাহার : নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে টয়লেটের তীব্র দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা। বহির্বিভাগের মেরামত ও সংস্কারকাজের সময় টয়লেটের নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দীর্ঘদিনেও তা সংস্কার করা হয়নি। ফলে টয়লেটের আউটলেট ট্যাংকির একটি অংশ ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। ওই স্থান দিয়ে মল-মূত্র বের হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টয়লেটের আউটলেট ট্যাংকির একটি অংশ ভাঙা। সেখান দিয়ে মল-মূত্র বের হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটির সমাধান না হওয়ায় বহির্বিভাগের আশপাশের পরিবেশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দুর্গন্ধের কারণে তাঁদের ভোগান্তিও বাড়ছে। অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য এসে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন হাসান আলী বলেন, “আমার এক আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলাম এসে দেখি টয়লেটের দুর্গন্ধ পুরো হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে রোগীদের সুস্থ করতে আনা হয় সেখানে এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছি, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা দরকার।”
সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ রাশিদ নায়ীব সিজান বলেন, “হাসপাতালে আগত সবার সেবার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। শুধু রোগ নির্ণয় ও ওষুধ লিখে দেওয়াই চিকিৎসা নয়। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সরকারের এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের অপূর্ণ কাজ সাপাহারের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে অন্তরায়। আমরা সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান নিয়ে আপস করতে চাই না।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে মেরামত ও সংস্কারকাজের জন্য একজন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই চলে যান। এতে বহির্বিভাগের টয়লেটের নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আরিফুজ্জামান সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য রাজশাহী সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বহির্বিভাগের মেরামতকাজের অংশ হিসেবে টয়লেটের নিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে ফেলা হলেও কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদার চলে যান। ফলে টয়লেটের আউটলেট যথাযথভাবে বন্ধ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এর আগে সমস্যাটি সমাধানের জন্য ১১ আগস্ট ও ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে যথাক্রমে ৭১০ ও ৭৪০ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। তবে এরপরও সমস্যাটির কার্যকর সমাধান হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সমস্যাটির কারণে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শত শত রোগী, রোগীর স্বজন ও স্থানীয় জনগণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এতে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, “সমস্যাটি সমাধানের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সমস্যাটি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
চিঠির অনুলিপি অবগতির জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, নওগাঁর সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য অবকাঠামোর মেরামত ও সংস্কারকাজ তাদের কার্যপরিধির আওতাভুক্ত। এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
