রাজশাহীতে বিআরটিসি বাসের টিকেট বিক্রি নিয়ে রশি টানাটানি
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে বিআরটিসি (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন) বাস ডিপো ও টিকেট এজেন্ট এর মালিকানা স্বত্ব নিয়ে আগস্ট অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে দীর্ঘসময় ধরে চলেছে নানা চেষ্টা তদবির। কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় ১ বছর দশ মাস ডিপো ও টিকেট বিক্রির বিষয়টি পরিচালিত হয়েছে স্থানীয় রাজনীতির বেশকিছু নেতাকর্মীর হাত ধরে। কেউবা বলছেন অনুমতি সাপেক্ষেই দায়িত্ব পালন করেছেন তারা। পূর্ববর্তী এজেন্টের পলায়ন পরবর্তী সময় থেকে নতুন এজেন্ট নিয়োগ পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত সেটি পরিচালিত হয়েছে একাধিক হাতে। তিনবছর মেয়াদী এই চুক্তির সমাপ্তিক্ষণ ছিল চলতি বছরের মে-জুন’২০২৬ পর্যন্ত বলে জানান নতুন করে দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিগণ। নিয়মানুযায়ী চলতি বছরের জুন ও আগস্ট মাসে ডিপো ও টিকেট বিক্রির এজেন্টের দায়িত্ব দেয়া হয় দুজন ব্যক্তিকে। বিভিন্ন ধরণের লবিং আর রাজনৈতিক সহোযোগিতায় একই শহরে দুজন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান নিজেদের নামে নিয়েছেন অনুমতিপত্র; এর আগে রাজশাহীতে তেমন একটা দেখা যায়নি দ্বিমূখী সেবার বিষয়টি বলে জানান স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। যার কারনে প্রথম থেকেই বাস ডিপো ও টিকেট বিক্রির পয়েন্ট নিয়ে শুরু হয়েছে দ্বিমূখী রশি টানাটানি বলে মন্তব্য কর্মরত অনেকের। বিষয়টির সত্যতাও অকোপটে স্বীকার করেন নতুন করে দায়িত্ব পাওয়া মইনুল ইসলাম ও আল আমিন সরকার (টিটু)।
কে কোন কাউন্টার নেবে; আর কেইবা পাবে ডিপোর দায়িত্ব এনিয়ে অনেকদিন ধরেই চলেছে নানামূখী দৌড়ঝাপ। অবশেষে বিআরটিসির টিকিট বুকিং প্রতিনিধি হিসেবে গত ১৮-০৬-২০২৬ ইং তারিখে সাময়িক ভাবে মইনুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয়া। রাজশাহী নগরীর রেলগেট, গোরহাঙ্গা গোরস্থান, শিরোইল বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে মার্কেট ও বন্ধগেট নামক স্থানে বিআরটিসির টিকিট বুকিং (টিকেট বিক্রি) এর দায়িত্ব দেয়া হয় মনিরুলকে। ঠিক তার দুই মাস ছয় দিন পর গত ২৪-৮-২০২৬ ইং তারিখে বিআরটিসি’র সাথে নতুন করে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন আল আমিন সরকার (টিটু) নামের এক ব্যক্তি। টিটুকে দেয়া হয় নগরীর ছয়টি স্থানে টিকেট বিক্রির কাউন্টার পরিচালনার জন্য। সেগুলো হলো, তালাইমারী, ভদ্রার মোড়, রাজিব চত্তর, কুমারপাড়া, রাজশাহী কোর্ট, নগর ভবন। একই শহরে দুজনকে টিকেট বিক্রির এজেন্ট নিয়োগ দেযার কারনে সৃষ্টি হয় মাইলেজ বা দূরত্বের ম্যারপ্যাঁচ। স্বল্প দূরত্বে দুপক্ষের একাধিক কাউন্টার থাকায় সৃষ্টি হয় জটিলতা। এছাড়াও বিশেষস্থান বা বিশেষ একাধিক পয়েন্ট নিয়ে উভয়ের মধ্যে শুরু হয় রশি টানাটানি। এরইমধ্যে কুমারপাড়াস্থ পূববর্তী বাস ডিপোটি স্থানান্তর করা হয় নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল এলাকায়। আর পূর্বের ডিপো স্থলটি এখন টিকেট কাউন্টার (বুকিং কাউন্টার) ও যাত্রী সাধারণের বসারস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট এই দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন থেকে যাত্রীসেবা ও টিকেট বিক্রির দায়িত্ব দেয়া হয় দুজন ব্যক্তিকে। দুটো ডকুমেন্টই স্বাক্ষরিত হয় রাজশাহী ও পরবর্তীতে পাবনা ইউনিট প্রধান ও ডিজিএম (পিএন্ডএস) মোঃ মনিরুজ্জামান বাবু কর্তৃক। এই ধরনের আকর্ষিক দ্বিমূখী কর্মকান্ডে ব্যহত হয়েছেন অনেকেই।
সৃষ্টি হওয়া জটিলতা সম্পর্কে মইনুল ইসলাম এই প্রতিবেদকে বলেন, দ্বিতীয় ব্যক্তির সাথে কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে নতুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার কারনে কাউন্টার মাইলেজ এর বিষয়টি জটিলতা সৃষ্টি করেছে। অর্থ্যাৎ একটি বুকিং কাউন্টারের সাথে অন্য আরেকটি কাউন্টারের দূরত্বের বিষয়টি এখন গলার কাঁটা হয়েছে দাড়িয়েছে। বিষয়টির জটিলতা নিরসনে আমরা উভয়পক্ষ বেশ কয়েকবার কথা বলেছি। সমাধান হয়ে যাবে মনে হয়। জানতে চাইলে মইনুল বলেন, রাজশাহী-টু-ঢাকা বাস চলাচলের জন্য টিকেট বিক্রির দায়িত্ব প্রথম দিকে আমাকে দেয়া হলেও বিআরটিসি বাসের কন্ডিশন খুব একটা ভাল না হবার কারনে দুইবার ট্রায়াল দিয়েও সফলতা পাওয়া যায়নি। বাসের কন্ডিশনের কারনে মাত্র তিন থেকে চারজন যাত্রী টিকেট কেটে ছিলেন।
অন্যদিকে, আল আমিন সরকার টিটু বলেন, যার কাছে শক্তিশালী ও আপডেট কাগজপত্র আছে তার অধিকারের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবার কথা। কিছু কাউন্টার নিয়ে একটু জটিলতা আছে। সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের সমস্যার সমাধান চেয়ে ইতোমধ্যেই রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান টিটু। জানতে চাইলে পাবনা ইউনিট প্রধান ও ডিজিএম (পিএন্ডএস) মোঃ মনিরুজ্জামান বাবু বলেন, রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে বিআরটিসির নন -এসি ও এসি মিলে ১০/১১টি বাস চলাচল করে। টিকেট বিক্রির এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া দুজন ব্যক্তির মধ্যে একজনের সুপারিশ রয়েছে মন্ত্রীর; আর অন্যজনের সুপারিশে নাম আছে এক এমপির বলে জানান ইউনিট প্রধান। টিকেট কাউন্টার নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিবাদের বিষয়ে কোনপক্ষই দাপ্তরিকভাবে কোন কিছুই অবগত করেননি বলে দাবি এই কর্মকর্তার।
