শস্যভান্ডারখ্যাত নওগাঁয় সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে ৮০ টাকা বেড়েছে
আককাস আলী, নওগাঁ : শস্যভান্ডারখ্যাত জেলা নওগাঁর বাজারে সুগন্ধি ও চিনিগুড়া চালের দাম কেজিতে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কিছু সময় আগে যেখানে এই চাল ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি চালের পাশাপাশি কাটারিসহ অন্যান্য সরু চালের দামও কেজিতে ৪ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বৃহত্তর চালের মোকাম নওগাঁয় ঠিক এমনই টালমাটাল চালের বাজার। ক্রেতা এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় কিছু মিল আর কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর মজুত সিন্ডিকেটের কারণেই বাড়ছে চালের দাম। তবে মিল মালিক আর ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, সরকারিভাবে রপ্তানি আর হাটে ধানের বাড়তি দামের কারণেই ঊর্ধ্বমুখী চালের দাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ের কথা বললেও বাস্তবে কারো দেখা মিলেনি। ক্ষুদ্র চাল বাজারের ব্যবসায়ীরা কিছু বড় মিলার ও কর্পোরেট ব্যবসায়ী মৌসুমের শুরুতেই চাল কিনে মজুত করেছেন। তারাই মূলত এখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তবে অবৈধ মজুতের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মিল মালিক ও ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের দাবি, যাদের কাছে মজুত আছে, তারা সরকারের মজুত নীতি মেনেই মজুত করেছে।
নওগাঁ চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, কোনো মিলারই অবৈধ মজুত করেন না। বহু বছর লোকসানের পর এবারই কিছুটা লাভের মুখ দেখছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি চালের দাম বাড়ায় কৃষকরা ধানের দাম বেশি পাচ্ছেন। ধান বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই চালের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বর্তমানে হাটগুলোতে প্রতি মণ কাটারি ১৮০০ আর আতপ কিনতে হচ্ছে ৩ হাজার ৭শ টাকায়। নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরহাদ খন্দকার বলেন, মূলত রপ্তানির কারণেই দাম বেড়েছে কিছুটা। নওগাঁয় অটোমেটিক ও হাসকিং মিলিয়ে সাড়ে ৪শ রাইস মিল রয়েছে। খাদ্য বিভাগ প্রতিনিয়তই মিলগুলোতে নজর রাখছে। অবৈধ মজুত অনুসন্ধানে মাঠে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
