স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে বেশ কয়েকমাস ধরেই চলছে নানা ঝুক্কিঝামেলা। সাধারণ শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বাস চলাচল বন্ধ করেছেন কয়েকবার। দু’পক্ষের মধ্যে হয়েছে একাধিকবার দ্বন্দ্ব। বিগত স্বৈরাচার আমলের সেক্রেটারি মাহাতাব আলী চৌধুরীসহ অধিকাংশ নেতা পলায়নের পর সেই দায়িত্ব পালন করছিলেন রফিকুল ইসলাম পাখি। নানা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার আর শ্রমিকদের দাবি দাওয়া নিয়ে ছেলেখেলা সহ নির্বাচন ব্যতীরেকে দীর্ঘসময় ধরে সংগঠণের সর্বোচ্চ পদ জোড়পূর্বক আকড়ে ধরে রাখার অভিযোগ ওঠে সাধারণ শ্রমিক ও সংগঠনটির একাংশের পক্ষ থেকে। অবশেষে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে সাধারণ শ্রমিক ও বঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
গত ২৩ এপ্রিল ইউনিয়নের কার্যালয় দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর শিরোইল এলাকায় শ্রমিকদের দুপক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিস্ফোরণ ঘটানো হয় টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায়। সে সময় বাস টার্মিনালের আশেপাশের বেশ কিছু দোকানে ভাঙচুরও চালানো হয়। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রায় ২৩ দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ফেডারেশন সমঝোতার ভিত্তিতে একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করেছিল। ১৭ মে’ ২০২৬ ইং তারিখে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করে। রাজশাহী জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সেই কমিটিতে রফিকুল ইসলাম পাখিকে আহ্বায়ক ও মোমিনুল ইসলাম মোমিনকে সদস্য সচিব করা হয়। কিন্তু সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন না করে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আসায় আবারো অসন্তোষ দেখা দেয় শ্রমিকদের একাংশের মধ্যে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আবারো তালা ঝুলিয়ে দেয় কার্যালয়ে। নতুন করে শুরু হয় উত্তেজনা। অসন্তোষ বিরাজ করতে থাকে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে। অবশেষে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে কেন্দ্র থেকে ঘোষিত সেই ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। অবশেষে জেলা প্রশাসক রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব দেন পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত। ঐসময়ে প্রশাসনের কর্তাদের দেয়া ভাষ্যানুযায়ী ঈদুল আযহার পরেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা নির্বাচিত করার কথা বললেও আজ অবদি সেই নির্বাচনের কোন হোদিস নেই বলে আক্ষেপ প্রকাশ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। কবে নাগাদ নির্বাচন হবে সেটিরও কোন তথ্য নেই শ্রমিকদের কাছে। সাধারণ শ্রমিকরা আক্ষেপ করে বলেন, নির্বাচন যেনো ধোয়াশার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আছে। উপরন্তু, বাস মালিক সমিতির একজন নেতাকে বানানো হয়েছে শ্রমিকদের ভারপ্রাপ্ত নেতা। বিষয়টি বেশ হাস্যকর বলে মন্তব্য অনেকের। কারণ হিসেবে তারা বলেন, মালিকপক্ষ কখনোই শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট আর নিপিড়নের জ্বালা বুঝবেননা। তবুও কি কারণে, কোন অভিপ্রায় নিয়ে বাস মালিক সমিতির সম্পাদককে শ্রমিকদের দেখভালের দ্বায়িত্ব দেয়া হলো সেটা বোধগম্য নয় শ্রমিকদের কাছে। উপরন্তু, শ্রমিক ইউনিয়নের প্রশ্নবিদ্ধ নেতা পাখির সাথে যে ব্যক্তির রয়েছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সখ্যতা; তাকেই করা হলো শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত নেতা। বিষয়টি বেশ জটিল ও গোলক ধাকার তুল্য বলে মন্তব্য শ্রমিকদের।
এদিকে নির্বাচন সম্পর্কে রফিকুল ইসলাম পাখির মন্তব্যের সাথে অমিল পাওয়া যায় কেন্দ্রের নেতাদের বক্তব্যে। নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, অতিশীঘ্রই নির্বাচন হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকান্ড চলমান আছে। কিন্তু, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির খান নির্বাচন সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি দাওয়া উত্থাপন করে একাধিকবার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছিল বিধায় আমরা কেন্দ্র থেকে ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির নাম ঘোষণা করেছিলাম। পরিস্থিতি হঠাৎ করে ঘোলাটে হবার কারনে আপাতত উক্ত কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে রাজশাহী জেলা বাস মালিক সমিতির সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম হেলালকে আমরা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির চলতি দায়িত্ব দেইনি। তিনি কিভাবে এই দায়িত্বে আসলেন সেটা আমরা বলতে পারবোনা। নির্বাচন কবে নাগাদ হতে পারে জানতে চাইলে, কেন্দ্রের এই নেতা বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমরা এখন ভাবছিনা। আমাদের দেয়া আহ্বায়ক কমিটিকে নিয়েই আমরা ভাবছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিক ইউনিয়নের চলতি দায়িত্বে থাকা নজরুল ইসলাম হেলাল জানান, রাজশাহী জেলা প্রশাসক রাজশাহী শ্রম অধিদপ্তরে একটি চিঠি ফরোয়ার্ড করেছেন। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শ্রম অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক বরাবর এই চিঠি ইস্যু করেন জেলা প্রশাসক। বিষয়টি নিশ্চিত হবার জন্য জেলা প্রশাসককে বেশকয়েকবার মোবাইলে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।