বাবা-মায়ের হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দেখা করেছেন। বুধবার (০৩ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের আলী রোমান ও আইনজীবী শিশির মনির। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুসকে উদ্দেশ্য করে মেঘ বলেন, আমাদেরকে অনেকে অবস্থা (তদন্তের বিষয়ে) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আমরা কোনো উত্তর দিতে পারি না। আমরা জানিও না কী চলতেছে। মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বলেন, মানুষ বলে বিচার হবে না। ব্যাপারটা আমি ভালো বুঝি। আমাদের কাতারে যে সব পরিবার আসতেছে বিচারহীনতায় ভুগে ভুগে, একমাত্র তারাই বুঝতে পারবে। এছাড়া কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব না। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ঘটনার সময় যে তদন্তকারী কর্মকর্তা, র্যাব, পুলিশ গিয়েছিল, তাদের কাউকে বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা ট্রেস করতে পারছেন না। তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সময় বাড়ির দারোয়ান, যিনি কারাগারে আছেন, তার সঙ্গে কথা বলেছেন, মেঘের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, সব দিক তদন্ত করছেন। আইনজীবী শিশির মনির জানান, মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়ে রোববার আবেদন করা হবে। এর আগে ২৬ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পরে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়। টাস্কফোর্সের অন্য তিন সদস্য হলেন পুলিশ সদর দপ্তর ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ থেকে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন করে দুজন এবং র্যাব থেকে পরিচালক পদমর্যাদার একজন। তবে ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এরপর ২২ এপ্রিল ও ২৩ অক্টোবর দুই দফায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আরও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়। তার ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি আবার কার্যতালিকায় ওঠে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।-এফএনএস