শনিবার

৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি তানোরে যেভাবে প্রাণ গেলো ৭টি গরুর তানোরে খাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ি সীমানে ২৮ জনকে পুশইনের আপচেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা-প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তির সাহায্যে ভুল-অপতথ্যের প্রচার মোকাবিলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ : তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই কোম্পানির প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

রাজশাহীতে চলছে মাঝারি তাপপ্রবাহ

Paris
Update : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে এক দিনের ব্যবধানে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়ে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর বেলা তিনটার দিকে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে কালবৈশাখীর প্রভাবে বৃষ্টি হওয়াতে তাপমাত্রা কমে এসেছিল। তবে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে, জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬-৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর বেশি হলে তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসাবে রাজশাহীতে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছে। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। গতকাল শুক্রবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বেড়ে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এদিকে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় সব শ্রেণির মানুষ বিপাকে পড়েছেন। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কম হওয়ায় রাতের দিকেও গরমে অস্বস্তিতে ভুগছেন। নগরের চৌদ্দপাই এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, দিনে যেমন তাপ, রাতেও তেমনি মনে হয়। খুব গরম পড়েছে। গা-গতর ঘেমে উঠছে। রিকশাচালক বেলাল হোসেন বলেন, রোদে রিকশা চালানো এখন অনেক কষ্টের হয়ে গেছে। দুপুরের দিকে যাত্রীও কম থাকে, আবার গরমে শরীরও ঠিক থাকে না। নির্মাণশ্রমিক সোহেল রানা জানান, রোদে কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘুরে যায়। একটু পরপর পানি খেতে হয়, তারপরও গরম সহ্য করা যাচ্ছে না। ফল বিক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন, গরমের কারণে মানুষ কম বের হচ্ছে, তাই বিক্রিও কম। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে খুব কষ্ট হয়। গৃহিণী শিউলি বেগম বলেন, ঘরের ভেতরেও গরম সহ্য করা যাচ্ছে না। ফ্যান চালিয়েও আরাম পাওয়া যাচ্ছে না, ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বেশি চিন্তায় আছি। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাপন, পোশাক-আশাকে পরিবর্তন এসেছে। রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন স্থানে রোদের তাপ থেকে বাঁচতে কেউ ক্যাপ, ঢিলেঢালা পোশাক, ছাতা মাথায় নিয়ে বের হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন হওয়াতে মানুষের আনাগোনাও কম ছিল। তবে তাপমাত্রা সেটি আরও কমিয়েছে। এ কারণে নগরের রিকশাচালকদের আয় কমেছে। নগরীতে রিকশাচালক আমজাদ হোসেন বলেন, আজ ভাড়া নেই বললেই চলে। মানুষ এই রোদে বের হচ্ছেন না। এদিকে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়লেও হাসপাতালে গরমজনিত রোগী এখনো বাড়েনি। এ ছাড়া হিটস্ট্রোকের রোগীও এখনো আসেননি জানিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘হাসপাতালে একটি হিটস্ট্রোক কর্নার চালু রয়েছে। সেখানে গরমজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত। তবে এখনো এ ধরনের রোগী আসেননি। গরমে সাধারণত শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া জাতীয় রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এবার এখনো এমন রোগী স্বাভাবিক আছেন। গরম অব্যাহত থাকলে তা বাড়তে পারে। হাসপাতালে সে প্রস্তুতি নেওয়া আছে। ’ গরমে করণীয় সম্পর্কে এই চিকিৎসক বলেন, বাইরের ভাজাপোড়া বা খোলা শরবত এড়িয়ে চলতে হবে। ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে, ছাতা ব্যবহার করতে হবে এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলতে হবে। প্রচুর তরল পান করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাঁদের বেশি বেশি পানি পান করাতে হবে এবং সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। রোদে বের হলে ছাতা বা মাথা ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
তানোর থেকে প্রতিনিধি জানান, চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে রাজশাহীর তানোরে। হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে তাপপ্রবাহ। খরা প্রবন এলাকা হিসেবে পরিচিত উপজেলা। এউপজেলায় বর্তমানে আলু উত্তোলন ও ধান রোপন এবং আগাম বিলপাড়ের ইরো বোরো ধান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক কৃষাণী ও শ্রমিকরা। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারনে দুপুর ১২ টার আগেই মাঠ থেকে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমিকরা।এমন কি রাস্তায় যান বাহন তেমন দেখা য়ায়নি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris