স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের মাসিক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল যথাযোগ্য মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে নগরীর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে ক্লাবের চলমান সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে ক্লাবের নেতৃবৃন্দ, সাধারণ সদস্য এবং সহযোগী সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম। আলোচনা সভার শুরুতে সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় হয় এবং ক্লাবকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব উঠে আসে।
সভাপতির বক্তব্যে রেজাউল করিম বলেন, রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য সত্য তুলে ধরা, তবে এই পথচলায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও অপপ্রচারের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তিনি সকল সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা বিভেদ যেন সংগঠনের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অপপ্রচারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি সংগঠন যখন সাফল্যের পথে এগিয়ে যায়, তখন কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি সদস্যদের উদ্দেশে অনুরোধ করেন, কোনো গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সরাসরি সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। সভা শেষে ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় এবং প্রয়াত সাংবাদিকদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ।
পরবর্তীতে আমন্ত্রিত অতিথি ও সদস্যরা একসঙ্গে ইফতারে অংশ নেন। সাংবাদিকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই পেশাগত মানোন্নয়ন ও পারস্পরিক ঐক্য অটুট রাখার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।