নিয়ামতপুরে কালবৈশাখী তান্ডবে ঘরবাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
নিয়ামতপুর প্রতিনিধি : নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ওপর দিয়ে মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে। গত রোববার (১৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে এই ঝড় বয়ে যায়। আকস্মিক এই ঝড়ে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে গোটা উপজেলা। অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় লোকজনের দৈনন্দিন কর্মকান্ড ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে পানি নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিনরাত কাজ করতে মাঠে দেখা গেছে। এছাড়া ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা। তীব্র দমকা হাওয়ায় অসংখ্য কাঁচা ও আধা পাকা ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে বড় বড় গাছ। ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমবাগান ও ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, আলুর সামান্য ক্ষতি হলেও আম ও গমসহ অন্যান্য ফসলের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়নি।
ভাবিচা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা করমতুল্যা বলেন, ‘সোমবার সারাদিন ইউনিয়ন পরিষদে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। তাই অনলাইনের কোনো কাজ করা সম্ভব হয়নি। অনেকে সেবা নিতে এসে ঘুরে গেছেন।’
সদর ইউনিয়নের হানুপাড়া গ্রামের জুবাইদা, আজাদ আলী, আব্দুল লতিফ বলেন, ‘রোববার রাতের আকষ্মিক ঝড় আসার আমাদের বাড়ির টিনের চালা উড়ে যায়। আমাদের এতো বড় ক্ষতি অপূরনীয়। এখন সরকার আমাদের সহযোগিতা না করলে ছেলে মেয়ে নিয়ে পথে বসতে হবে। ভাবিচা গ্রামের দিলীপ অধিকারী বলেন, ‘রোববার রাতের ঝড়ে আমার দোতলা ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। কয়েকটা টিন খুঁজে পায়নি।’
নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ামতপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ- মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহম্মদ মেশবাহুল হক সোমবার রাতে জানান, রোববারের আকস্মিক ঝড়ে মেইন লাইনসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার ছিঁড়ে গেছে, পোল ভেঙে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কিছু এলাকায় সংযোগ চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন কাজ করছে। পর্য়ায়ক্রমে বাদবাকি লাইন চালু করা হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন বলেন, রোববার রাতের ঝড়ে উপজেলার অনেকের বাড়ি-ঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার ছবিসহ তাঁর (ইউএনও) বরাবর আবেদন করার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
