মান্দায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাট করে পালানোর সময় ৩ জন আটক
স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ : নওগাঁর মান্দায় ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাট করে পালানোর সময় তিন ভুয়া ডিবি পুলিশকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে মান্দা উপজেলার ১৪ নম্বর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারইটুঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় আটকৃতদের বেশকিছু ছবি এবং ভিডিও একইদিন দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। এরপর বিকেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে সন্ধ্যায় তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটককৃত মানিক,এনামুল এবং মাহবুবের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ফুলবাড়ী এলাকায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে একটি পালসার ও একটি অ্যাপাসি মোটরসাইকেলযোগে তিন যুবক পারইটুঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা অতুলের ছেলে সুকুমারের বাড়িতে উপস্থিত হয়। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জানায়, বাড়িতে অবৈধ মাদক রয়েছে এবং তা তল্লাশি করতে হবে। একপর্যায়ে ঘরের দুজনকে হ্যান্ডক্যাপ পরায় তারা। এরপর চক্রের দুইজন ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে সুকেসের ড্রয়ার ভেঙে সোনার চেইন, গলার হার, কানের দুল, কোমরের বিছা ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা লুট করে নেয়।
লুটপাট শেষে কৌশলে হ্যান্ডকাফ খুলে দিয়ে ওই ভুয়া ডিবি সদস্যরা বলে যে, “বাড়িতে কোনো মাদক নেই, ভুল তথ্য ছিল। অন্য বাড়ি তল্লাশি করতে হবে।” এই বলে তারা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে কেটে পড়ে।
তারা চলে যাওয়ার পরপরই বাড়ির লোকজন ঘরের অবস্থা দেখে লুটপাটের বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করেন। স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে পার্শ্ববর্তী বাগমারা উপজেলার শিমলা বাজার এলাকার লোকজনকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে স্থানীয়রা শিমলা বাজার সংলগ্ন ফজরের মোড় এলাকায় রাস্তায় দুটি ভ্যান দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এর আগে পথিমধ্যে কয়েকবার তাদের আটক করার চেষ্টা চালানো হলেও ব্যর্থ হতে হয়। পরে ফজরের মোড়ে এসে তারা ব্যারিকেডে আটকে গেলে জনতা তিনজনকে ধরে গণধোলাই দেয়। বিকেলে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনাটি মান্দা ও বাগমারা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় উভয় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে দুই থানার সম্মতিক্রমে আটককৃতদের মান্দা থানায় নিয়ে আসা হয়। এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, “ঘটনাটি জানার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের আটক করে থানায় আনা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।” সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওসি আরও বলেন, “পুলিশ পরিচয়ে কেউ সন্দেহজনক বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে এলে আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিন অথবা নিকটস্থ থানাকে অবহিত করুন।” উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেও উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে একই কায়দায় ডিবি পরিচয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
