শনিবার

৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি তানোরে যেভাবে প্রাণ গেলো ৭টি গরুর তানোরে খাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ি সীমানে ২৮ জনকে পুশইনের আপচেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা-প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তির সাহায্যে ভুল-অপতথ্যের প্রচার মোকাবিলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ : তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই কোম্পানির প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যা, আত্মহত্যার চেষ্টা হত্যাকারী কর্মচারীর

Paris
Update : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে অবস্থিত সমাজকল্যাণ বিভাগে ওই শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন করেছেন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইমাম হোসাইন। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বেতন নিয়ে ঝামেলা ও অন্য বিভাগে বদলির জেরে ইবির সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়ার গলায় ছুরি চালিয়ে দেন ফজলুর রহমান নামে এক কর্মচারী। পরে নিজের গলায়ও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ও ইবি থানার পুলিশ গিয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। দুজনকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সর্বশেষ হাসপাতালে সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া মারা যান। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী জানান, চিৎকারের আওয়াজ পেয়ে ২২৬ নম্বর রুমের দিকে ছুটে যান শিক্ষার্থীরা। এসময় আনসার সদস্যরা বাইরে থেকে দরজা ধাক্কা দিচ্ছিলেন। দরজা ভেতর থেকে আটকা ছিল। পরে কয়েকজন মিলে ধাক্কা দেওয়ার এক পর্যায়ে দরজাটি খুলে যায়। সেখানে ওই শিক্ষিকা ও কর্মচারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে খবর দেন শিক্ষার্থীরা। ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরে ওই রুম থেকে দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল পাঠাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। আরেকজনকে ওটিতে নেওয়া হয়েছে। প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, খবর আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এসময় একজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। অন্যজন কিছুটা নড়াচড়া করছিল। পরে তাদের দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেছে বলে খবর পেয়েছি।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মচারী বেতন পাচ্ছিলেন না। এটি নিয়ে বেশ ক’দিন আগে বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার পরে সম্প্রতি ফজলুকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। মূলত এই ক্ষোভ থেকেই এ কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবনের নিচে কর্তব্যরত এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চার জন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে দিচ্ছেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই। সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারেননি। উনি প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মচারী, উনি এখান থেকে চলে যাবেন, উনি সব কিছুই জানেন এই বিভাগের। তিনি বলেন, ওনাকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে বদলি করা হয়। আর উনি এখন এমন সাংঘাতিক একটা ডিসিশন নেবে আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। ডিপার্টমেন্টে হাবিব স্যার ছিল। উনি ৩০ মিনিট আগে ডরমেটরিতে চলে যান। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনও কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী ঢুকে লক করে দেন।-এফএনএস


আরোও অন্যান্য খবর
Paris