তানোর প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রের নির্দেশ লঙ্ঘন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুন মুন্ডুমালা পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুর রহমানকে সংবর্ধনা ও ওয়াকার্স পার্টির শরিফুল ইসলামকে আওয়ামী লীগে যোগদান করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে তৃণমুলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের মাঝে চরম অসন্তোষের সৃস্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। বিগত ২০১৯ সালের ১০মার্চ উপজেলা নির্বাচনে ওয়াকার্স পার্টির হাতুড়ি প্রতিক নিয়ে শরিফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদন্দিতা করেন।
এ ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয় অন্যদিকে ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারী মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান জগ প্রতিক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এদিকে কেন্দ্র থেকে বার বার শতর্ক বার্তা দিয়ে বলা হচ্ছে কেন্দ্রের অনুমোদন ব্যতিত কাউকে যোগদান করানো যাবে না এবং বিদ্রোহী হয়ে যারা নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান করেছ তাদের নৌকায় ফিরে আশার কোনো সুযোগ নাই।
আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীনতম, ঐতিহ্যবাহী ও সর্ববৃহত রাজনৈতিক দল, তাদের নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে তায় কেন্দ্রের অনুমতি ব্যতিত বহিস্কৃত কাউকে নতুন করে দলে যোগদান করানো যাবে না। অথচ গত ২০ ফেব্রুয়ারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুন অবৈধ ভাবে বহিস্কৃত শরিফুল ইসলাম ও সাইদুর রহমানকে দলে যোগদান করিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০ ফেব্রুয়ারী শনিবার পাঁচন্দর ইউপির দুবইল স্কুল মাঠে এলাকাবাসীর ব্যানারে তানোর ও মুন্ডুমালা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়রদের গণসংবর্ধনা আয়োজন করা হয়। কিন্ত্ত এলাকাবাসির কথা বলা হলেও মঞ্চে আমজনতা বা সাধারণ মানুষের কোনো স্থান হয়নি সেই চেনা মুখের বির্তকিত আওয়ামী লীগ নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীকে সংবর্ধনা ও কেন্দ্রের অনুমোদন বা কোনো পুর্ব ঘোষণা ছাড়াই ওয়ার্কাস পার্টির শরিফুল ইসলাম ও বহিস্কৃত সাইদুর রহমানকে আওয়ামী লীগে যোগদান করানো হয়। তবে সেই মঞ্চে ছিলনা কেন্দ্র ও জেলার কোনো নেতা, ছিলনা এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমনকি পাঁচন্দর ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন।
তাহলে এর মধ্যদিয়ে তারা কি বোঝাতে চাই তারাই শুধু আওয়ামী লীগ। অথচ এই শরিফুলু ইসলাম ২০১৯ সালের ১০ মার্চ উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে হাতুড়ি প্রতিক নিয়ে নির্বাচন ও প্রকাশ্যে এবং ৩০ জানুয়ারী মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধীতা করে বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে নৌকা ডুবিয়েছে। অন্যদিকে এর আগে উপজেলা নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর (নৌকা) বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন নৌকার পরাজয় নিশ্চিত করেছে। অথচ কদিন আগেও রাব্বানী ও মামুন এমপির পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রকাশ্যে একে অপরকে জাতীয় বেঈমান, জামায়াত-বিএনপির গুপ্তচর, বিশ্বাসঘাতকসহ গালাগালী করেছে।
এমনকি তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কেন্দ্র নালিশ করছেন, আবার এখন তারা মানিক জোড় হয়ে এমপির বিরুদ্ধে বিষোদাগার করছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরী বলেন,যারা বিদ্রোহী প্রার্থীকে ফুলের শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দিয়েছেন এবং বির্তকিত ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগে যোগদান করিয়েছেন তারা নৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকতে পারেন না। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃস্টি আকর্ষণ করেছেন।