স্টাফ রিপোর্টার : প্রতীক বরাদ্দের পরেরদিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে দেশের অন্যান্যস্থানের মতো রাজশাহী মহানগরীতেও নির্বাচনী ডামাডোল শুরু হয়েছে। সমস্ত নগরীজুড়েই শোভা পেয়েছে ব্যানার ফেস্টুন। পাড়া মহল্লায় তৈরি করা হয়ে হয়েছে বিভিন্ন আকৃতির নির্বাচনী ক্যাম্প। নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে কর্মী-সমর্থকরা প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিলি করে। গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ, গল্পগুজব আর চায়ের আড্ডায় নির্বাচনী প্রচারণা ও কর্মযজ্ঞ চললেও; আগের মতো চোখজুড়ানো রঙিন প্রচারণার অভাব ছিল প্রথম কয়েকদিন। গত ২২ জানুয়ারি থেকে প্রথম পাঁচ-ছয়দিন নগরীজুড়ে ছিল সাদা-কালো ছবির ব্যানার-ফেস্টুন। দীর্ঘসময় পর দেশে বহুদলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় সাদাকালোর যাত্রাটা বহুকাঙ্খিত নির্বাচনী আমেজকে পুরোটাই ফিঁকে করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য দলের সমর্থক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।
হঠাৎ করে গত ২৭ থেকে ২৯ জানুয়ারি রাত থেকে নগরীর বিভিন্নস্থানে বসানো হয় বিলাশাকার রঙিন ব্যানার। মুহুর্তেই বদলে যায় নগরীর নির্বাচনী আমেজের দৃশ্যপট। প্রচার উপকরণের রঙিলা টানে পথচারি ও সমর্থকদের দৃষ্টি আকর্ষণ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বিশালাকার ডিজিটাল ব্যানারগুলো নগরীর গুরুত্বপূর্ণ চত্বরগুলোর মধ্যখানে ও দুইপ্রান্তে স্থাপনের কারনে রাতের আলোয় সেগুলোর রঙিলা ইমেজ প্রাণবন্ত করে তুলেছে নির্ভাচনী আমেজকে।
‘নির্বাচনে পোস্টার ও রঙিন ব্যানারের ব্যবহার নিষেধ থাকার পরেও হঠাৎ করে এতো বড় বড় কালার ব্যানার নগরীর বিভিন্নস্থানে বসাতে দেখে বিভ্রান্তি ছড়াই জনমনে। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫’ এ বলা হয়েছে, ‘রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিকের (পিভিসি) মতো অপচনশীল দ্রব্য যাহা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর; এরূপ কোন উপাদান দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার কোন সামগ্রী তৈরি করা যাবেনা। এছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় ব্যবহৃতব্য ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হতে হবে; রঙ্গিন বা কালার ব্যানার বা অন্য কোন নির্বাচনী সামগ্রী ব্যবহার করা যাবেনা। নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত সকল প্রকার সামগ্রী হতে হবে সাদা-কালো। প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ৩ মিটারের বেশি হবেনা।’ কিন্তু অন্য একটি জায়গায় এটাও বলা হয়েছে যে, বিলবোর্ড ও ডিজিটাল ব্যানার কালার বা রঙিন আকারে তৈরিপূর্বক সেটি প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা যাবে। নগরীর বিভিন্নস্থানে যেসকল বিশালাকার রঙিন ব্যানার বসানো হয়েছে সেগুলো ডিজিটাল ব্যানারের আওতায় পরে বিধায় সেগুলো বৈধ। পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানারের বিকল্পই হচ্ছে এই কাপড়ের ব্যানার। সাধারণ অর্থে এটিকে ডিজিটাল ব্যানার বলা হয়ে থাকে। এটি শতভাগ বিষমুক্ত, পচনশীল ও পরিবেশ বান্ধব।
ডিজিটাল ব্যানারের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ইন্টারনেট বা বৈদ্যুতিক স্ক্রিনে প্রদর্শিত এক ধরণের গ্রাফিক্যাল বিজ্ঞাপন, যা স্থির ছবি (ঝঃধঃরপ), অ্যানিমেটেড গ্রাফিক্স বা ভিডিওর মাধ্যমে কোনো ব্র্যান্ড, পণ্য বা সেবার প্রচার করে। এমনটাই ধারণা ছিল সাধারণদের। পূর্ববর্তী সময়গুলোতে নির্বাচনকালীন প্রচরাণায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ব্যানারগুলো তৈরি করা হতো প্লাস্টিক (পিভিসি) জাতীয় ক্ষতিকর উপাদান দিয়ে; যেগুলো ছিল পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু বর্তমানে কাপড়ের উপর নতুন পন্থায় ডিজিটাল প্রিন্টের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল ব্যানারগুলো। যেগুলো নগরীর বিভিন্নস্থানে প্রদর্শীত হচ্ছে ভোটারদের সমর্থনপ্রাপ্তী ও নির্বাচনের জানান দিতে।
তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নবায়নযোগ্য শক্তি বিশেষজ্ঞ এবং বিকল্প জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা গবেষক দলের সদস্য ও একাধিক উদ্ভাবনের জন্য দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া মাহবুব সুমন ক্ষতিকর পিভিসি ব্যানারের বিকল্প হিসেবে ‘বাংলা ব্যানার’-এর প্রস্তাব করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বেইজ বা ফাউন্ডেশন হিসেবে টুইল ফ্যাব্রিক এবং পাট ব্যবহার করে তার ওপর আলু থেকে তৈরি বায়ো প্লাস্টিক ‘পলকার’ ল্যামিনেশন দিয়ে এই বিকল্প ‘ব্যানার মিডিয়া’ তৈরি করা হচ্ছে। এর নাম ‘বাংলা ব্যানার’। এই ব্যানার মিডিয়াকে প্রচলিত ‘ডিজিটাল ব্যানার প্রিন্টারেই প্রিন্ট করা যায়’। পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানারের বিকল্পই হচ্ছে এই কাপড়ের ব্যানার। সাধারণ অর্থে এটিকে ডিজিটাল ব্যানার বলা হয়ে থাকে। এটি শতভাগ বিষমুক্ত ও পচনশীল। ৯০ দিনে এর ৮০ ভাগ মাটিতে মিশে যায়। তবে শতভাগ মিশে যেতে ৬ থেকে ৭ মাস সময় লাগে। পিভিসি’র মতো ক্ষতিকর উপাদনের পরিবর্তে নতুন পদ্ধতিতে সমজাতীয় প্রিন্ট কাপড়ের উপর দেয়া সম্ভব হয়েছে বলেই কমখরচে ডিজিটাল ব্যানার তৈরির ধুম পড়েছে নগরীজুড়ে বলে মন্তব্য অনেকের। মহানগরীর নির্বাচনী আমেজে রঙিলা প্রচারে বেড়েছ নির্বাচনী আমেজ বলেও মন্তব্য অনেকের।