৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

লালপুরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা, কমেছ কৃষি জমির পরিমাণ

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আঞ্চলিক
লালপুরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা, কমেছ কৃষি জমির পরিমাণ
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার, লালপুর : ব্যাঙের ছাতার মতো যত্র-তত্র ভাবে গড়ে উঠেছে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইটভাটা। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে এই অঞ্চলরে জনসাধারণ। আর কমে যাচ্ছে কৃষি জমির পরিমাণ এবং উজাড় হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতের ফলজ ও বনজ গাছ। পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে ১ টি ভাটা মালিককে ৩ লাখ টাকা জরমিনা ও ভেকু দিয়ে ভাটাটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া চলতি জানুয়ারি মাসে ৮ তারিখে ৭ টি ইটভাটা মালিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত বলে জানা গেছে। তবে এসব ইটভাটা গুলো আবারও শুরু হয়েছে ইটপুড়ানো কার্যক্রম। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আইনি প্রদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা। এছাড়া সরকারি নিয়ম ও আইন না মেনে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটা গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। ফলে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব ইটভাটার কারণে কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ ও উর্বরতা। আর ইট পুড়ানো কাজে বনজ ও ফলজ গাছ কেটে জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন প্রজাতের ফলজ ও বনজ গাছ উজাড় হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে স্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ছোট শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে জনসাধারণ। জানা যায়,উপজেলার পদ্মা নদীর চর ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সড়কের দুই পাশে এবং লোকালয়ে প্রায় ৪৯ টি অবৈধ ইটভাটা আছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ইটভাটায় নামে মাত্র কিছু অভিযান হলেও জোরালো ভাবে ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে অইনাণুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কোন প্রকার প্রদক্ষেপ চোখে পড়েনা। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ও উপজেলা প্রশাসনের অবহেলায় যত্র-তত্র ভাবে এসব ইটভাটা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তুলেন সচেতন মহল।
লালপুর সদরের কৃষক বাদশা নওশেদ নেওয়াজ লিটন বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে রবি শস্য সহ বিভিন্ন ফসলের ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে। আর নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক এক ইটভাটার অংশিদার বলেন, আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরে ছাড়াপত্রর জন্য আবেদন করেছি। এবিষয়ে নাটোরের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ইটভাটা চলার কোন প্রকার সুয়োগ নেই। তিনি আরো বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমাড় হোড় বলেন, সরকারি ভাবে ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা নিষেধ আছে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, অবৈধ ইটভাটা গুলোতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন