বৃহস্পতিবার

১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
তানোরে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে অস্ট্রেলিয়ান-কানাডিয়ান হাই কমিশনার বেগম খালেদ জিয়া তাঁর জীবন দিয়ে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে গেছেন : মিলন পদ্মাচরে মুড়িকাঁটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন মান্দায় অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালি জব্দ, প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি রাজশাহী অঞ্চলে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে কমেছে আলু চাষ তালন্দ কলেজে নিয়োগের আগেই কোটি টাকার লেনদেন গাজা উপত্যকায় মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে ৯৫ হাজার শিশু : জাতিসংঘ রাজশাহীর অধিকাংশ সোলার সিস্টেম ৬ মাসেই অকেজো! রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স’র নির্বাচন স্থগিত তারেক রহমানের আহ্বানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছেন বিদ্রোহী প্রার্থিরা

‘মহীয়সীর মহাপ্রয়াণ’ কর্ণারে ২৮৪ নেতাকর্মীর আবেগঘন স্ট্যাটাস

Paris
Update : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

শাহানুর রহমান রানা : রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে স্মরণীয় করে রাখতে গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারীর ৫ তারিখ পর্যন্ত বেগম জিয়া সম্পর্কে দলের নেতাকর্মীদের বাণী-মন্তব্য ও মনকথনের বহিঃপ্রকাশ লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্য একটি ব্যতীক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। দলের ঘোষনানুযায়ী চলা সাতদিনের শোক দিবসকে চিরস্মণীয় করে রাখতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছিল মহানগর বিএনপি।
সেলক্ষ্যে মহানগর বিএনপি’র কার্যালয়ের প্রবেশদ্বারের ডান পাশে একটি কর্ণার তৈরি করা হয়েছিল। নাম দেয়া হয়েছিল ‘মহীয়সীর মহাপ্রয়ণ..’ সেখানে রাখা ‘শোক বই’ নামের মলাটে মোড়ানো একটি খাতাতে দলটির নেতাকর্মীরা প্রয়াত খালেদা জিয়ার স্মরণে লিখেছেন নিজের মতামত ও বক্তব্য। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ-প্রাপ্তি-অভিজ্ঞতা, দেশ ও মানুষের কল্যানে রেখে যাওয়া গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ছাড়াও দেশের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দেবার মতো আত্মত্যাগের বিষয়বস্তু স্থান পেয়েছে সেই লেখনির মাধ্যমে। যে যার অনুভূতি ও চিন্তা চেতনার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে।
বইয়ের প্রচ্ছদটি শোকবার্তার প্রতীক হিসেবে পুরাটাই করা হয়েছে কালো রংয়ের আচ্ছাদন দিয়ে। নাস দেয়া হয়েছে ‘শোক বই’। বইটির মধ্যখানে বেগম খালেদা জিয়ার ছবি আছে। ঠিক তার নিচে লেখা হয়েছে জন্ম ও মৃত্যু তারিখ। ১৯৪ পৃষ্ঠার বইটিতে নাম-পদবী ও নিজেদের পরিচয় উল্লেখপূর্বক ২৮৪ জন নেতাকর্মী নিজেদের লেখনির মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন দলের প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে নিজেদের ভাবাদর্শ। প্রতিটি পৃষ্ঠার সর্বউপরে লিখা হয়েছে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’। নিজেদের শোক-শ্রদ্ধা ও আবেগ অনুভূতির সংমিশ্রণে দলটির প্রয়াত দেশনেত্রী ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদার জিয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবদান, দেশ ও জাতীর জন্য গণতন্ত্র সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী নিয়ে ২৮৪ জন নেতাকর্মী নিজেদের মনজগতের কথা লিখেছেন।
মহানগর বিএনপি’র একজন সদস্য বেগম জিয়ার মৃত্যুতে নিজের শোক ও গভীর শ্রদ্ধার সাথে তার মৃত্যুকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কষ্টভরা মন নিয়ে লিখেছেন, ‘তাঁর এই মৃত্যুতে আমি তাঁর জন্য একটি কবিতার কিছু অংশ ইতিহাসের স্বাক্ষী স্বরূপ লিখে রাখলাম। ‘গণতন্ত্রের মা’ নামের কবিতাটিতে তিনি লিখেছেন- “গণতন্ত্রের দেখিয়ে পথ, তুমি চলে গেলে; পথ এখন অন্ধকার, দূরে আলো জ্বলে…।’ আরেকজন নিজের বহিঃপ্রকাশে লিখেছেন, ‘নেতৃত্ব হারাল দেশ, আদর্শ রয়ে গেলো ইতিহাসে; শ্রদ্ধায় ও স্মরণে অমর বেগম খালেদা জিয়া’।
মহানগর বিএনপির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শুরুতেই লিখেছেন, ‘এক মহাকাব্যিক যাত্রার গৌরবোজ্জ্বল পরিসমাপ্তি’- ‘বাংলাদেশ যতদিন রবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম রবে। বাংলাদেশ একজন অভিভাবক হারালো; এরকম বিরল নেত্রী এই দেশে আর জন্ম নিবে কিনা তা জানিনা’।
প্রয়াত বেগম জিয়া সম্পর্কে রাজশাহী মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি নিজের অনুভূতি প্রকাশে লিখেছেন, ‘….বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র অবদান চিরস্মরণীয় (একাংশ)।
নেতা-কর্মীদের কেউবা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করকে গিয়ে লিখেছেন, ‘আপনি ছিলেন এই বাংলাদেশের সমস্ত মানুষের জন্য বটবৃক্ষ; আপনি এই দেশ ও দেশের মানুষকে সন্তানের মতো আগলে রেখেছিলেন; কিন্তু আমার আপনার জন্য কিছুই করতে পারিনি। আপনি আমাদেরকে চির ঋণি করে চিরবিদায় নিলেন’। রিগেন নামের একজন নিজের মনচিন্তা থেকে লিখেছেন, ‘লাল সবুজ জানে- তুমি শুধু নাম নও, তুমি একটি চেতনা-একটি বাংলাদেশ’। ৮ নং ওয়ার্ডের একটি পদের দায়িত্বে থাকা একজন লিখেছেন, ‘বেগম জিয়ার রাজনৈতিক জীবন কেবল ক্ষমতার গল্প নয়; এটি আত্মত্যাগ, ধৈর্য্য, সাহস এবং ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার এক অনুপ্রেরণা’। মহানগর বিএনপির এমন ব্যতীক্রমী উদ্যোগকে দলটির প্রতি নেতাকর্মীদের ভালবাসা ও দায়িত্ববোধের জায়গাটিকে আরো বেশি সমুন্নত করলো বলে মন্তব্য সচেতন ব্যক্তিদের। তাদের ভাষ্যমতে, দলের সিনিয়র ও হর্তাকর্তাদের প্রতি তৃণমূলের এই ধরণের আবেগঘণ স্ট্যাটাসই প্রমাণ করে দলটির ভারত্ব। খালেদা জিয়ার প্রতি দলের নেতাকর্মীদের প্রকৃত ভালবাসা আর আবেগ আর সম্মানের জায়গাটি কতোটা সমুন্নত আর উচ্চ পর্যায়ে আছে সেটি তাদের এই উদ্যোগ ও লেখনির মাধ্যমেই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris