আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মক (অনুশীলনী) ভোটিং কার্যক্রম আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মক ভোট গ্রহণ করা হয়। এতে মোট ৭০.৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন মক ভোটিং কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, এই মক ভোটিংয়ে ৫০০ ভোটারের মধ্যে ৩৫২ জন ভোট দিয়েছেন। জাহাঙ্গীর আলম জানান, চারটি ভোট কক্ষে মক ভোটিং নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রতিটি ভোট দিতে কত সময় লেগেছে তা নির্ধারণ করা যাবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার মহোদয় একটি বুথে নানা ধরনের ভোটারদের নিয়ে টাইম পর্যালোচনা করেছেন। এটা নিয়ে একটা প্রতিবেদন আসবে। এর ভিত্তিতে সামগ্রিক বিষয়গুলো নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। এদিকে সকালে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও একই দিনে আয়োজন করতে হবে। এজন্য সময় ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাধারণ ভোট এবং অতিরিক্ত গণভোট মিলিয়ে ভোটার প্রতি সময় কত লাগবে-মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে সেটাই যাচাই করা হচ্ছে। ৪২ হাজার ৫০০টির বেশি পোলিং স্টেশন যথেষ্ট কি না বা অতিরিক্ত বুথ ও স্টেশন প্রয়োজন হবে কি না তা আজকের রিয়েল-টাইম মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে। নতুন বুথ মানে অতিরিক্ত লোকবল, সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনা-এসবই বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে নির্ধারণ করা হবে। ভোটারদের দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, এটিও মূল্যায়নের অংশ। কোথায় ঘাটতি আছে, কোথায় পরিকল্পনায় ভুল ছিল-সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধন করা হবে। মানুষের কষ্ট বাড়ানো নয়, বরং সময় কমিয়ে সুবিধা নিশ্চিত করাই কমিশনের লক্ষ্য। খরচ কমানোই প্রধান উদ্দেশ্য নয়; প্রয়োজনে বুথ বাড়িয়ে সময় কমানো হবে। গণভোট নিয়ে ভোটারতা বিভ্রান্তিতে রয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও গণভোট নিয়ে প্রচারণা শুরু হয়নি। ইলেকশন কমিশন ও সরকার যৌথভাবে শিগগিরই ব্যাপক প্রচার চালাবে। গণভোট আইনি অনুমোদন পাওয়ার পরই কমিশন এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। এ সময় গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রচারে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সিইসি বলেন, সামগ্রিক অবস্থা আগের তুলনায় অনেক উন্নত। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কমিশন ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে এবং তারা প্রস্তুত রয়েছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে, তবে সামগ্রিক পোলিং পরিবেশ নিরাপদ রাখার বিষয়ে কমিশন আশাবাদী। ভোট কেন্দ্র কমিয়ে খরচ বাঁচালে ভোটারের কষ্ট বাড়বে জানালে তিনি জানান, খরচ নয়, সময় ব্যবস্থাপনাই বড় বিষয়। প্রয়োজনে বুথ বাড়ানো হবে, ভোটারকে কষ্ট দেওয়া নয়, বরং সুষ্ঠু ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভোটই তাদের লক্ষ্য। তফসিল নিয়ে সিইসি বলেন, তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোট জাতিকে উপহার দিতে পারবে কমিশন। মক ভোটিং আয়োজনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, শুধুমাত্র ভোটের অনুশীলন নয়-পোলিং সেন্টারের সামগ্রিক পরিবেশ, ভোটারদের কিউ, পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসারদের অবস্থান, সাংবাদিকদের ভূমিকা-সবকিছু বাস্তবে কেমন হবে তা যাচাই করাই এ অনুশীলনের মূল লক্ষ্য।-এফএনএস