স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর সুগার মিলস লিমিটেড’র আয়োজনে রাচিক কেইন কেরিয়ার প্রাঙ্গনে ২০২৫-২৬ আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজশাহী সুগার মিলের কেইন কেরিয়ারে আখ ফেলে মাড়াই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: ওবায়দুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আকতার, রাজশাহী পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ মুজিবর রহমান। রাজশাহী সুগার মিলস লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: হুমায়ুন কবীর এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রশিদুল হাসান। উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পবা-মোহনপুর আসনের জামায়াতের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, রাজশাহী সুগার মিলস ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদ রানা সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রাজশাহী সুগার মিলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
নিমপাড়া সাব জোনের আখ চাষী বলেন, ‘সুগার মিল ভারি শিল্প আমাদের গর্বের বিষয়। এই মিল আগের মতো চলতে পারে সেজন্য আখের দাম বৃদ্ধি করে কৃষকদের সহযোগিতা করতে হবে। আখের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আখ চাষে সঠিক সময়ে দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল্প গ্রহন করতে হবে। তাহলে এই প্রতিষ্ঠান লাভজনক হবে। এর পাশাপাশি এখানে জুস ফ্যাক্টরীসহ আরো অনেক কিছু করার আহ্বান জানান তিনি।’
রাজশাহী সুগার মিলস ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, ‘রাজশাহী সুগার মিল বিগত দিনের চেয়ে চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বর্তমানে আখচাষী বৃদ্ধি পেয়েছে। চাষীদের পেমেন্ট যদি নগদ করা যায় তাহলে আখ চাষ আরোও বেশি হবে এবং চিনি উৎপাদনও বেশি হবে এবং লাভজনক হবে।’ পবা মোহনপুর আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এক সময় এখানে প্রচুর আখ চাষ হতো। আগে আমরা আখ চাষ করেছি, সুযোগ সুবিধা না থাকায় তা ধীরে ধীরে কমে যায়। আখ উৎপাদন এখানে যারা কাজ করে, আবার যেসকল কৃষক আখ চাষ করে তাদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। আখ চাষীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিতে হবে। সরকারকে এদিকে নজর দিয়ে আখ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। আখ উৎপাদন বাড়লে তখন চিনি বেশি উৎপাদন হবে। লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাষীদের ভর্তুকি দেওয়া হলে আখ চাষ বেশি হবে। তখন চিনি উৎপাদন বেশি হবে লাভজনক হবে।’ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘রাজশাহী সুগার মিলস অন্যতম একটি মিল। চাষীরাই আমাদের শক্তি। সুগার মিল বাঁচলে কৃষক, শ্রমিকরা বাঁচবে। চাষীরা ঠিকমত আখ সরবরাহ করলে মিলটি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। মিলের আধুনিকায়নে সরকার কাজ করছে। কৃষকদের দাবীর প্রেক্ষিতে সরকার আখের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। আখ দেওয়ার সাথে সাথে মোবাইলে মেসেজ এবং পেমেন্ট সহ অন্যান্য সহযোগিতা অব্যাহত আছে। সুগার মিলটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।’ উল্লেখ্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৫০০ একর জমিতে, এর মধ্যে আখ চাষ হয়েছে ৫৪১৬ একর জমিতে। আর প্রতি ১০০ কেজি আখ মাড়াই করে ৫.৫ কেজি চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬০০০ একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।