মঙ্গলবার

১৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

১লা পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
সংসদ ভোট-গণভোটে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ সরকারের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান-ইসরায়েল আমি কাঁদলেও লোকে হাসে : সামলান খান নির্বাচননে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিরাপত্তা প্রটোকল দেবে সরকার ‘গবেষণা ও তথ্যের জন্য রুয়েট হয়ে উঠবে বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু’ রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে নতুন ২৪ সদস্য অন্তর্ভুক্ত, আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষা সমাপনী, বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাংলাদেশ সাংবাদিক সংস্থার নির্বাচনী তফশীল ঘোষণা হাদী ও এরশাদের উপর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আইনের আওতায় আনতে হবে : মিনু তারেক রহমানের মন্তব্য, যেকোনো মূল্যে দেশে নির্বাচন হতে হবে

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম অস্থিরতা!

Paris
Update : রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রধান শিক্ষক একরামুল হকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম ও নারী সহকর্মীর প্রতি অশালীন আচরণের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। রোববার (০২ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে নগরীর হেতেমখাঁ এলাকায় বিদ্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে স্কুলে অবরুদ্ধ করে তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। অপরদিকে মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরামুল হককে সংবাদ সম্মেলন ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে বিতাড়িত করা অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ ও কমলমতি শিক্ষার্থীদের বাদ-প্রতিবাদে চরম অস্থির পরিবেশ বিরাজ করছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তারা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে প্রধান শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত আনা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থায়ী বহিষ্কার ও আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা। স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সহকারী শিক্ষক তরিকুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক একরামুল হক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের অর্থ লেনদেনে অনিয়ম, কোচিং বাণিজ্যে প্রতারণা ও শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরামুল হক সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি চক্র ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল ও বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।” তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের সকল আর্থিক লেনদেন নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং প্রতিটি টাকার হিসাব বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবেই রাখা আছে। কোনো অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মের প্রশ্নই আসে না। অডিট কমিটি বা ম্যানেজিং কমিটির কেউ এমন কোনো প্রমাণ পায়নি।”
এদিকে অপর সূত্র জানায়, রাজশাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরামুল হককে সংবাদ সম্মেলন ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে বিতাড়িত করা অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শিশুতুল্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের জন্য প্রধান শিক্ষককে বলপ্রয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে আগত গণমাধ্যমকর্মীদের ছুড়ে দেয়া প্রশ্নের কারণে আয়োজকরা সাংবাদিকদের উপরও ক্ষিপ্ত হয়ে তেড়ে আসেন। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, প্রধান শিক্ষকের অপসারণ কেনো চাচ্ছেন; বিষয়টির সমাধানকল্পে বিদ্যালয় কমিটি কর্তৃত আইনি প্রক্রিয়ায় কেনো অগ্রসর হচ্ছেন না কেনো’। আরো একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘ক্লাসরুম দখল করে শিক্ষাসেবা ব্যাহত করে কেনো আপনারা বিদ্যালয়ের ভেতরেই সংবাদ সম্মেলন করছেন’। অন্য আরেকজন সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, ২০২২ সালে বিদ্যালয়ের ভেতরে কোচিং সংক্রান্ত বিযষয়াবলী নিয়ে তিনবছর পর কেনো অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বিভ্রান্ত হয়ে আয়োজকরা গড়িমসি শুরু করেন। সাংবাদিকরা কেনো এতো প্রশ্ন করছেন সেটি নিয়েও তারা পাল্টা অভিযোগ তোলার সাথে সাথে ক্ষিপ্ত হয়ে অসদাচরণ করে তেড়ে আসেন সাংবাদিককে মারার জন্য! উল্লেখ যে, বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ হাবিবুর রহমান। প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবি সম্পর্কে দাপ্তরিকভাবে তিনি অবগত নন বলে জানান সভাপতি হাবিবুর রহমান। বিদ্যালয় ভবনের ক্লাসরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্পর্কেও তিনি অবগত নন। শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের দিয়ে মবক্রেসির মাধ্যমে শিক্ষকের পদত্যাগের নিমিত্তে সংবাদ সম্মেলন ও জোরপূর্বক অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরের বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, এই ধরনের কর্মকান্ড আইনসম্মত নয়। এটা করা ঠিক হয়নি। সন্ধ্যায় (০২ নভেম্বর) প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে ডেকে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উভয়ের সাথেই আমি কথা বলবো। উল্লেখ্য, একরামুল হক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris