শাহরুখ হোসেন আহাদ, রাণীনগর : নওগাঁর রাণীনগরের একমাত্র শিশুপার্ক উপজেলা চত্বরে তার অবস্থান। শিশু-কিশোরদের আনন্দ-বিনোদনের জন্য উপজেলা পরিষদ প্রবর্তনের সময় এই পার্কটি নির্মাণ করা হয়। গত প্রায় ২ বছর আগে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিশেষ বরাদ্দ থেকে সংস্কার, সৌন্দর্য বর্ধন ও কিছু দোলনা এবং রাইড স্থাপন করা হয়। কিন্তু কিছু দিন পর তা অকেজো হয়ে পরায় বিনোদন উপভোগ করতে আসা শিশু-কিশোর এমনকি অভিভাবকরা ঝুঁকি নিয়ে দোলনায় দোল খেতে দেখা যায়। যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় রকমের দূর্ঘটনা। বেশ কিছুদিন ধরে অযত্ন আর অবহেলার কারণে পার্কটি তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। ইতি মধ্যে সব কয়টি রাইড ও অন্যান্য সামগ্রী নষ্ট হয়ে মাটিতে পরে আছে। পুরো পার্কে ছড়িয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। ৩জন শিশু পার্কে দোলনা, ¯ি¬পারে খেলাধুলা করছিল। চারপাশে হাঁটার পথসহ আগাছায় ছেয়ে আছে পুরো পার্ক।
জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ প্রবর্তনের সাথে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের মত ৮৬ সালে রাণীনগর উপজেলা সদরে বালুভরা মৌজায় ১১.৬৮ একর জমির উপর প্রশাসনিক দপ্তর, আবাসিক ভবন, মসজিদ ও শিশুদের চিত্রবিনোদনের জন্য পার্ক সহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। সময়ের বিবর্তনে ভবনগুলো কয়েক দফা সংস্কার মেরামত ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হলেও শিশু পার্কটির উপরে উপজেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের তিন দশক ধরে কোন সু-নজর না পড়ায় প্রকল্প আসে প্রকল্প যায় এনিয়ে যেন কারও মাথা ব্যথা নেই। দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলা অযন্তে পড়ে থাকায় শিশুদের চিত্রবিনোদনের একমাত্র পার্কটি দিনদিন তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। ফলে উম্মুক্ত বিনোদন থেকে এখানকার শিশুরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত রয়েছে। ইতিমধ্যেই শিশুদের যতটুকু খেলনা সামগ্রী পার্কে ছিল তার মধ্যে থেকে আবার রাতের অন্ধকারে স্লিপার সহ বেশকিছু খেলার সামগ্রী চুরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পার্কের চারিদিকে উচ্চ বাউন্ডারি ওয়াল ও ভালো গেট না থাকায় সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে মাঝে মধ্যেই এখানে মাদক সেবীদের আনা-গুনাসহ পথচারিদের প্রসাব-পায়খানা করতে দেখা যায়। এ যেন দেখার কেউ নেই। অথচ পার্কের পাশে অবস্থিত অফিসার্স ক্লাবটি সব সময় ঝকঝকে তকতকে থাকলেও পার্কটি সৌন্দর্য বর্ধণে উপজেলা প্রশাসনের কোন নজরদ্বারি নেই। পার্কটি যেন দিনদিন সুষ্ঠ নজরদারীর অভাবে অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে। খোলা-মেলা, খেলার জায়গা শিশুরা না পাওয়ায় বিশেষ করে কাম্পাসে অবস্থানরত প্রায় ১৪টি পরিবার সহ আশ-পাশের ছেলে-মেয়েরা ঘরে বসেই গেম খেলার জন্য কম্পিউটার মুখী হয়ে পড়ছে। অনেক অফিসার কিছুটা বাধ্য হয়েই পড়া-লেখা, খেলা-ধূলার মানসম্পূর্ণ পরিবেশের জন্য জেলা সদর নওগাঁতে বাসা ভাড়া নিয়ে আছে। রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, শিশু কিশোরদের বিনোদনের জন্য পার্কটি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে কয়েকটি রাইড নষ্ট হয়ে গেছে। খুব শিঘ্রই উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল থেকে এগুলো পরিবর্তন কিম্বা মেরামত করে সৌন্দর্য্যবর্ধনসহ শিশু কিশোরমুখী বিনোদন পার্ক গড়ে তোলা হবে।