যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা গর্ভপাতের জন্য ব্যবহৃত মিফেপ্রিস্টোন ওষুধের আরেকটি জেনেরিক সংস্করণ অনুমোদন দিয়েছে। এটি তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হলেও গর্ভপাতবিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। একাধিক রক্ষণশীল নেতা ও গর্ভপাতবিরোধী সংগঠন এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। ‘স্টুডেন্টস ফর লাইফ অ্যাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এটিকে ‘ট্রাম্প প্রশাসনের কলঙ্ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এভিটা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এই সপ্তাহে তাদের জেনেরিক ট্যাবলেট অনুমোদন দিয়েছে। এটি গর্ভধারণের ৭০ দিন পর্যন্ত গর্ভপাতের জন্য ব্যবহৃত হতে পারবে। বর্তমানে ওষুধটি যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ গর্ভপাতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। প্রাথমিক গর্ভপাত প্রক্রিয়াতেও সাধারণত এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এফডিএ মূলত ২০০০ সালে মিফেপ্রিস্টোন ওষুধের প্রথম অনুমোদন দেয়। ইতোমধ্যে আরও একটি জেনেরিক বাজারে রয়েছে। ওষুধের অতিরিক্ত জেনেরিক অনুমোদন দেশটিতে নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে ‘সুসান বি. অ্যান্থনি প্রো-লাইফ আমেরিকা’ এর সভাপতি মারজোরি ড্যানেনফেলসার গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই অনুমোদনকে ‘অবিবেচক’ ওং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাউলি এক্স-এ দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, তিনি এফডিএ নেতৃত্বে ‘আস্থা হারিয়েছেন’। অন্যদিকে, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স লিখেছেন, এটি ‘প্রো-লাইফ’ আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, কারন তারা ট্রাম্পকে নির্বাচিত করেছে। পেন্স ট্রাম্পের বিতর্কিত স্বাস্থ্য প্রধান রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রকে বরখাস্ত করারও আহ্বান জানান। সম্প্রতি কেনেডি এবং এফডিএ কমিশনার মার্টি ম্যাকারি ২২ রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলকে চিঠি পাঠান। এতে জানানো হয় যে এফডিএ মিফেপ্রিস্টোনের নিরাপত্তা পুনঃপর্যালোচনা করছে। এদিকে, গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে কাজ সংস্থাগুলো এটিকে স্বাস্থ্যসেবায় বাধা দেওয়ার প্রকাশ্য চেষ্টা হিসেবে দেখেছে। তাই ডেমোক্র্যাট-নেতৃত্বাধীন একাধিক রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ওষুধের প্রাপ্যতা রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এই ওষুধকে ‘অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর’ বলে সুপারিশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মিফেপ্রিস্টোনের ব্যবহার সীমিত করা হলে ‘জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে’।-এফএনএস