রবিবার

৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি তানোরে যেভাবে প্রাণ গেলো ৭টি গরুর তানোরে খাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

রাজশাহীতে কুরবানীর সংগৃহীত মাংসর দাম ও মান নিয়ে ক্রেতারা নাখোশ

Paris
Update : রবিবার, ৮ জুন, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : প্রতি ঈদের মতো এবারও রাজশাহী নগরীর একাধিক পয়েন্টে সন্ধ্যের পর জমে উঠেছিল সংগৃহীত মাংস বিকিকিনির আসর। নিম্ন আয়ের মানুষ শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ি ও মসজিদের ঘুরে ঘুরে মাংস সংগ্রহ করে সন্ধ্যার আগে সেগুলো ওজন করে বিক্রি করেন ঐসকল মৌসুমি মাংস ব্যবসায়ীদের কাছে। অস্থায়ী এই মাংসের বাজার থেকে এসব মাংস আবার কিনে নেন নিম্ন আয়সহ কোরবানি না দেওয়া মানুষেরা। স্থান ও সময় ভেঁদে ৬৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয় গরুর মাংস। আর খাসির মাংস বিক্রি হয় ৮০০-৮৫০ টাকা দরে। নগরের দড়িখড়বনা, রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, ভদ্রা, লক্ষ্মীপুর, হড়গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিকেল থেকে অনেকরাত পর্যন্ত চলে সংগৃহীত মাংসের বিকিকিনি।
অন্যান্যবারের মতো এবারো সেই মৌসুমী ব্যবসার ব্যতীক্রম ঘটেনি। গত শনিবার (৭ জুন) ঈদেরদিন সন্ধ্যাতেও নগরীতে বসেছিল মাংস বিক্রির আসর। কেউ বিক্রি করছেন ভ্যানে করে, কেউবা রাস্তের উপর পাটি বিছিয়ে বসিয়েছেন মাংসের পসরা। ডিজিটাল স্কেল ও এনালগ দাড়িপাল্লায় মাফ করে বিক্রি হয় গরু ও খাঁসির মাংস। রাজশাহী নগরীর নিম্ন আয়ের ক্রেতারা ছাড়াও শহরের বিভিন্ন উপকন্ঠ থেকেও মাংস কিনতে আসেন অনেকেই।
মাংস সংগ্রহ করা ব্যক্তিরা জানান, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা কোরবানির নিজ পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ মাংস রেখে উদ্বৃত্ত মাংসগুলো বিকেল ও সন্ধ্যার সময় নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বসে থাকা মৌসুমী মাংস বিক্রেতাদের কাছে কেজি দরে বিক্রি করেন। মাংসের মান ও স্থান ভেঁদে সেগুলো বিক্রি করেন ৪০০-৪৫০ (গরু) টাকা দরে। ঐ মাংসই আবার ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন ৬০০-৬৫০ টাকা দরে। বাড়িতে মাংস সংগ্রহ করে রাখার কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে মাংসগুলো বিক্রি করে দেন অনেকেই। নির্দিষ্ট এই পবিত্র দিনটিকে ঘিরে এক শ্রেণির মানুষ ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস সংগ্রহ করে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করেন; এমন বাস্তবতাও নেতাই কম নয় বলেও জানান নিম্নআয়ের ব্যক্তিরা সহ কোরবানি দিতে অক্ষম ব্যক্তিরা। নিম্ন মধ্যবিত্তদের অনেকের জন্যই এই সকল সেলস্ পয়েন্ট থেকে মাংস কেনাটা বেশ বিব্রতকর হলেও বাধ্য হয়েই কিনছেন তারা। অধিকাংশ ক্রেতা মাংসের দাম সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, মাংসের মান অনুযায়ী দামটা বেশ চড়া। খোলা বাজারে ঈদের আগেরদিন গরুর মাংসের দাম ছিল ৭৫০ টাকা। কিন্তু এখানে কেজি প্রতি একশ থেকে ১২০ টাকা কমে বিক্রি হলেও মাংসের মানে রয়েছে নিম্নতা। একাধিক গরুর মিশ্রমাংসসহ দিন শেষে আবহাওয়ার কারণে মাংসগুলোর সতেজতা হ্রাস পায়। এছাড়াও মাংসের সাথে হাড্ডি আর চোরবির ছড়াছড়ি। তাই, মাংসের মান ও অর্থের বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবসায়ীদের উচিত গড়ে পাঁচশ টাকায় বিক্রি করা। এবিষয়ে কোন কোন বিক্রেতা বলেন, আমরা গরুর মাংস কিনি ৫০০-৫৫০ টাকা দরে। কেজিতে সর্বোচ্চ একশ টাকা লাভ হয়। কোন কোন ক্রেতাকে প্রতি কেজি মাংসে ৫০/১০০ গ্রাম পর্যন্ত বেশিও দিতে হয়। তার উপর আছে, বিক্রি না হওয়া মাংসের ঝক্কিঝাঁমেলা।
কোরবানির মাংস বিক্রির বৈধতা আছে কিনা জানতে চাইলে, নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের মহলদারপাড়া জামে মসজিদের ঈমাম মোঃ আনোয়ার হোসেন দৈনিক আমাদের রাজশাহী পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পশু জবাই করাকে কোরবানি বলে। আর কোরবানি করা অত্যন্ত তাৎপর্যমন্ডিত ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। একটি হাদিসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আলী ইবনে আবী তালিব (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.) আমাকে তার (কোরবানির উটের) আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করতে বলেছিলেন। তিনি কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া ও আচ্ছাদনের কাপড় সদকা করতে আদেশ করেন এবং এর কোনো অংশ কসাইকে দিতে নিষেধ করেন। তিনি বলেছেন, আমরা তাকে (তার পারিশ্রমিক) নিজের পক্ষ থেকে দেব।’ তিনি আরো বলেন, কোরবানির মৌসুমে অনেক মহাজন কোরবানির হাড় ক্রয় করে থাকে। টোকাইরা বাড়ি বাড়ি থেকে হাড় সংগ্রহ করে তাদের কাছে বিক্রি করে। এদের ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কোনো কোরবানিদাতার জন্য নিজ কোরবানির কোনো কিছু এমনকি হাড়ও বিক্রি করা জায়েজ হবে না। করলে মূল্য সদকা করে দিতে হবে।
জায়েদা বেগম নামের এক নারী জানান, নিজ গ্রাম পুঠিয়া উপজেলা থেকে ঈদের সকালে রাজশাহী শহরে এসেছি। দুপুর থেকে বিকলে পাঁচটা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন মহল্লার বাড়ি ঘুরে ঘুরে মাংস সংগ্রহ করেছি। কতগুলো বাড়ি থেকে মাংস পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ত্রিশ-চল্লিশটা বাড়িতো হবেই। গরুর মাংসই বেশি পেয়েছি। ছাগলের মাংস হবে কেজিখানেক। গরুর মাংস কতখানি হবে জানতে চাইলে হাতে থাকা দুটো ব্যাগের মুখ খুলে দেখিয়ে বলেন, এযে এইসব প্ইাছি। দেখে মনে হলো মাংসের পরিমাণ যাবে সর্বোচ্চ চার কেজির মতো। বিক্রি করতে এসেছেন এখানে? উত্তরে বলেন, এগুলো বিক্রি করে বাড়ি ফিরে যাবো। বাড়ির জন্য কোন মাংস নিয়ে যাবেন না বলা মাত্রই হাতে থাকা ব্যাগের ভেতরে থাকা পলিথিন মোড়ানো ছোট্ট একটি ব্যাগ দেখিয়ে বলেন, এখানে ছাাগলের মাংস আর একটু গরুর মাংস আছে। দূর্ঘটনায় অক্ষম স্বামী আর ছোট দুই সন্তান আছে বাসায়। তাদের জন্য এগুলো নিয়েছি। কোরবানি দেওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারেন না তারা। তাই পাড়ার এক নারীর পরামর্শে শহরে এসে মাংস সংগ্রহপূর্বক বিক্রি করে হাতে কিছু নগদ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চান। ইয়াসমিন নামের এক মহিলা বলেন, তাঁরা অস্বচ্ছল। অসুস্থ স্বামী আর দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার। সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছেন বছরচারেক আগে। গত কয়েখ বছর তিনি মাংস সংগ্রহ করে কিছুটা বিক্রি করেন আর বাকিটা নিয়ে যান বাসায়।
মাংস কিনতে আসা নগরের দড়িখড়বনা ও কাদিরগঞ্জ এলাকার দুইজন ব্যক্তি বলেন, এবার কোরবানি দিতে পারিনি। আগামী দুই থেকে তিন দিন শহরের অধিকাংশ স্থানেই গরু জবাই হবে না। কিন্তু ঈদের সময় কিছুটা হলেও পরিবারের জন্য মাংস তো দরকার। কিছুটা কমমূল্যে বিক্রি হচ্ছে বিধায় এখানে আসা। কিন্তু দামটা অনেক বেশি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris