শনিবার

২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

অপরিপক্ক ফলে ঠকছেন রাজশাহীর ক্রেতারা

Paris
Update : রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাজারে কমছেনা লেবু, তরমুজ আর কলার দাম। যতদিন যাচ্ছে এগুলোর দাম যেনো উর্দ্ধমূখীতার দিকেই হচ্ছে ধাবিত। রোজা শুরু হবার কয়েকদিন আগে থেকেই হঠাৎ করে বাড়তে শুরু দাম। রোজা প্রায় শেষেরদিকে পৌছালেও দাম কমছেনা ইফতারের এই জরুরী উপকরণগুলোর। নগরীর অধিকাংশ বাজারেই এগুলোর দাম বেশ চড়া। কোন কোন স্থানে অপরিপক্ক তরমুজে ছেয়ে গেছে বাজার। কোথাওবা বিক্রি হচ্ছে রসহীন কচি লেবু। এমন মানহীন আর অপরিপক্ক লেবু-তরমুজ কিনে ক্রেতাদের লোকসান হলেও দুহাতে মুনাফা লুটে নিচ্ছে খুচরা বিক্রেতারা বলে মন্তব্য ক্রেতাদের।
রোজার প্রথমদিকে লেবুর হালি সর্বোচ্চ ৩০-৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও, দিন যত যাচ্ছে লেবুর দামেও যোগ হচ্ছে অতিরিক্ত মূল্য। নগরীর কাচাবাজারগুলো ঘুরে দেখাগেছে, মানভেদে সর্বনিম্ন ৪০ থেকে ৭০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে লেবু। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখন রাজশাহীর কোন লেবু নাই। এগুলো আসছে টাঙ্গাইল জেলা থেকে। আগের চেয়ে আমদানি কমেগেছে তাই দাস কিছুটা চড়া। বিক্রেতাদের এমন কথার বিপরীতে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে লেবুর যোগান নেহাতই কম নয়। নগরীর বাজারগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে রসালো ও ভালমানের লেবু হালিতে বিক্রি হয় আট থেকে দশ টাকায়। অথচ, রোজা এলেই রসহীন লেবুর দামও আকাশ ছোয়া পর্যায়ে পৌছায়। রসহীন অপুষ্ট লেবু কিনে ঠকেছেন ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের এমন কারসাজিতে নাজেহাল মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তরা।

অন্যদিকে, নগরীর বাজারে মাসখানেক আগেই উঠেছে তরমুজ। রোজার আগে ও মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও সেই একই তরমুজ এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে, ৪০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। কম দামের তরমুজগুলো সাইজে যেমন ছোট, রস আর নিশ্চয়তাও দিক দিয়েও ক্রেতাদের জন্য সেগুলো বেশ লোকসানমূখী। মুনাফার আশার ইতোমধ্যেই বাজারে নেমেছে অপরিপক্ক আর অমিষ্ট তরমুজ। নিম্নবিত্তদের অনেকেই কিনছেন সেই ছোট সাইজের তরমুজ। স্বাদ আর মিষ্টিহীন তরমুজ কিনে বেকায়দায় পড়ছেন অনেকেই। রোজা জন্য ক্রয়কৃত তরমুজ কেটে স্বাদ গ্রহণ ব্যতীরেকেই যেহেতু কিনতে হচ্ছে, তাই তরমুজের ভেতর লাল রং হলেও মিষ্টতা নেই রসে বলে মন্তব্য অনেকের। তবে, সাত থেকে আট কেজি সাইজের তরমুজগুলো বেশ রসালো আর মিষ্টি। কিন্তু, আট কেজির একটি তরমুজ বর্তশান বাজারমূল্যে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে বেশ কঠিণ একটি বিষয় বলে তারা মাঝারি সাইজের তরমুজ কিনেই মৌসুমী ফলের স্বাদ নিচ্ছেন এই রোজার মধ্যে বলে মন্তব্য ক্রেতাদের।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও কলার দাম খুচরা বাজারে বেশ চড়া। সর্বনিম্ন ৪০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে কলা। আর মান ভেদে খুচরা বাজারগুলোতে কলা বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা হালিতে। উচ্চমূল্যের এই বাজারে একহালি ভালমানের কলা কেনার সামর্থ অনেকেরই নেই। কিন্তু রোজার মাসে ইফতারের অন্যান্য আইটেমের সাথে কমবেশি ফলের আইটেম অনেকেই রাখতে চান ইফতার আয়োজনে। কিন্তু, খুচরা বাজারে কলার যে দাম তাতে করে সপ্তাহের দুইদিনের বেশি কলা কেনার বিষয়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়ে দাড়ায় বলে মন্তব্য অনেক ক্রেতার। সাধারণত এই কলাই রোজার আগে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ বিশ টাকা হালিতে। কিন্তু রোজা শুরু হওয়া মাত্রই একইমানের কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০/৬০ টাকা হালিতে।
নগরীর শালবাগান, নওদাপাড়া, সাগরপাড়া, লক্ষিপুর কাচাবাজার, সাহেব বাজার, তেড়খাদিয়া ও উপশহর বাজার ও শিরোইল কাচাবাজার ঘুড়ে কলা-তরমুজ আর লেবুর বাজারমূল্য প্রায় একইরকম লক্ষ্য করা গেছে। তবে বাজার ও স্থান ভেঁদে যতসামান্য তফাদ থাকলেও সেটি না থাকার মতোই। লেবুর হালি ৪০ এর নিচে নগরীর কোন বাজারেই নেই। তবে কলার হালি স্থান ও বাজার ভেদে কিছুটা তারতম্য থাকলেও ৪০ টাকা হালির নিচে কোন কলা নেই। তরমুজের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা। বাজার ও স্থান ভেদে তরমুজের মূল্যে রয়েছে সামান্য তারতম্য। সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা হেরফের আছে স্থান ভেঁদে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris