স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুর : রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ফেরদৌস বেগম (৫৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ২০ আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, রুজুফা, মামুনুর রশিদ, জায়েদা, জাহানারা,শাহিনুর রহমান, সাইদুর রহমান। তবে জিন্নাত আলী, জেহের, জব্বার, জেসমিন ও আলমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রামেক এ ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দিকে উপজেলার ক্ষিদ্র লক্ষীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফেরদৌসী তিয়ারকুড়ি গ্রামের আবদুল জব্বারের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ক্ষিদ্র লক্ষীপুর গ্রামের বিএনপির কর্মী মামুনুর রশিদ এর সঙ্গে একই গ্রামের দেলুয়াবাড়ির ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রিয়াজুল ইসলাম ওরফে রেন্টু’র সাথে দীর্ঘদিন ধরে এই জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এর জের ধরে শনিবার সাড়ে ১১ টার দিকে মামুন ও আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান রিয়াজুল এর অনুসারীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রিয়াজুল ও মামুনের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান রিয়াজুল এর পক্ষের জব্বারের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম নিহত হন। অপর পক্ষের মামুন, তার ছেলে জাহিদ, তার মা আহত হন। খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফেরদৌসকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রামেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক কাজিমউদ্দিন বলেন, দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ১৩ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আর চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রামেক হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়েছে। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুরুল হুদা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রামকে হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নারী নিহতের ঘটনায় মামুন ও তার ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। উভয়পক্ষে মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।