সর্বশেষ সংবাদ
সাপাহারে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ উদ্বোধন বর্ষায় দেখা নেই বৃষ্টির, হচ্ছে না জমি চাষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সুশাসন দাবিতে রাজশাহীতে ১১ দলের বিক্ষোভ মিছিল আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা আরো শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, সতর্কতা জাতিসংঘ’র জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার শঙ্কা পদ্মা নদী রক্ষায় রাজশাহীতে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে সরকার : এমপি মিলন

সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ

Paris
Update : শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৪

বঙ্গোপসাগর থেকে তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে পিছিয়েই ছিল বাংলাদেশ। এখন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র জমার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আশানুরূপ সাড়া না পাওয়া ও কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। এতে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ আরও পিছিয়ে গেল। দরপত্রে অংশ নেওয়ার সময় তিন মাস বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গত ১০ মার্চ আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করে পেট্রোবাংলা। একইসঙ্গে দরপত্রে অংশ নিতে বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের ৫৫টি কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপ্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। এরইমধ্যে দর প্রস্তাব কিনেছে ছয়টি বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি। দরপত্র জমার সময় ছিল ছয় মাস, সেটি গত ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানির মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সনমবিল ও শেভরন, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস, নরওয়ে ও ফ্রান্সের যৌথ কম্পানি টিজিএস অ্যান্ড স্লামবার্জার, জাপানের ইনপেক্স করপোরেশন ও জোগম্যাক, চীনের সিনুক, ইতালির ইনি এসপিএ, সিঙ্গাপুরের ক্রিস এনার্জি ও ভারতের ওএনজিসি আগ্রহ প্রকাশ করে বিভিন্ন সময় পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অংশে গভীর সমুদ্রে ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রে ১১টিসহ ২৬টি ব্লক রয়েছে। এর মধ্যে ২০১০ সালে গভীর সমুদ্রে দুটি ব্লকে কাজ নেয় কনোকোফিলিপস। দ্বিমাত্রিক জরিপ চালালেও পরে গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি পূরণ না হওয়ায় কাজ ছেড়ে চলে যায় তারা। একইভাবে চুক্তির পর কাজ ছেড়ে চলে যায় অস্ট্রেলিয়ার সান্তোস ও দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো দাইয়ু। এখন একমাত্র কোম্পানি হিসেবে অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে অনুসন্ধান চালাচ্ছে ভারতের কোম্পানি ওএনজিসি। এই দুটি বাদ দিয়ে বাকি ২৪টি ব্লকে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করে তোলার জন্যই আকর্ষণীয় করা হয়েছে প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি)। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবার আগের চেয়ে বেশ কিছু সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। দরপত্রে দেশের স্বার্থের পাশাপাশি বিনিয়োগকারী কোম্পানির স্বার্থও দেখা হয়েছে। আগের পিএসসিগুলোতে গ্যাসের দর স্থির করা দেওয়া হলেও এবার গ্যাসের দর নির্ধারিত করা হয়নি। ব্রেন্ট ক্রুডের আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে ওঠানামা করবে গ্যাসের দর। প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ধরা হয়েছে ব্রেন্ট ক্রুডের ১০ শতাংশ দরের সমান। অর্থাৎ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮০ ডলার হলে গ্যাসের দাম হবে আট ডলার। দামের পাশাপাশি সরকারের শেয়ারের অনুপাতও কমানো হয়েছে। পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দরপত্র জমা দেওয়ার সময় ডিসেম্বরে শেষ হলে আগামী বছরের শুরুতেই আগ্রহী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে পেট্রোবাংলা। এরপর সেগুলো মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হলে তাদের সঙ্গে চুক্তি সই করা হবে। তবে এর আগেও দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবে পেট্রোবাংলা। সব প্রক্রিয়া শেষে গ্যাস উত্তোলন পর্যন্ত প্রায় সাত-আট বছর সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাগরে এবার বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় কোম্পানি সিনুক বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখিয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, জাপান, নরওয়ে, ইতালির বিভিন্ন কোম্পানি বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোম্পানিগুলো কীভাবে সাড়া দেয়- এখন সেটাও দেখার বিষয় বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। একটি পক্ষ রাজনৈতিক অস্থিরতা হিসেবে দেখলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি অনেকেরই আস্থা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের বড় সমর্থন পাচ্ছে তার সরকার। সেই হিসেবে কেউ কেউ আশা করছেন সময় বাড়ানোর কারণে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে সাড়া মিলতে পারে। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, বেশ কিছু কোম্পানি আগ্রহী। তাদের আগ্রহ এবং অনুরোধের কারণেই দরপত্রের সময় বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বেশিকিছু কোম্পানি জয়েন ভেঞ্চারে কাজ করতে আগ্রহী। সেক্ষেত্রে বেশি সময় প্রয়োজন। সব মিলিয়ে সময় বাড়ানো হয়েছে। এতে করে দরপত্র কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।-এফএনএস


আরোও অন্যান্য খবর
Paris