স্টাফ রিপোর্টার : মঙ্গলবার (০১-১০-২০২৪) রাজশাহীস্থ নাবিল গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান নাবা ডেইরী এন্ড ক্যাটল ফার্মকে আদেশমূলক একটি নোটিশ দিয়েছে রাজশাহী সড়ক বিভাগ। রাজশাহীস্থ সড়ক উপ-বিভাগ-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রেজওয়ানা করিম স্বাক্ষরিত ঐ নোটিশে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মাণ করা স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল ও স্থাপনা নির্মাণ সংক্রান্ত গত ২৯-৯-২০২৪ ইং তারিখে “সড়কের জায়গা দখল করে নাবিল গ্রুপের অবৈধ স্থাপনা” শিরোনামে দৈনিক আমাদের রাজশাহী পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের একদিন পরেই সওজ (সড়ক ও জনপথ) কর্তৃপক্ষ সেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নাবিল গ্রুপকে একটি নোটিশ দেয়।
উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রেজওয়ানা করিম স্বাক্ষরীত ঐ নোটিশে বলা হয়েছে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনস্ত রাজশাহী শহর বাইপাস সড়কের ১০ম কিলোমিটারে সরকারি জায়গা আপনার (নাবিল গ্রুপ) প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে দখল ও স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। আপনাদের অবৈধ দখলের জন্য সড়ক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। উপরন্তু বালি দিয়ে রাস্তার জায়গা ভরাটের কারণে পানিপ্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়াও নিরাপদ সড়ক পরিবহন নিশ্চিত করণে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের ২৫ দফার নির্দেশনার ৩, ৪ ও ৫ নং দফার নির্দেশনা অমান্য হচ্ছে বিধায় মহাসড়ক সংলগ্ন সরকারী জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা নিজ খরচে অপসারণ বা সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হলো বলেও উল্লেখ্য করা হয়েছে উক্ত নোটিশে।
উক্ত চিঠিটির অনুলিপি প্রেরিত হয়েছে জেলা প্রশাসক রাজশাহীর দপ্তর, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সওজ) রাজশাহী জোন, রাজশাহী সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দপ্তর, নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সওজ, সড়ক উপ-বিভাগ-২) ও সওজ’র সার্ভেয়ার বরাবর।
উল্লেখ্য যে, রাজশাহীর উপকন্ঠ পবা উপজেলাধীন হরিয়ান মৌজার মাহিন্দ্রা এলাকায় নাবিল গ্রুপের দুটো অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে নাবা ডেইরী এন্ড ক্যাটল ফার্ম নিজেদের ক্রয়কৃত ২১ বিঘা জমিতে ব্যবসায়ীক যাত্রা শুরু করে ২০২০ সালের দিকে। যাত্রার কয়েক বছর পর নিজেদের ক্রয়কৃত সীমানার গন্ডি পেরিয়ে সড়ক ও জনপথের অধিগ্রহণকৃত সরকারি জায়গার একাংশ দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা অভিযোগ উঠে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। এদিকে, সওজ এর সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কের উভয় দিকে নব্বই ফিট করে মোট ১৮০ ফিট জায়গা সরকারি। সে মোতাবেক যদি সরকারি জায়গা দখল করে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করে তবে সেটি হবে অবৈধ। প্রতিবেদন প্রকাশিত হবার পর সড়ক বিভাগের একজন সার্ভেয়ার গত ৩০-৯-২০২৪ ইং তারিখে সরেজমিনে অবৈধ স্থাপনা পরিদর্শন শেষে পরেরদিন ০১-১০-২৪ ইং তারিখে অবৈধ দখলদার কর্তৃপক্ষ বরাবর সেটি অপসারণের জন্য একটি নোটিশ ইস্যু করেন বলে জানায় সার্ভেয়ার মিল্লাত।