চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : ভবন নির্মানের আগে পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদনের প্রয়োজন পড়লেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যেন অপরিকল্পিত শহর তৈরীর প্রতিযোগিতায় মত্ত অনেকেই। আর এ কারনে অনেক সময়ই পাড়া মহল্লায় সৃষ্টি হচ্ছে ঘিঞ্জি গলি, প্রতিবেশীর সাথে একে অন্যের বিরোধ থেকে মামলা পাল্টা মামলার ঘটনা। তবে পৌরসভার উদ্যোগে এ বিষয়ে নিয়মিত সচেতনামূলক কার্যক্রম চালালে ও নিয়মিত তদারকি করলে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। সম্প্রতি গৃহনির্মানের সময় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাাকার নামোশংকরবাটি ভবানীপুর-মোন্নাপাড়া এলাকায়। এনিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করেও সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
ভবানীপুর-মোন্নাপাড়া মহল্লার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে মো. আব্দুল খালেক বিশুর বাড়িসহ ৫ কাঠা জমির পাশে পৌরসভার কোন নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করেই দোতলা বাড়ি নির্মাণ করছেন, মৃত ইউসোফ আলীর ছেলে প্রবাসী রাজু আহমেদ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশী রাজু আহমেদ দ্বিতল ভবন নির্মাণ করছে, অথচ নূন্যতম যে পরিমাণ জায়গা ছাড়ার নিয়ম রয়েছে তা ছাড়া হয়নি। উল্টো রাজু আহমেদের শশুর আসাদুল ইসলাম ও শালক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মামলা হামলার হুমকি দিয়েছে। এবিষয়ে কাউন্সিলর আফজাল হোসেন পিন্টুকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কার্যনির্বাহী আতিকুর রহমান। তিনি জানান, রাজু আহমেদের ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে ১০ বছর আগের পৌরসভার নকশা অনুমোদনের মাধ্যমে। তবে সেই সময়ের নিয়ম অনুযায়ী দেড় ফিট জায়গা ছেড় বাড়ি নির্মাণের কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৯ ইঞ্চি। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) পৌরসভায় উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।
তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে ও শুক্রবার সারাদিন ভবন নির্মাণের কাজ করেছেন শ্রমিকরা। রাজু আহমেদের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন জায়গা না ছাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে। তিনি বলেন, ১০ বছর আগে নিচতলা করার সময় তারা বাঁধা দেয়নি, তাই সেভাবেই নির্মাণ করেছি। মুঠোফোনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ০৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন পিন্টু জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে।