বাগমারা প্রতিনিধি
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীর চার নারী কর্মীসহ পাঁচজনকে পিটিয়ে জখম করেছে নৌকার ক্যাডার বাহিনী। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের সখোপাড়া গ্রামে হামলায় কাঁচি প্রতীকের প্রচারণা কালে হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুই নারী সহ তিনজনকে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও হামিরকুৎসা ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সাফিনুর নাহার, যোগীপাড়া ইউনিয়নের নারী সদস্য ও মহিলা লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ইশরাত জাহান বিউটি, কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী এনামুল হক এমপির ভাতিজি পাপিয়া জাহান, শারমিন আক্তার এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক শাহজাহান আলী। এদের মধ্যে সাফিনুর নাহার, বিউটি ও শাহজাহানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সাফিনুর রহমান গত দুই ইউপি নির্বাচনে হামিরকুৎসা ইউনিয়নে পরাজিত হন।
পুলিশ ও আহতরা জানান, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের কাঁচি প্রতীকের প্রচার চালাতে দুইটি সিএনজি নিয়ে সখোপাড়া গ্রামে যান ছয়জন নারী। তাদের সঙ্গে সেখানে যোগ দেন আরও কয়েকজন নারী। এ সময় তারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের সমর্থক খোরশেদ আলমের সামনে নারীদের মধ্যে কাঁচি প্রতীকের প্রচারপত্র বিলি করছিলেন। এ সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা সাফিনুরের উপর হামলা করে। এ সময় বিউটি ঘটনা ভিডিও করতে গেলে তার উপরও হামলা চালিয়েছে ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা। নারী ও পুরুষ মিলে তাদের পিটিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে সিএনজি চালক তাদের উদ্ধার করতে গেলে তাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
সাফিনুর নাহার বলেন, ‘খোরশেদ আলম গিয়ে আমাদের বলে তোরা নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করছিস কেন? এ এলাকায় নৌকা ছাড়া অন্য কোন প্রতীকের ভোট চাওয়া যাবে না। আমি তার কথার প্রতিবাদ করলে প্রথমে খোরশেদ আলমসহ তার পরিবারের সদস্যরা অতর্কিত হামলা করে। খোরশেদ আলম, তার স্ত্রী, মা, বোন, বাবা এবং মোস্তাক, আব্দুর রাজ্জাক, আলামিন, টুটুল, ফজলু সহ নৌকা প্রতীকের আরও ১৫/২০ জন ক্যাডার লাঠিসোটা দিয়ে তাদেরকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। সেই সাথে দুনিয়া থেকে শেষ করে দে বলে বিউটির উপর হামলা করে।
এ বিষয়ে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের তিনবারের এমপি ও কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, নৌকার প্রার্থীর ক্যাডার বাহিনী প্রতিনিয়ত কাঁচির সমর্থকদের উপর হামলা, মারধর করে যাচ্ছে। কোন সভ্য প্রার্থী নারীদের উপর হামলা করতে পারে না। আর এই হামলা, মারধরের প্রভাব পড়ছে নির্বাচনে। প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতো তাহলে তারা সাহস পেতনা। আমি এ ঘটনার জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ বলেন, এ ঘটনায় এখানো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।