১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

ভোলাহাটে মহিলা আ.লীগের তালিকা করতে গিয়ে হামলা-মারধরের শিকার

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: আঞ্চলিক
ভোলাহাটে মহিলা আ.লীগের তালিকা করতে গিয়ে হামলা-মারধরের শিকার
বিজ্ঞাপন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে জেলা কমিটির নির্দেশে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মহিলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করতে গিয়ে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন এক সাবেক নারী ইউপি সদস্য। ঘটনার এক সপ্তাহ হলেও মামলা নেয়নি ভোলাহাট থানা পুলিশ। গত শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলাহাট উপজেলার আলালপুর দারুস সুন্নাত দাখিল মাদরাসায় এই মারধরের ঘটনা ঘটে।

মারধরের ঘটনায় আহত নারী ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য মোসা. সলেনুর বেগম। মহিলা আওয়ামী লীগের তালিকা করতে গিয়ে তার উপর হামলার অভিযোগ করেন, ভোলাহাট উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসা. সাহাজাদী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, গত প্রায় দুই বছর ধরে মহিলা আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটি নেই ভোলাহাটে। এছাড়াও ইউনিয়ন ও পর্যায়েও নেই কোন কমিটি। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আ.লীগের সহযোগী সংগঠনটির ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রাথমিক তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয় মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী ও সাবেক ইউপি সদস্য সলেনুর বেগমকে। জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাকিনা খাতুন পারুল তাকে এই নির্দেশ দেয়। পরে ভোলাহাট উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে কয়েকজন কর্মী নিয়ে এই কাজ করেন সলেনুর বেগম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী তানজিলা খাতুন, চম্মা খাতুন, মালেকা বেগম জানান, ঘটনার দিন মাদরাসায় যায় আমরা। তখনও সভা শুরু হয়নি। এরমধ্যেই হঠাৎ করে যুব মহিলা লীগের নেত্রী সাহাজাদী বেগম উপস্থিত হয়ে সলেনুর বেগমের সালামের উত্তর না দিয়ে বরং চর-থাপ্পড় ও কিল-ঘুঁষি মারা শুরু করে। আমাদের সকলের সামনে মারতে শুরু করে। আমরা সলেনুর বেগমকে উদ্বার করে হাসপাতালে ভর্তি করি।

মারধরের শিকার সাবেক ইউপি সদস্য সলেনুর বেগম বলেন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাকিনা খাতুন পারুল আপার নির্দেশে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে উঠান বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরি ও প্রাথমিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু করি। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় গিয়ে ৫১ জনের নামের তালিকা তৈরি করি। এই কাজ করার আগে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হালিমা খাতুন, ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেছি।

তিনি আরও বলেন, জামবাড়িয়া, দলদলী ও গোহালবাড়ি ইউনিয়নের কাজ শেষ করেছি। ভোলাহাট সদর ইউনিয়নে কাজ শুরু করেছি কয়েকদিন আগে। গত শনিবার আলালপুর মাদরাসায় উঠান বৈঠক করার সময় সাহাজাদী হঠাৎ করেই এসে মারধর শুরু করে। আমাকে বলছে, তুই এখানে কেন এসেছিস? কে তোকে এসব কাজ করতে বলেছে? এরপর তাকে বসার জন্য চেয়ার এগিয়ে দেয়া মাত্রই চর-থাপ্পড় মারতে থাকে।

কান্নাজড়িত কন্ঠে আহত সলেনুর বেগমের স্বামী ইব্রাহিম খলিল, আমরা স্বামী-স্ত্রী দুইজনই সাবেক ইউপি সদস্য। আমরা আ.লীগের জন্য কাজ করি। জেলা নেতৃবৃন্দের নির্দেশে দলের জন্য এই কাজটি করতে গিয়ে সলেনুর বেগমকে মারধর করেছে। আমি দলের কাছে এর সুবিচার চাই।

ভোলাহাট উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। মাদরাসায় ঢুকেই শাহজাদী সলেনুর বেগমকে তিন-চারটা চর মেরেছে। বাধা দিতে গেলে আমাকেও নানারকম গালিগালাজ করেছে অশ্লীল ভাষায়। যুব মহিলা লীগে থাকা সত্বেও মহিলা আওয়ামী লীগের কাজে বাধা দিচ্ছে। গায়ের জোরে সব দখলে নিতে চাই। এরা দলে থাকলে ক্ষতি হবে। তাই তার বহিস্কার চাই। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক বলেন, কয়েকমাস পরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর আগে তালিকা করে কমিটি গঠনের কাজটি ভালো এবং মূল দলের জন্য সহায়ক সহায়ক। এমন সময়ে এই উদ্যোগ অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আগামী ভোটে এটি কাজে আসবে। ভোটে এর প্রভাব রয়েছে ব্যাপকভাবে। এই কাজ করতে গিয়ে মারধর করা মারাত্মক অপরাধ। আমরা চাই সাহাজাদীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এবিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাজাদী বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা জানান, এবিষয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন