স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে ঝিম ধরে থাকা যুবলীগ অবশেষে চাঙ্গা হতে যাচ্ছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মহানগর যুবলীগের সম্মেলন। দীর্ঘ সাত বছর পর এই সম্মেলনের আয়োজন। নেতৃত্বের একঘেয়েমী কাটিয়ে এবার রাজপথে সরব হতে চান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এতোদিন রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ও বুড়োরা নেতৃত্ব ধরে রাখায় সরকারবিরোধী তৎপরতা রুখে দিতে মাঠে তেমন সাফল্য দেখাতে পারেন নি সংগঠনটি। তবে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসার খবরে বেশ উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা। আগামী দিনে চ্যালেঞ্জের রাজনীতিতে রাজশাহীর রাজপথে জ্বলে উঠতে চান তারা।
রাজশাহী মহানগর যুবলীগের বর্তমান সভাপতি রমজান আলী জানান, সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নির্দেশে সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল স্বাক্ষরিত এক আদেশে সম্মেলনের দিন ধার্য করে মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছি। এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়েছে। এতে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির (রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ^াস মুতিউর রহমান বাদশা ও সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. হেলাল উদ্দিন উপস্থিত থাকার কথা।
জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৫ মার্চ মহানগর যুবলীগের সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে আগের কমিটির সভাপতি রমজান আলী ও সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনকে আবারো একই দায়িত্ব দেয়া হয়। ফলে প্রায় ২০ বছর ধরে তারাই মহানগর যুবলীগের নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে এবার প্রার্থী হচ্ছেন না বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। দলের হাইকমান্ডে তারা জীবনবৃত্তান্ত জমাও দেন নি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজশাহী জেলা ও মহানগর যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ২৮ জন নেতা তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ১০ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৮ জন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এবারের সম্মেলনকে টার্নিংপয়েন্ট হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।
তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের পরই সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে যুবলীগ সবচেয়ে শক্তিশালী। গেল ২০০৯ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের সাথে নানা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজশাহী মহানগরীতে তেমন সাড়া ফেলতে পারে নি যুবলীগ। এনিয়ে অসন্তোষ ছিলো নেতাকর্মীদের মাঝে। এমন কি মূল দল আওয়ামী লীগের মাঝেও হতাশা ছিল। দ্বাদশ নির্বাচনের আগে নতুন করে কমিটি গঠনের উদ্যোগে এখন বেশ উজ্জীবিত সবাই। যুবলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা জানান, এবার তরুণ নেতৃত্ব দেখতে চান তারা। এজন্য উদ্যমী ও জনপ্রিয় নেতাদের শীর্ষ দুটি পদে দেখতে চান। যারা কর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থেকেছেন।
মাঠ পর্যায়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, তারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমিদখল, মাদকসেবী বা কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে নেতৃত্বে দেখতে চান না। এক্ষেত্রে তারা মহানগর যুবলীগে প্রায় দেড় যুগ ধরে টানা নেতৃত্বে থাকা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমাপ্তি ঘটিয়ে নতুন নেতৃত্ব চাইছেন। তাদের প্রত্যাশা কর্মীবান্ধব যুবলীগের স্মার্ট যুবনেতা। তারা মনে করেন রাজশাহীতে দলের অবস্থা ধরে রাখতে যারা সিটি মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে কাজ করছেন তারাই যুবলীগের নতুন কমিটির নেতৃত্বে আসবেন।
সংঠনের একাধিক সূত্র জানান, সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ আল মাসুদ রনি। সিটি মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বিশ^স্ত সহযোগী হিসেবে রনি গেল সাত বছর ধরে শীর্ষ নেতাদের নিষ্ক্রিয়তায় তৃণমূলকে উজ্জীবিত রেখেছেন। অসংখ্য নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করেছেন তিনি। মহানগরীর ৩৭টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডেই যুবলীগকে শক্তিশালী করেছেন। ফলে রনিকে সভাপতি দেখতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেতাকর্মীরা পোস্ট দিচ্ছেন। এর বাইরে সভাপতি হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মুখলেছুর রহমান মিলন ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন।
তৌরিদ আল মাসুদ রনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে সম্মেলন না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। আমি দীর্ঘ সময় মাঠে থেকে যুবলীগের নেতাকর্মীদের পাশে নিয়ে জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খায়রুজ্জামান লিটনের হাতকে শক্তিশালী করতে আমি কাজ করে যাচ্ছি। সম্মেলনে কে কে নেতা নির্বাচিত হবেন সেটিও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দই সিদ্ধান্ত নেবেন’।
এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল শেখ। তিনিও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা। একারণে নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল জনপ্রিয়। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক হতে চান সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ আকতার নাহান। নাহিদ আক্তার নাহান, আমরা চাই কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব। যেন সংগঠনটা রক্ষা হয়’।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা বলেন, ‘যারা জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছিলেন তাদের খোঁজ-খবর রাখছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান। তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের অতীত রেকর্ডও পর্যালোচনা করেছেন। যারা দলের জন্য নিবেদিত হিসেবে অতীতে দায়িত্ব পালন করেছেন ও আগামীতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবেন তাই নেতা নির্বাচিত হবেন’।