সর্বশেষ সংবাদ
অলাভজনক-বন্ধ কারখানা নিয়ে বিশেষ রোড শোতে প্রধানমন্ত্রী রুয়েটের ছাত্র হল-২ এ চোর সন্দেহে যুবক আটক সাপাহারে আম মৌসুমের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি রাজশাহীতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নার্সিং কলেজের ৩ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার পারমাণবিক ইস্যুতে মার্কিন সব শর্ত মানবে না ইরান : মোজতবা খামেনি বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতকে পুশ-ইন বন্ধের আহ্বান জানাল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লালপুরে একটু বৃষ্টিতেই স্কুলের পাঠদান কক্ষে হাটু পানি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাগমারায় স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ বিষয়ে সেমিনার ও প্রদর্শনী নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে : প্রধানমন্ত্রী অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে মাঠে রাসিকের রাজস্ব বিভাগ

পৌনে চার কোটি টাকার সেতুর সংযোগ সড়কে ব্যয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা!

Paris
Update : সোমবার, ১৭ জুলাই, ২০২৩

আলিফ হোসেন, তানোর

রাজশাহীর তানোরের বিলকুমারী বিলের (শিবনদী) ওপর প্রায় পৌনে চার কোটি টাকা ব্যয়ে  নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিগত ১৮ বছরে সংযোগ নির্মাণে ধাপে ধাপে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও এখানো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি। অথচ এই সেতুর কয়েক বছর পর পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু ও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সেতুর অলৌকিক  সংযোগ সড়কের কাজ এখানো সম্পন্ন করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট বিভাগের একশ্রেণীর কর্মকর্তার নেপথ্যে মদদে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমাণের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায়, প্রতি বছর বরাদ্দ আসে বরাদ্দ বাড়ে, কিন্তু সংযোগ সড়কের নির্মাণ শেষ হয় না।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, তানোর ও মোহনপুর উপজেলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠির উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার লক্ষ্য। এই দুই উপজেলার মধ্যে যোগসুত্র তৈরীর পদক্ষেপ হিসেবে সেতুটি নির্মাণের উদ্দ্যোগ নেয়া হয়। বিগত ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তানোরের শিবনদীর ওপর ২১৫ দশমিক ৮ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০০৬ সালের ৪ মার্চ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন ডাকমন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিষ্টার আমিনুল হক। সেতুর কার্যাদেশ পায় রাজশাহী শহরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স খন্দকার মাইনুল এন্টারপ্রাইজ। কিন্ত্ত দেশে ওয়ান-ইলেভেনের সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতুর নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখেই পালিয়ে চলে যায়। বিগত ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের  সময়ে সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এদিকে  ২০১৩ সালে এক দশমিক ৪৫০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে টেন্ডার আহবান করা হয়। ঠিকাদারী কার্যাদেশ পায় মেসার্স ফরিদ কন্ট্রাকশন। তাদের কাছে থেকে কাজটি কিনে নেয় রাজশাহী শহরের মেসার্স ডন এন্টারপ্রাইজ। সেই থেকে এখানো চলমান রয়েছে সংযোগ সড়কের কাজ। প্রায় এক দশমিক ৪৫০ কিলোমিটার  সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রথম ধাপে ব্যয় ধরা হয় প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় ধাপে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ও তৃতীয় ধাপে ব্যয় ধরা হয় প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা। সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে ১৮ বছরে এভাবে ধাপে ধাপে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়াও চলতি বছরে ২৯৫ ফিট রাস্তায় বালু  ভরাট, এইচবিবি করণ ও ব্লকের জন্য প্রায় পৌনে চার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্ত্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি, দীর্ঘ ১৮ বছরেও সেতুর সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি। আবার যেটুকু হয়েছিল সেটি ভেঙ্গে গেছে। ফলে সেতু যন্ত্রণা কাটছেই না।

ফলে ব্যয় বাড়ানোয় একদিকে সরকারের অর্থ গচ্চা যাচ্ছে, অন্যদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পকেটভারী হচ্ছে। আর এসব অর্থের মধ্যে থেকে একটি অংশ ঢুকছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের একশ্রেণীর দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার পকেটে। যে কারণে তারা বিষয়টি দেখেও না দেখার অভিনয় করে বার বার বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। স্থানীয়রা জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্দেশ অমান্য করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অনিয়মের মাধ্যমে রাঁতের আঁধারে কাদামাটি দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেন। ওই সময় রাজশাহী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে এসব নিম্নমাণের কাদামাটি সরিয়ে নিয়ে ভালো ও শক্ত মাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই নির্দেশ অমান্য করে রাঁতের আধাঁরে কাদামাটি দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ করেছেন। এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, সড়ক যত ভাঙ্গবে বা বসে যাবে ততই ভালো হবে। কারন তাহলে দূর্বল জায়গা চিহ্নিত করতে পারবো। আপনি এর আগে বলেছিলেন বালু ভরাট করে মজবুত সড়ক হবে কোন ভাঙ্গন হবে না নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ভাঙ্গলো কেনো প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদোত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।এবিষয়ে মেসার্স ডন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হারুন অর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও মুঠোফোন রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris