সোমবার

২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
রাসিকের পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের চেক হিসাব বিভাগে হস্তান্তর রাজশাহী বিসিক-১ বিসিক-২ এর অচলবস্থা কাটিয়ে উঠতে উদ্যোগ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আত্মশুদ্ধির নতুন অধ্যায় চামড়া সিন্ডিকেট-কোরবানীর পশু নিয়ে চাঁদাবাজি দেখতে চাই না : এমপি মিলন রামিসা হত্যার বিচার হবে এক মাসের মধ্যে, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর শেরে বাংলা ছিলেন বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা-সামাজিক মুক্তির অগ্রদূত : তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য ঈদ উপহারের চেক গ্রহণ করলেন রাসিক প্রশাসক দুই পা নেই, শুধু হাতের ওপর ভর করেই মাউন্ট এভারেস্ট জয় গাজায় ইঁদুরবাহী রোগে আক্রান্ত ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ রাজশাহী নগরীতে ত্রাস সৃষ্টির দায়ে কিশোর গ্যাং এর ২ সদস্য গ্রেফতার

আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা, সাকিবের স্পষ্ট বার্তা

Paris
Update : শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০২৩

এফএনএস
প্রথম দুই ম্যাচের বাজে পারফরম্যান্সকে পেছনে ফেলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৭ উইকেটের জয় শুধুমাত্র হোয়াইটওয়াশ এড়াতেই সহায়তা করেনি, দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাসী করেছে বাংলাদেশকে। (১৪ এবং ১৬) জুলাই সিলেটে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যেই সিলেট পৌঁছেছে সাকিব-লিটনরা। সংক্ষিপ্ত ভার্সনে নিঃসন্দেহে আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। পরিসংখ্যানে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের চেয়ে আফগানিস্তান অনেক এগিয়ে রয়েছে। যেখানে নয়বারের মোকাবেলায় আফগানদের জয় ৬টিতে এবং বাংলাদেশের ৩টিতে। সবগুলোতেই সহজ জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। অন্যদিকে জয় পেতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে সহজভাবেই যথাক্রমে ৮ এবং ৭ উইকেটে জিতেছে আফগানিস্তান। কিন্তু শেষ পাঁচ লড়াইয়ের মধ্যে দুটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ, আফগানদের বিপক্ষে মোট তিনটি জয়ের মধ্যে দু’টিই সাম্প্রতিক সময়ে পেয়েছে টাইগাররা। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। ২-১ ব্যবধানে হারা ওয়ানডে সিরিজে শেষ দুই ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেন লিটন দাস।, শেষ ওয়ানডের জয় আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মত টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিততে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেই আশা করছেন লিটন। ২০২২ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের মধ্যকার দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিলো। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ৭ উইকেটে জয়ের পর লিটন বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে শেষ ওয়ানডের জয় টনিক হিসেবে কাজ করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেরা ভালো পারফরম্যান্স করেছে। শরিফুল ও তাসকিন নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগিয়েছে। মাঝের ওভারগুলোতে ভালো করেছে স্পিনাররা। পুরো কৃতিত্ব বোলারদের। নিশ্চিতভাবেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে আমরা টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামবো।’ সিরিজে প্রথমবার খেলতে নেমে ২১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন শরিফুল। তার বোলিং নৈপুণ্যে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বৃষ্টি আইনে প্রথম ম্যাচ ১৭ রানে এবং দ্বিতীয়টি ১৪২ রানে হেরে চাপে থাকা বাংলাদেশ। শরিফুল বলেন, ‘ এই জায়গায় আসতে আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর আমাকে কিছু কাজ দিয়েছিলন হাথুরুসিংহে ও ডোনাল্ড। আমি সেগুলো করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বোলিং জুটি যখন ভালো হয়, তখন ছন্দেরও উন্নতি হয়। তাসকিন খুব ভালো বোলিং করছিল যা আমার জন্য সহজ হয়ে গিয়েছে।’
এদিকে বাংলাদেশ দলের নেটে লেগ স্পিনার দেখা গেল চারজন! মূল স্কোয়াডে থাকা রিশাদ হোসেন তো আছেনই। রিশাদ ও রশিদ খান, দুজনের নাম কাছাকাছি আর দুজনেই লেগ স্পিনার, এ ছাড়া বোলিংয়ের ধরন, মান, ওজনে কোনো কিছুতেই আর মিল নেই তাদের। তবে রিশাদ ও অন্য লেগ স্পিনাররা যে নেট সেশনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানা বোলিং করে গেলেন, এটির মূল কারণ নিশ্চয়ই বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয় কারও। সবই রশিদকে সামলানোর প্রস্তুতি। শুধু ওই লেগ স্পিনাররাই নন, অনুশীলনের শুরু থেকেই নিয়মিত স্পিনারদের পাশপাশি বল হাতে দেখা গেল আফিফ হোসেন, শামীম হোসেনের মতো অনিয়মিত স্পিনারদেরও। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের নেট সেশনে ব্যাটসম্যানদের স্পিন খেলার এত আয়োজন যে আফগান স্পিনারদের ভাবনায় রেখে, তা আলাদা করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সাকিব আল হাসান অবশ্য এই প্রশ্নে তেমন কিছুই বললেন না। রশিদ বা মুজিব উর রহমান কিংবা আফগান স্পিনারদের কারও নামই মুখে আনলেন না তিনি। বাংলাদেশ অধিনায়ক হয়তো মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভারাক্রান্ত করতে চাইলেন না দলকে। প্রতিপক্ষের কোনো ক্রিকেটারকে নিয়েই বাড়তি ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। পাশাপাশি তিনি দাবি করলেন, তামিম ইকবালের অবসরকে ঘিরে নানা ঘটনাপ্রবাহও দলে কোনো প্রভাব ফেলেনি। যে সংস্করণে বাংলাদেশ সবচেয়ে ভালো খেলে এবং ধারাবাহিক, সেই ওয়ানডেতেই এবার আফগানিস্তানের কাছে সিরিজ হেরে গেছে দল। যে সংস্করণে বিশ্ব ক্রিকেটেই আফগানরা সমীহ জাগানিয়া শক্তি। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশের ৩ জয়ের বিপরীতে আফগানদের জয় ৬টি! যদিও টি-টোয়েন্টিদে গত মার্চে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ, পরের সিরিজে জিতেছে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে। তবে রশিদ-মুজিবদের সামনে এবারের ভীষণ কঠিন হওয়ার কথা। তবে দুই ম্যাচের এই সিরিজ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বললেন, প্রতিপপক্ষের এক-দুজনকে নিয়ে যেমন তাদের ভাবনা নেই, তেমনি নিজেদের দু-একজনের ওপরও বাড়তি নির্ভরতা নেই। “কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কাউকে নিয়ে আমরা চিন্তা করছি না। আমাদের দলও কোনো একজন ব্যাটসম্যান বা বোলারের ওপর ভরসা করে নেই। আমরা চাই যেন আমরা দলীয়ভাবে পারফর্ম করি, যেটার মাধ্যমে যেন জয়লাভ করতে পারি। আমাদের তাড়না একইরকম রাখার চেষ্টা করব আমরা।” “আমরা কোনো একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে কথা বলিনি, চিন্তাও করিনি। যে ব্যাটিং বা বোলিং করবে, সে তার জায়গা থেকে কী কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, সেগুলো নিয়ে আমি নিশ্চিত যে তারা ব্যক্তিগতভাবে কাজ করবে। এটা আসলে কাউকে বলার বিষয় নয় এবং করারও বিষয় নয়। যে পরিস্থিতিতে যে আসবে, তার দায়িত্ব কীভাবে সে দলের জন্য ভালো পারফর্ম করতে পারে।” সাকিবের মতে, শুরুর সময়টুকুই শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা রাখতে পারে ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে। “টি-টোয়েন্টিতে মোমেন্টাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কীভাবে খেলাটা শুরু করি, সেটা আমার কাছে মনে হয়, ম্যাচের ফলের দিকে বা ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে অনেক বেশি। ব্যাটিং করি বা বোলিং, শুরুটা ভালো করা গুরুত্বপূর্ণ।” ভালো শুরু করা কিংবা ভালো শেষ, সবকিছুতেই সাকিবের ভাবনাজুড়ে কেবল দল। শুধু এই সিরিজ বা প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান বলেই নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটে সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতায় তার উপলব্ধি, দলীয় রসায়ন জমে উঠলেই কেবর এই দল জয়ের পথে এগিয়ে যায়। “আমার কাছে মনে হয়, আমরা দল হিসেবে তখনই ভালো খেলি, যখন অন্য দল নিয়ে চিন্তা না করি। আমরা যখন খোলা মন নিয়ে থাকি, নিজেদের খেলাটায় কীভাবে উন্নতি করা যায়, সেটা নিয়ে ভাবি এবং নিজেদের জায়গা থেকে সবাই ১০ বা ২০ শতাংশ উন্নতি করা যায়, সেই চিন্তা করি, আমার কাছে মনে হয় দলটা তখনই পারফর্ম বেশি করে।” “আমরা তখনই একটু নার্ভাস থাকি বা অত ভালো পারফর্ম করতে পারি না, যখন আমরা কন্ডিশন নিয়ে অনেক বেশি চিন্তা করি এবং অনেক বেশি প্রতিপক্ষ নিয়ে চিন্তা করি। আমার কাছে মনে হয়, ওই জিনিসটা আমরা যত কম করতে পারব, ততই আমাদের জন্য ভালো।” ওয়ানডে সিরিজে অবশ্য অনেকের মতে, দলের মনোসংযোগ ব্যাহত হয়েছিল তামিম ইকবালের অবসরের নানা নাটকীয়তায়। প্রথম ওয়ানডেতে হেরে যাওয়ার পর দিনই আচমকা অবসরের ঘোষণা দেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবসরের ঘোষণা তিনি প্রত্যাহার করে নেন পরদিনই। কিন্তু সিরিজের মাঝে ওই দুটি দিন বাংলাদেশের ক্রিকেট থেকে যেন মাঠের ক্রিকেটই হারিয়ে গিয়েছিল। তামিমের অবসর ঘিরেই ছিল সব আলোচনা। পরে দ্বিতীয় ম্যাচেও হেরে আফগানদের বিপক্ষে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ হেরে বসে বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচে দাপুটে জয়ে অবশ্য শেষ পর্যন্ত হোয়াইটওয়াশ এড়ানো গেছে।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris