সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহী সেনানিবাসে স্টেশন কমান্ডার-এর সাথে রাসিক প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ আরডিএ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে প্রদ্ধাঞ্জলী বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আম বাজারে ‘আম তোলা’ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার চিকিৎসকদের পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি : প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত ও ‘অ্যাগ্রো-বেজড’ ইপিজেড স্থাপন করা হবে : ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মতবিনিময় সভা প্রতিদিনের ছোট ছোট ভুল অভ্যাসই বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিস, হৃদরোগের ঝুঁকি : ড. মজিবুল হক গোদাগাড়ীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশ ‘আলুর গোল্লা’ খেতে বাগমারায় আসছেন দুর-দুরান্তের মানুষ

তানোর পৌরসভা দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষার দিনে আবারো উধাও সভাপতি

Paris
Update : রবিবার, ৯ জুলাই, ২০২৩

তানোর প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোর পৌরসভা দাখিল মাদ্রাসায় (আমশো)  আবারো নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক যুবলীগ নেতা ইকবাল মোল্লা ও সদস্যরা আত্মগোপন করেছেন বলে নিশ্চিত করেন পরীক্ষা দিতে আসা নিয়োগ প্রার্থীরা। গত শুক্রবার পৌরসভা দাখিল মাদ্রাসায় ঘটে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি। এতে করে নিয়োগ প্রত্যাশীরা সভাপতির বাড়িতে ও মাদ্রাসার সামনে আত্মহত্যার জন্য প্রস্তুতি নিলে স্থানীয় ও গ্রামবাসী এবং শিক্ষক দের অনুরোধে করেননি আত্মহত্যা। এতে করে একের পর এক নিয়োগের দিন ধার্য্য করেও সভাপতি ও সুপারের জন্য বাতিল হচ্ছে। ফলে এমন ঘটনায় নিয়োগ প্রার্থীরা ও গ্রামবাসী সভাপতির পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। নচেৎ যে কোন মুহুর্ত্বে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন।

জানা গেছে, তানোর পৌরসভা (আমশো) দাখিল  মাদ্রাসায় নিয়োগ পরিক্ষার জন্য শুক্রবার দিন ধার্য্য ছিল। সে মোতাবেক ঢাকা থেকে ডিজির প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নির্ধারিত সময় সকালে উপস্থিত হন। তার আগ থেকে নিয়োগ প্রার্থীরা পরিক্ষার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এক দু ঘন্টা করতে করতে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত অপেক্ষার পরও সভাপতি ইকবাল মোল্লা ও সদস্যরা কেউ উপস্থিত হয়নি এবং সবার মোবাইল নম্বর বন্ধ ছিল। এমন খবর পেয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায় সবকিছু তালাবদ্ধ। নাসিমা নামের এক নিয়োগ পরিক্ষার্থী বাড়িতে এসে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। তার পরিবারের লোকজন নানা ভাবে শান্তনা দিচ্ছেন।

নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান,  আয়া ও নিরাপত্তা কর্মী দুইটি পদে দুটি নিয়োগ হওয়ার কথা। কিন্তু সভাপতি ও সুপার একাধিক ব্যাক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন। এজন্য সে নিয়োগ পরীক্ষার আযোজন করে   মাদ্রাসায় আসছেন না।তিনি নিজেকে বিশাল কিছু মনে করে ফোন বন্ধ করে রাখছেন। তিন চার বার নিয়োগ পরিক্ষার আয়োজন করা হলেও সভাপতি ও সুপার উপস্থিত হন না। কারন তারা অনেকের কাছে টাকা নিয়েছেন নিয়োগ দিব বলে। এদিকে নেতারা, সভাপতি ও সুপারও নিয়েছেন টাকা। চাকুরী হবে দুজনের, আর একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কারনেই নিয়োগ পরিক্ষা নিয়ে সভাপতি ও সুপার এবং কিছু নেতারা ইঁদুর বিড়াল খেলা শুরু করেছেন। যারা টাকা দিয়েছে নিয়োগ পাব তাদের পরিবারের কি অবস্থা চলছে একবারও কেউ ভাবছেনা। মানুষ ক্ষোভে রাগে কত কি ঘটনা ঘটিয়ে ফেলছেন। গত শুক্রবারের সবাই বিদায় হওয়ার পর অনেকে বিষের বোতল নিয়ে আসেন। সবার অনুরোধে তারা এমন ঘটনা ঘটায়নি। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে অঘটন ঘটবেই।

এ বিষয়ে তানোর পৌরসভা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মুনসুর রহমান বলেন, আমি উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু সভাপতি না আশার কারনে হয়নি পরিক্ষা। সভাপতির কথায় দিন ধার্য্য করা হয়েছিল। সভাপতি যে কাজ করেছেন এজন্য প্রতিষ্ঠানকে মাসুল গুনতে হবে। কারন মাদ্রার নিয়োগ পরিক্ষার জন্য ঢাকা থেকে আসে ডিজির প্রতিনিধি। সে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তানোর পৌরসভা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি  ও তানোর পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল মোল্লা বলেন, আমি স্বচ্ছতা মোতাবেক পরিক্ষায় যারা পাশ করবে তাদেরকে চাকুরী দেওয়া হবে। কিন্তু কিছু নেতারা টাকা নিয়ে তাদের পছন্দ অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে। আমিও সাব বলে দিয়েছি তাহলে আমাকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে ইচ্ছেমত দিতে।মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সুপার ও সভাপতি দিন তারিখ নির্ধারন করে সভাপতি না আশার কারনে পরিক্ষা হয়নি। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৮ মে নিয়োগ পরিক্ষার দিন ধার্য্য করে সভাপতি ও সুপার অনুপস্থিত থাকায় হয়নি পরিক্ষা। এঘটনায় দৈনিক আমাদের রাজশাহী পত্রিকায় পরিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় উপস্থিত সভাপতি ও সুপার লাপাত্তা শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris