এফএনএস
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবিরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মো. এবাদুল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গা নেতা খুন হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়ার কুতুপালংস্থ ১ পশ্চিম নম্বর ক্যাম্পের এ/৯ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোহিঙ্গা নেতা এবাদুল্লাহ ওই ব্লকের উপ-প্রধান বা সাব মাঝি ছিলেন। উখিয়া থানার ওসি শেখ মো. আলী জানান, দুর্বৃত্তরা রোহিঙ্গা নেতা এবাদুল্লাহকে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে প্রাথমিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম আসাদ আহমাদ খানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কুতুপালংস্থ ১ পশ্চিম নম্বর ক্যাম্পের এ/১ ব্লকে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় শিবিরে রোহিঙ্গা নেতা এবাদুল্লাহকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহকালে অস্ত্র ও গুলিসহ যুবক আটক: এদিকে চট্টগ্রামের কেরানীহাট থেকে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহকালে এক যুবককে আটক করেছে উখিয়া থানা পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ফলিয়াপাড়া রাস্তার মাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক ফরিদ আলম (১৮) ক্যাম্প-৩ এর ব্লক এ/১৪ এর দুদু মিয়ার ছেলে। ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহের খবর পেয়ে উখিয়া থানার একটি দল উখিয়ার বিভিন্ন স্পটে বিশেষ অভিযান চালায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর ফলিয়াপাড়া রাস্তার মাথা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তল্লাশি করে তার হেফাজতে থাকা একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র এবং ২১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চট্টগ্রামের কেরানীহাট থেকে সকাল ৮টার দিকে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করে ক্যাম্প-৩ এ দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। ওসি আরও জানান, ক্যাম্পে অস্ত্র সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে আটক করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ওসি। এর আগেও একইভাবে অস্ত্র সরবরাহকালে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ ও শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। একইভাবে ক্যাম্প থেকেও বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারীদের আটক করতে সক্ষম হয় ক্যাম্পে কর্মরত এপিবিএন, থানা পুলিশ ও র্যাব।