স্টাফ রিপোর্টার
ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে খোলা হয়েছে আলাদা ওয়ার্ড। বর্তমানে সেই ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন আট রোগী ও আইসিইউতে আছেন একজন। বুধবার (০৫ জুলাই) সকালে রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম শামীম আহম্মেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতাল পরিচালক বলেন, রামেকে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় খোলা হয়েছে আলাদা ওয়ার্ড। হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডটিকে আলাদা করে ডেঙ্গু ওয়ার্ড করা হয়েছে। সেখানে ১৬টি বেড রয়েছে। এরমধ্যে ৮ জন মহিলা ও ৮ জন পুরুষ চিকিৎসা নিতে পারবে। পাশাপাশি একটি বিশেষ চিকিৎসক টিমও রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, রামেক ডেঙ্গু ওয়ার্ডে বর্তমানে ৮ জন চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া ডেঙ্গু ও কিডনির সমস্যা নিয়ে একজন আইসিইউতে ভর্তি আছেন। আক্রান্ত সবাই রাজশাহীর বাইরে থাকেন। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে তারা জ¦রে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে স্থানীয়দের কেউই এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হননি।
এদিকে রাজশাহীর বাঘায় দুই জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬ জনের ডেঙ্গু এনএসআই পরীক্ষা করে ২ জন আক্রান্ত হয়েছে। গত জুন মাসে ১৬ জনের পরীক্ষায় কেউ সনাক্ত হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. আশাদুজ্জামান আশাদ বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা যায়, উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের আবু সাঈদ নামের এক যুবক মঙ্গলবার ও ঢাকাচন্দ্রগাথি গ্রামের বাপ্পু রহমান নামের আরেক যুবক রোববার শরীরে ডেঙ্গুর অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। বাপ্পু রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও আবু সাঈদকে উপজেলা স্বাস্থ্র কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া আবু সাঈদ বলেন, পাবনায় এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে রাতে মশারি ছাড়াই ঘুমিয়েছিলাম। সেখানে মশার উপদ্রব ছিল। কোন ধরনের মশা বুঝতে পারেনি। সেখান থেকে ফিরে আসার পর জ¦র দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে ওষুধ খেয়েও কাজ হচ্ছিলনা। পরে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু সনাক্ত হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাপ্পু রহমানের বাবা সাহেদ আলী বলেন, আমার ছেলে মুনসিগঞ্জ পল্লী বিদৎ অফিসে কর্মরত ছিল। জ¦র নিয়ে বাড়িতে আসার পর ডেঙ্গু সনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. আশাদুজ্জামান আশাদ বলেন, পরীক্ষা করে ২ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এখানে সব ধরণের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ভর্তি হওয়া রোগী চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে হলে অবশ্য মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেন তিনি।