সর্বশেষ সংবাদ
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ : সংসদের স্পিকার অলাভজনক-বন্ধ কারখানা নিয়ে বিশেষ রোড শোতে প্রধানমন্ত্রী রুয়েটের ছাত্র হল-২ এ চোর সন্দেহে যুবক আটক সাপাহারে আম মৌসুমের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি রাজশাহীতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নার্সিং কলেজের ৩ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার পারমাণবিক ইস্যুতে মার্কিন সব শর্ত মানবে না ইরান : মোজতবা খামেনি বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতকে পুশ-ইন বন্ধের আহ্বান জানাল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লালপুরে একটু বৃষ্টিতেই স্কুলের পাঠদান কক্ষে হাটু পানি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাগমারায় স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ বিষয়ে সেমিনার ও প্রদর্শনী নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে : প্রধানমন্ত্রী

বাগমারায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ছেলেসহ শিক্ষিকার মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

Paris
Update : রবিবার, ২ জুলাই, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার ও মোহনগঞ্জ প্রতিনিথি

রাজশাহীর বাগমারার মাদারীগঞ্জ বাজারে তিনতলা একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে প্রথমে মা স্কুল শিক্ষিকা ঘটনাস্থলে ও বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ ছোট ছেলের মৃত্যু এবং মুমুর্ষ বড় ছেলে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (৩০ জুন) ভোরে উপজেলার হাসনিপুর গ্রামের মাদারীগঞ্জ বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনে দগ্ধ হয়ে স্ত্রী ও ছোট সন্তানকে হারিয়ে পিতা এজাজুল বাশার স্বপন বড় একা হয়ে পড়েছেন। এই মর্মান্তিক আগুনের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত স্কুল শিক্ষিকার নাম ফরিদা ইয়াসমিন (৪৫) ও ছেলে রাফিউল বাশার (১৮)।

এলাকাবাসী বলেন, তিনতলা ভবনটি একসময় ছিল সিনেমা হল। সিনেমা হলটি বন্ধ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী এজাজুল কিনে নেন। সিনেমা হলের তিনতলায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকতেন। কয়েকজন ভাড়াটেও ছিলেন। তবে ঈদের কারণে তাঁরা গ্রামের বাড়িতে যান। এছাড়া ভবনের অধিকাংশ স্থান বিভিন্ন পণ্যের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অগ্নিকাণ্ডের সময় এজাজুল বাসায় ছিলেন না। তিনি বাড়িতে গিয়েছিলেন।

স্বজন, প্রতিবেশী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে তিনতলার বাসায় ঘুমিয়ে পড়েন স্কুল শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিন। ভোরে বাসার দোতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এ সময় আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের চিৎকারে ও আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাঁরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুন ছড়িয়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলেন না লোকজন। পরে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ততক্ষণে বাড়িতে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিয়ে এলাকায় ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, তাঁরা আগুন নেভানোর সময় দেখতে পান, তিনতলা থেকে দুই ভাই রাশেদুল ও রাফিউল দগ্ধ অবস্থায় লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যান। দ্রুত তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর তাঁরা বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তিনতলার একটি কক্ষে স্কুলশিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিনের পোড়া লাশ পান। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত দুই ভাইকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তাঁদের আহত দুই সন্তান হলেন রাশেদুল বাশার (২৫) ও রাফিউল বাশার (১৮)। রাফিউলের শরীরের ৫০ শতাংশ ও রাশেদুলের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গেছে।  তবে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে ঐদিন বিকালে ছোট ছেলে রাফিউল বাশার মানা যান। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তাঁদের স্বজনরা জানিয়েছেন, বড় ছেলে রাশেদুল একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী এবং রাফিউল উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দিয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর স্বজনেরা বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তিনতলার একটি কক্ষে স্কুল শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিনের পোড়া লাশ পাওয়া যায়।

ভয়াবহ এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্কুল শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিন আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করায় দূর্গাপুর উপজেলায় শিক্ষক সমাজ, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক মহল নিহত স্কুল শিক্ষকের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris