তানোর প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরে রাতের আধাঁরে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৩ জুন মঙ্গলবার পৌর সদর আমশো মথুরাপুর গ্রামে রাত প্রায় ৯টার দিকে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি ঘটে। তবে গভীর রাতে আগুন লাগলে মারা যেত প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যরা বলে দাবী প্রতিবেশিদের। ঘটনার কয়েক দিন পর পুড়িয়ে যাওয়া জায়গা সংস্কার করা শুরু করেন প্রতিবন্ধী হারেজা বেওয়া ও তার প্রতিবন্ধী দুই সন্তান ও স্ত্রীরা। এঅবস্থায় গত বুধবার বিকেলের দিকে সংস্কার কাজে বাঁধা দেন প্রতিবেশী রফিক। এঘটনায় ২১ জুন বুধবার রফিককে অভিযুক্ত করে প্রতিবন্ধী হারেজা বেওয়া বাদি হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগের ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। এতে করে পরিবারের সদস্যারা চরম নিরাপত্তা হীনতায় বাস করছেন। যে কোন সময় পুনরায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলতে পারে বলে আশংকা পরিবারের সদস্যদের।
অভিযোগ উল্লেখ, চলতি মাসের গত মঙ্গলবার (১৩ জুন) রাত ৯ টার দিকে কে বা কারা হারেজা বেওয়ার বাড়িতে আগুন ধরিযে দেয়। এসময় মহল্লাবাসীসহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষনে বাড়ির একাংশ পুড়ে ছায় হয়ে যায়। আগুনে পুড়ে যাওয়া ওই বাড়িটি গত ৩/৪ দিন ধরে সংস্কার কাজ শুরু করেন ওই বিধবা মহিলা ও তার ২ প্রতিবন্ধী পুত্র ও তাদের প্রতিবন্ধী স্ত্রীরা। সংস্কার করা অবস্থায়
গত বুধবার প্রতিবেশী মৃত মিরাতনের পুত্র রফিকুল ইসলাম সংস্কার কাজে বাঁধা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতিসহ হুমকি দিয়ে প্রতিবন্ধী শাহিনকে মারতে উদ্ধৃত হয়। এসময় মহল্লাবাসী এসে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। এঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন ওই বিধবা ও তার ২ প্রতিবন্ধী সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা।
বিধবা মহিলা হারেজা বেওয়া বলেন, এই বাড়িতে ৬০ বছর ধরে বসবাস করছি, আমার ২ টি পুত্র ২ জনই শারিরিক প্রতিবন্ধী ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করি। প্রতিবেশী রফিকুলের সাথে জায়গা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমাদেরকে নানা ভাবে নির্যাতন করছে। আমার বাড়িতে কে আগুন দিলো বুঝতে পারিনি, কিন্তু সংস্কার কাজে বাঁধা দেয়ার মানে হলো প্রতিবেশী রফিকুলই আমাদেরকে পুড়িয়ে মারার জন্য আগুন লাগিযে দিয়েছে। আমি এর বিচার দাবি করছি।
তবে রফিকুলের স্ত্রী জানান, আগুন লাগার সময় আমার স্বামী বাড়িতে ছিল না। আগুন লাগার পর বৈদ্যতিক মিটার বিকট শব্দ হয়। তখন আমার ছেলে আগে বের হয়ে আগুন নিভানোর জন্য পানি দেওয়া শুরু করেন। তাদের সাথে চলাচলের রাস্তা নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে। কিন্তু আমরা আগুন লাগায়নি, আমাদের ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তদন্ত করলেই আসল রহস্য বের হবে। এনিয়ে তানোর প্রতিবন্ধী সংস্থার উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসাইন বলেন, প্রতিবন্ধীর বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনার যদি সুষ্ঠ বিচার না হয়। তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো। এবিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।