স্টাফ রিপোর্টার
বিপুল ভোটের ব্যবধানে আবারো রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তবে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হিসাবে এবার স্থান করে নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মাওলানা মুরশিদ আলম ফারুকী। বুধবার (২১ জুন) রাতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ১৫৫টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন রাসিকের রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন। ১৫৫টি কেন্দ্রের পাওয়া ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নৌকা প্রতিকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলনের মরশিদ আলম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১৩ হাজার ৩৯৩টি ভোট। গোলাপ ফুল ১১ হাজার ৫৮৪ ভোট ও লাঙ্গল ৯ হাজার ৪৫৬ ভোট।
এদিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো রাসিক নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এবারই প্রথম রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হলো। একই সাথে এবাই প্রথম ইতিহাসে সবচেয়ে কম প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী ও কম ভোটার উপস্থিতি নিয়েই শেষ হলো ষষ্ঠ বারের রাসিক নির্বাচন। এর মধ্যে বাগড়া বাধিয়েছিল বৃষ্টি। সেই সঙ্গে ছিল ইভিএম জটিলতাও। তবে নির্বাচনের শুরু থেকে নানান রকমের আশঙ্কা করা হলেও দিনভর দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবার। বুধবার সকাল ৮টা থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা একটানা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন। নির্বাচনে মোট ১৫৫টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্থাপন করা হয় ১ হাজার ৫৬০টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। ঢাকায় বসে সিসি ক্যামেরায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) কমিশনের সদস্যরা।
ভোটগ্রহণ শেষে বুধবার বিকেলে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে।’ রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন সিইসি।