সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত রাজশাহী নগরীতে নারীসহ ৮ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার নওগাঁয় শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার সাপাহারে বাড়িতে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা রুয়েটে তিনদিনের অ্যাক্রিডিটেশন মূল্যায়ন শুরু রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন ধোঁয়াশার বেড়াজালে আবদ্ধ প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ : সংসদের স্পিকার অলাভজনক-বন্ধ কারখানা নিয়ে বিশেষ রোড শোতে প্রধানমন্ত্রী রুয়েটের ছাত্র হল-২ এ চোর সন্দেহে যুবক আটক

আজ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ভোটাধীকার প্রয়োগ করবেন ৩৫২১৫৭ ভোটার

Paris
Update : বুধবার, ২১ জুন, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার

আজ ২১ জুন বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হচ্ছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন। গত ২ জুন প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচার-প্রচারণায় নামেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। রাজশাহীতে এবার ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ জন ভোট দিবেন। এরমধ্যে নতুন ভোটার ৩০ হাজার ১৫৭ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭১ হাজার ১৮৫ জন এবং নারী এক লাখ ৮০ হাজার ৯৭২ জন। এবার ১৫৫টি ভোট কেন্দ্রের এক হাজার ১৫৩টি কক্ষে ইভিএমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়দ পদে আওয়ামী লীগের এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন নৌকা প্রতীক, জাতীয় পার্টির মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন লাঙ্গল প্রতীক, জাকের পার্টির মো. লতিফ আনোয়ার  গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। আর অন্যদিকে, ১০টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৪৬ জন এবং ৩০টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবারের নির্বাচনে।

মেয়র প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টেদের মধ্যে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করেছে বেশ কয়েকবার। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ৬-৭ জন আর সাধারণ কেন্দ্রে পাঁচজন করে পুলিশ রাখা হবে বলে জানায় আরএমপি সূত্র। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কার্যক্রম শেষ হয়েছে গতকাল রাতেই। এছাড়াও ৩০ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

রাসিকের ৭, ২৩, ১৯, ১৮, ২১, ২৬ ও ২৯ নং ওয়ার্ডগুলোতে ইতোমধ্যেই কাউন্সিলর প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। হয়েছে হামলা, প্রচারক্যাম্পে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ। ককটেল বিস্ফোরনের মতো ভয়াবহতারও স্বাক্ষী হয়েছে এবারের নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মযজ্ঞ। প্রচার-প্রচারণায় বাঁধাদানের অভিযোগ রয়েছে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে। আর এগুলা হয়েছে শুধুমাত্র ওয়ার্ডভিত্তিক কাউন্সিলর প্রার্থীদেও সমর্থকদের মাঝে। অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো একেরপর এক হবার কারণে নগরীর বেশকিছু ওয়ার্ডে ভোটারদের মাঝে সঞ্চার ঘটেছে ভীতির বিষয়টি বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।

রাজশাহী আঞ্চলিন নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, রাজশাহী সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে গ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ১৫৩টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা থাকবে। এই ক্যামেরা দ্বারা ঢাকা থেকে নির্বাচন কমিশন ভোট পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করবে। কোথাও কোন অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থান নেওয়া হবে।

এদিকে, রাজনৈতিক নির্দেশনার কারণে বিএনপিপন্থী প্রার্থীরা আগে থেকেই ভোট বর্জনের কথা বললেও অবশেষে নগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে সেই নিদের্শনাকে উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী। এদিকে, ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার সকল প্রস্তুতি শেষ করেও ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী মুর্শিদ আলম ফারুকী বরিশালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার (১২ জুন) রাতে নির্বাচন থেকে হঠাৎ করে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। যার প্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল আর জাকের পার্টির লালগোলাপ প্রতীকের সাথে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা। মেয়র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা আর নির্বাচনমূখী অগ্রসরতা ঠিক থাকলেও বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের আন্তঃদ্বন্দ্ব আর রেষারেষির কারণে ঘটেছে ভীতিকর কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা; যার প্রেক্ষিতে জনগণের চিন্তাভাবনায় প্রায় স্থায়ী আসন করে নিয়েছে একটি প্রশ্ন? সেটি হলো, ‘ভোটেরদিন তালিকাভুক্ত ঝূঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো সহ অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে কেমন থাকবে শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি? প্রার্থীদের সমর্থকদের মাঝে কোন প্রকৃতির থাকবে উত্তেজনা? জয়-পরাজয় নাকি শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিপ্রায় ? বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত অনেকেই। যার কারণে ভোটার উপস্থিতির হার কেন্দ্রের পরিবেশ পরিস্থিতির উপর অনেকটাই নির্ভর করছে বলে মন্তব্য সচেতন ব্যক্তিদের। এক্ষেত্রে কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মাঝে তৈরি করতে হবে ‘জয়-পরাজয়’ মেনে নেবার প্রবণতার বিষয়টি। তবেই সুশৃঙ্খলবস্থায় উৎসবমূখর পরিবেশে নির্বাচনী ডামাডোল ও কর্মযজ্ঞ পাবে পূর্ণতা বলে মন্তব্য অনেকের। তবে, রাসিকের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোট কাস্টিং হবে প্রায় আশি শতাংশ বলে দাবি করেন উক্ত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris