সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত রাজশাহী নগরীতে নারীসহ ৮ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার নওগাঁয় শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার সাপাহারে বাড়িতে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা রুয়েটে তিনদিনের অ্যাক্রিডিটেশন মূল্যায়ন শুরু রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন ধোঁয়াশার বেড়াজালে আবদ্ধ প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ : সংসদের স্পিকার অলাভজনক-বন্ধ কারখানা নিয়ে বিশেষ রোড শোতে প্রধানমন্ত্রী রুয়েটের ছাত্র হল-২ এ চোর সন্দেহে যুবক আটক

রাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ভোট প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ

Paris
Update : মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার

আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। রাত পোহালেই ভোট।  এরই মধ্যে চলছে মেয়র পদে জয়-পরাজয়ের নির্ধারক ভোট প্রাপ্তির আনুপাতিক হার নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী মহল ও সচেতন ব্যক্তিদের মন্তব্য-বক্তব্য। এ নিয়ে দৈনিক আমাদের রাজশাহী পত্রিকার প্রতিবেদনে তাদের হিসেব-নিকেশ উঠে এসেছে। গেল কয়েক টার্মে বর্তমান মেয়র পদপ্রার্থী ও সাবেক রাসিক মেয়র এ,এইচ,এম খায়রুজ্জামান লিটনের নির্বাচনী সম্ভাব্য ফলাফল কি হতে পারে সেটি নিয়ে বক্তারা নিজ নিজ বক্তব্য দেবার পাশাপাশি তুলে ধরেন বিগত সময়গুলোতে লিটনের সফলতা। তাদের বক্তব্য ও মন্তব্যের মাধ্যমে উঠে এসেছে পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে লিটনের ধারাবাহিক ভোট ব্যাংক সম্মৃদ্ধির বিষয়গুলোও। ২০০৮ সালের নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটন ভোট পেয়েছিলেন ৯৮,৩৬০টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছিলেন ৭৪৫৫০ ভোট। ২৩,৮১০ ভোট ব্যবধানে লিটন পরাজিত করেছিলেন বুলবুলকে। গেলবার ২০১৮ সালের রাসিক নির্বাচনে লিটন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬ টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বুলবুল পেয়েছিলেন ৭৭৭০০ ভোট। ঐবার ৮৭,৩৯৬ ভোট ব্যবধানে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছিলেন লিটন। মোট ১৩৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে লিটনের জয়ের ধারা অব্যাহত ছিল প্রতিটি কেন্দ্রেই। সেই ধারাবাহিকতা এবারের নির্বাচনেও ধরে রাখবে অত্যন্ত সম্মানজনক ভোট প্রাপ্তির ম্যধদিয়ে বলে মন্তব্য দলীয় নেতাকর্মী ও সচেতন ব্যক্তিদেরদের। এবারের নির্বাচনী ফলাফল আকাশচুম্বি হবে বলেই ধারণা মহানগর আ’লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের। ঐ সময়ের (২০০৮-২০১৮ সাল) হিসেবে-নিকেষ অনুযায়ী, বিগত সময়ের ঐ দশ বছরের ব্যবধানে বিএনপি’র প্রার্থী বুলবুলের ভোট বৃদ্ধি পেয়েছিল মাত্র ৩১৫০ টি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী লিটনের ভোট বৃদ্ধি পেয়েছিল ৬৬,৭৩৬ টি। এখানে দলীয় প্রভাব নয়, ব্যক্তির সফলতা আর উন্নয়নের মাপকাঠিই ছিল ভোট বৃদ্ধির প্রধান নির্ণায়ক বলে মন্তব্য নেতাকর্মীদের। উল্লেখ্য যে, এবারের রাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী আছেন আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী এ,এইচ,এম খায়রুজ্জামান লিটন (নৌকা), জাতীয় পার্টি মনোনীত সাইফুল ইসলাম স্বপন (নাঙ্গল) ও জাকের পার্টি মনোনীত প্রার্থী এ্যাড. মোঃ লতিফ আনোয়ার (গোলাপ ফুল)।

চেম্বার সভাপতি : রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রি’র সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু আসন্ন রাসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে ভোট ব্যবধানের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, লিটন এবার নির্দ্বিধায় পাস করবেন। এবারের নির্বাচনে যদি দেশের প্রতিটি দল অংশগ্রহণ করতো তবুও লিটন ভাই বিজয়ী হতেন। কারণ, এখানে দলমত নির্বিশেষে ব্যক্তি লিটনকে নগরবাসি ভোট দেবে। পূর্ববর্তী সময়গুলোতে মেয়র পটদে যারা ছিলেন তাদের উন্নয়নের সাথে লিটনের উন্নয়নের মাত্রা আকাশ পাতাল। নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবকাঠোমোগত যে উন্নয়ন তিনি রেখেছেন সে কারণে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এই শহরে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহ দেখাবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, রাজশাহীতে আজ থেকে দশ বছর পূর্বে কোন ব্রান্ডের শো-রুম কিংবা বড় বড় সুপারসপ ছিলনা। আর এখন, নগরীজুড়ে এইধরণের ব্যভসা প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। আর ঐসকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে নগরীর ২৫-৩০ শতাংশ ছেলে মেয়ে কর্ম করে খাচ্ছে। এছাড়াও নগরীর ভোগলিক আয়তন ৯৬ থেকে ৩৫০ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করার যে সিদ্ধন্তি তিনি নিয়েছেন তাতে করে শহরের সর্বত্রই ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। বিসিক-২ এ শিল্প কারখানা স্থাপন, ট্যানারি শিল্প ও লেদার ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্কের মতো প্রতিষ্ঠান নির্মিত হলে নিয়মানুযায়ী বৃহত্তর রাজশাহীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তাই যে ব্যক্তিটি নগরবাসিকে এতোকিছু দিয়েছে তাকে ভোট দিয়ে জয় লাভ করানো নগরবাসির নৈতিক দায়িত্ব বলেই আমি মনে করি। তাই বলাই বাহুল্য তিনি এবার বিপুল ভোট ব্যবধানে জয় হবেন।

আহসানুল হক পিন্টু : রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও এবারের রাসিক নির্বাচনের দলীয় মিডিয়া সেলের প্রধান আহসানুল হক পিন্টু রাসিক নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে ভোট ব্যবধানের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, যিনি অবহেলিত এই উত্তর জনপদের প্রধান শহর রাজশাহীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে আকাশ ছোয়ার কাছাকাছি পৌছে গেছে, সেই ব্যক্তিটির পুণরায় ভোট যুদ্ধে বিজয়ী হবার বিষয়ে বিন্দু পরিমাণও দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকার সুযোগ নেই। রাজশাহীবাসি ইতোমধ্যেই প্রত্যক্ষ করেছে যে, পিছিয়ে থাকা রাজশাহী আজ দেশের অন্যতম শহরে পরিণত হয়েছে শুধুমাত্র জাতীয় চারনেতার অন্যতম শহীদ কামারুজ্জামানের সুযোগ্য পুত্র আ’লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সদ্য বিদায় নেয়া দুই দুইবারের সফল মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের আপ্রাণ্য চেষ্টার কারণে। তাই রাজশাহীবাসির ভোটের মাধ্যমে এবারের নির্বাচনেই শুধু নয়; যতবার ভোটে দাঁড়াবেন ততবারই তিনি বিজয়ের মুকুট অর্জন করবেন বলে আমার বিশ^াস। তবুও যেহেতু নির্বাচনে জয় পরাজয় নির্ধারণের একমাত্র মাপক ভোটের সংখ্যা। সে হিসেবে বলায় বাহুল্য যে, লিটন ভাই নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বিপুল ভোট ব্যবধানে। যেটির এ্যাকচুয়াল হিসেবে নিকেষ ভোট গণণার পরেই বলা ভাল।  কারণ, আমি যদি বলি, তিনি ৯০ শতাংশ ভোট ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হবেন বলেই ধারণা। সেটি তো ভুলও গতে পারে। তিনি তো আরো বেশি ভোট ব্যবধানে জয়ি হতে পারেন। তাই উনার জয় পরাজয়ের হিসেবে কম বলে উনাকে ছোট না করাই ভাল। উনার কর্মদক্ষতা, নিজ জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালবাসা, নগরবাসির কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘বিগ চ্যালেঞ্জ’কে বাস্তবে রূপ দেবার মতো সাহসী উদ্যোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়ন, বিসিক-২ সহ চামড়া শিল্প ও আইসিটি পার্ক গড়ে তোলার মতো প্রকল্পগুলো ছাড়াও পাড়ামহল্লা ভিত্তিক নাগরিক সেবার ব্যাপক উন্নয়ন ও নিজস্ব গুণাবলীর কারণে রাজশাহী ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন বলেই আমার বিশ^াস।

রমজান আলী : মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী রাসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে ভোট ব্যবধানের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, সদ্য বিদায়ী ও এবারের মেয়র প্রার্থী এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের বিগত সময়ের ধারাবাহিক উন্নয়ন আর ক্রমাগত নাগরিক সেবারমানোন্নয়ন বিবেচনায় রেখে নির্দ্বিধায় বলা যায়, এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে খায়রুজ্জামান লিটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কেউ নেই। বিগত সময়ের নির্বাচনগুলো বিবেচনা করলে খুব অনায়াসেই বলা যায়, বিএনপি কিংবা অন্যকোন বড় দলের কোন প্রার্থীর পক্ষেই লিটনের বিজয়কে বাধাগ্রস্থ করার মতো কোন প্রতিদ্বন্দ্বি তৈরি হবেনা। এবারের নির্বাচনে কাস্টিং ভোটের শতকরা হিসেবে করলে প্রায় নব্বই শতাংশ ভোট ব্যবধানে জয়লাভ করবে রাসিকের সফল মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। বিএনপি এই জয়ের ব্যাপারে আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিল। বিধায় তারা নিজদের ইজ্জত রক্ষার্থে কৌশল অবলম্বন করে এবারের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।

আজিজুল আলম বেন্টু : রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু আসন্ন রাসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের জয়-পরাজয় ও ভোট ব্যবধানের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন হবার পরে এপর্যন্ত যতগুলো মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সাথে মেয়র লিটনের উন্নয়নমূখি কর্মকান্ডগুলো মেলাতে হবে। প্রথম টার্মে তিনি শুরু করেছিলেন, আর দ্বিতীয় মেয়াদে শেষে তিনি ঐসকল উন্নয়নমূলক কাজ দৃশ্যমান করেছেন। তিনি একজন চিন্তাশীল ও ডাইনামিক ব্যক্তি। দৃশ্যমান উন্নয়ন আর কর্মসংস্থান সৃষ্টি যে সমূহ সম্ভাবনা তিনি তৈরি করেছেন সেগুলো দেখেই দলমত নির্বিশেষে রাজশাহীর মানুষ নিজস্বার্থে আবারো মেয়র পদে নির্বাচিত করবেন খায়রুজ্জামান লিটনকে। তাই, এমন ব্যক্তি নির্দ্বিধায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

তৌরিদ-আল-মাসুদ রনি : রাজশাহী মহানগর যুবলীগের যুুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ-আল-মাসুদ রনি এবারের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে ভোট ব্যবধানের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, আমি মনে করি এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে বিপুল ভোটে দুইবারের সফল মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বিপুল ভোট ব্যবধানে বিজয়ী হবেন। রাজশাহী নগরীর চোখ ধাঁধানো অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টির গৃহীত পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে রাজশাহীবাসি এবারের নির্বাচনে লিটনকে গণজোয়ারের মতো ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। তাই অন্যপ্রার্থীদের সাথে এবারের রাসিক নির্বাচনে ভোটের ক্যালকুলেশন করার কোন প্রয়োজন নেই। এবারের নির্বাচনে লিটনের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী যেই হোক না কেনো আকাশচুম্বি ভোটে পেয়ে খায়রুজ্জামান লিটন বিজয়ী হবেন। ভোট নিয়ে ক্যালকুলেশন করার কোন প্রয়োজন নেই বলেই আমি মনে করি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris