স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ততই সংঘাত বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্রে করে নগরীর ৭নং ওয়ার্ডের চন্ডিপুর প্রেসক্লাব মোড়ে কাউন্সিলর প্রার্থী মতিউর রহমান মতির মিছিলে হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ জহিরুল ইসলাম রুবেলের লোকজন। আজ শনিবার বিকেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। তবে খবর রাজপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যাক্ষদর্শিরা জানান, বিকেলে কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল মতিন তার সমর্থকদের নিয়ে একটি প্রচার মিছিল বের করেন। একই সাথে প্রচার মিছিল বের করে অপর কাউন্সিলর প্রার্থী রুবেল। দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা মিছিল নিয়ে চন্ডিপুর প্রেসক্লাবের সামনে উপস্থিত হলে কাউন্সিলর প্রার্থী রুবেলের নেতৃত্বে মতির প্রচার মিছিলে ককটেল হামলা চালানো হয়। এসময় কাউন্সিলর প্রার্থী মতির সমর্থকরা প্রতিরোধে রুবেলের সমর্থকদের ধাওয়া করে। পরে শুরু হয় দফায় দফায় হামলা। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০জন সমর্থক আহত হয়। পরে খবর পেয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চন্ডিপুর প্রেসক্লাবের মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশষ মোতায়েন ছিল। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মইনুল বাশার বলেন, পরিস্থিতি শান্ত আছে। সেখানে অরিক্তি পুলিশ মোতায়েন আছে। দুই পক্ষই পাল্টা হামলার কথা বলছে। কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, হামলাকারী রুবেল ১২ হাজার পিস ইয়াবা দুটি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সম্প্রতি। এছাড়াও হত্যাসহ একবাধিক মামলার আসামি তিনি। রাজশাহীর শীর্ষ সন্ত্রাসী রুবেল সম্প্রতি জামিন মুক্তি পেয়ে সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় রুবেলের লোকজন মতিউরের কর্মী-সমর্থকদের ওপর গুলি ছুঁড়েছিল।
এদিকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে দুইজন কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রার্থীসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থী জামায়াত নেতা অধ্যাপক মো. আব্দুস সামাদ তার সমর্থকদের নিয়ে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচন্ডী বুধপাড়া মসজিদের কাছে প্রচার-প্রচারণা করছিলেন। এই সময় ওইদিক দিয়ে ঠেলাগাড়ি প্রতীকের প্রার্থী মতিহার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন তার সমর্থকদের নিয়ে মোটরসাইকেলে করে প্রচার-প্রচারণায় যাচ্ছিলেন। সেখানে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ঠেলাগাড়ির প্রার্থী আলাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুস সামাদ রাস্তা দখল করে দাঁড়িয়েছিল। এ সময় আমরা মোটরসাইকেল নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে যেতে গেলে তারা বাধা দেয়। এমনকি আমাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়।
আলাউদ্দিনের দাবি, তাদের হামলায় তিনিসহ মিজান, রতন, হাসান, সাহাবুল আহত হয়েছেন। পুলিশের কাছে অভিযোগের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেবেন বলে জানান আলাউদ্দিন। কাউন্সিলর প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুস সামাদ দাবি করেন, প্রচারণার খবর পেয়ে আলাউদ্দিন মোটরসাইকেলে করে তার লোকজন নিয়ে গিয়ে ঘুড়ির সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় তাঁর সমর্থক কুরবান আলী, রাজা এবং রবিসহ অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। তিনিও থানায় এবং নির্বাচন কমিশনে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছেন। মতিহার জোনের উপপুলিশ কমিশনার মধুসূদন রায় বলেন, দুজন প্রার্থীর ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে দ্রুতই পরিস্থিতি পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।