স্টাফ রিপোর্টার
আগামী ২১জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন ঘিরে পুরো মহানগরী ছেয়ে গেছে পোষ্টারে। নগরীর লক্ষীপুর, সাহেব বাজার ও নগর ভবনসহ পুরো নির্বাচনী এলাকা যেন এক পোষ্টারের শহরে পরিণত হয়েছে। তবে এবার পলি দিয়ে মোড়ানো পোষ্টারের ব্যবহার হওয়ায় বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে নষ্ট হচ্ছেনা। কিন্তু ইতিপুর্বের ভোট আয়োজনে এমনটির ব্যবস্থা না থাকায় প্রার্থীদের শুধু পোষ্টরের পেছনেই অনেক অর্থ ব্যয় করতে হতো।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহানগরীর বিভিন্ন মোড় ছাড়াও গলি পথের রাস্তার পাশে দড়ি বা রশ্মিতে পোষ্টারগুলো আটা দিয়ে লাগিয়ে সারি সারি করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রার্থীদের পক্ষে অটোরিকসা ছাড়াও বিভিন্ন ধরণের ছোট ও মাঝারি পরিবহন যোগে ভ্রাম্যমান প্রচার মাইক দিয়ে চালানো হচ্ছে জোর প্রচারনা। দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। ফলে শেষ সময়ের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তবে বরিশাল সিটি নির্বাচনের পর ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর হাত পাখা প্রতীকের রাজশাহীর মেয়র প্রার্থী মুর্শিদ আলম ফারুকী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় এখন মাঠে রয়েছে নামে তিনজন। এই তিনজনের মধ্যে কার্যত মেয়র প্রার্থী হিসেবে পুরোপুরি নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন (নৌকা)। নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় এরপরের অবস্থানে রয়েছেন জাতীয় পার্টির সাইফুল ইসলাম স্বপন (লাঙ্গল)। আর অপর মেয়র পার্থী জাকের পার্টির লতিফ আনোয়ার (গোলাপফুল) নামে থাকলেও তার প্রচারণা নাই বললেই চলে। তবে প্রচারণায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন রাসিকের সাবেক মেয়র নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি শুধু পোষ্টরেই সীমাবদ্ধ নেই, প্রচারণা চালাচ্ছেন অনলাইন মাধ্যমেও। কারণ, এবার প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে অনলাইন মাধ্যম। ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার চালাচ্ছেন প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। রাসিক নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে ফেসবুক ও ইউটিউব ছাড়াও ব্যবহার করছেন অনলাইন প্রচারণার বিভিন্ন মাধ্যম। কোন এলাকায় কখন গণসংযোগ করছেন সেটাও প্রার্থী ও সমর্থকরা পোস্ট দিচ্ছেন। সেইসঙ্গে আঞ্চলিক ভাষায় তৈরি করা বিভিন্ন গান দিয়েও চলছে প্রচারণা। গানকে প্রাধান্য দিয়ে প্রার্থীদের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে ভোটারদের আকর্ষণের চেষ্টা করানো হচ্ছে। এবার মূল ভোটারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার তরুণ ভোটার। এসব তরুণ ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও বেছে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জৈষ্ঠ্যের তীব্রতা শেষে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে আষাঢ়ের গণনা। কিন্তু আষাঢ় শুরু হলেও এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিবেদনটি লেখার আগ পর্যন্ত রোদ শেষে প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করেই মিছিল, মিটিং, মাইকিং আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারপত্র বিলির কাজ করতে দেখা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে দু’এক ফোটা বৃষ্টির দেখা মেলে। এ সময় রাজশাহীর আকাশটা কিছুটা মেঘলা দেখা যায়। রাসিকের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২১ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ১৫২টি ভোট কেন্দ্রের এক হাজার ১৭৩টি কক্ষে ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাসিক নির্বাচনে এবার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ১৮৫ এবং নারী ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৭২। আর এবারই প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৩০ হাজার ১৫৭ ভোটার। রাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন, ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৪৬ নারী কাউন্সিলর এবং ২৯টি ওয়ার্ডে ১১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিচ্ছেন। তবে ২০ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে রবিউল ইসলামকে।