সর্বশেষ সংবাদ
তানোরের কাশিমবাজার-বায়া রাস্তা সংস্কার মান নিয়ে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত রাজশাহী নগরীতে নারীসহ ৮ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার নওগাঁয় শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার সাপাহারে বাড়িতে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা রুয়েটে তিনদিনের অ্যাক্রিডিটেশন মূল্যায়ন শুরু রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন ধোঁয়াশার বেড়াজালে আবদ্ধ প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ : সংসদের স্পিকার অলাভজনক-বন্ধ কারখানা নিয়ে বিশেষ রোড শোতে প্রধানমন্ত্রী

আজ ভোট : খুলনা নগরে কঠোর নিরাপত্তা বলয়

Paris
Update : সোমবার, ১২ জুন, ২০২৩

এফএনএস

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ সোমবার। ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ইভিএম মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। প্রতিটি কেন্দ্র ও ভোট কক্ষে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। নির্বাচন উপলক্ষে ১১ প্লাটুন বিজিবিসহ সাড়ে ৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গেছে, কেসিসিতে এ বছর ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রে তারা ভোট প্রদান করবেন। ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সহজ করতে এসব কেন্দ্রে এক হাজার ৭৩২টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ২৮৯ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ১ হাজার ৭৩২ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং ৩ হাজার ৪৬৪ জন পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে একটি করে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা থাকবে। এ ছাড়া ১ হাজার ৭৩২টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে একটি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য ৩ হাজার ইভিএম মেশিন রয়েছে। ১২ জুন ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও বলেন, সাধারণ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় অস্ত্রসহ এসআই/এএসআই একজন, তিন জন কনস্টেবল, অস্ত্রসহ একজন আনসার (পিসি), অস্ত্রসহ একজন আনসার (এপিসি), ১০ জন আনসার সদস্যসহ মোট ১৬ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর লোক নিয়োগ থাকবে। পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে প্রতি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে মোবাইল ফোর্স, তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতি থানায় একটি করে রিজার্ভ স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া কেন্দ্র অনুযায়ী থাকবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রসহ নগরীর সার্বিক নিরাপত্তায় বিজিবি, পুলিশ, আনসার, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় সাড়ে আট হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। গত শনিবার দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে টহল শুরু করেছে বিজিবি সদস্যরা। খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা চার দিন দায়িত্ব পালন করবে। বিজিবির টহল টিমের সঙ্গে ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। জানা গেছে, কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী এবং ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩৬ জন ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে নগরীর ১৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এবারের কেসিসি নির্বাচনের মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা), জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুল ইসলাম মধু (লাঙল), ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুল আউয়াল (হাতপাখা), স্বতন্ত্রপ্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান (দেওয়াল ঘড়ি) ও জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন (গোলাপ ফুল)। ভোটাররা বলছেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত। গত কয়েকটি নির্বাচনের ভোটপ্রাপ্তির ফলাফল বিশ্লেষণ করেই তারা এমনটা ধারণা করছেন। বিএনপি ছাড়া মেয়র পদে অন্য দলগুলোর প্রার্থীরা সবশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে ২০ হাজার ভোটও পাননি। সেখানে তালুকদার আবদুল খালেক একাই পেয়েছিলেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯০২ ভোট। এছাড়া বর্তমানে আওয়ামী লীগের সমর্থক আরও বেড়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এবার নগরীতে ৪২ হাজার ৪৩৬ জন নতুন ভোটার হয়েছেন। নতুন এই ভোটাররা জীবনে প্রথমবার ভোট দেবেন। সেই ভোটের অর্ধেক ভোটও যদি আওয়ামী লীগের প্রার্থী পান তাহলে তাহলে তালুকদার আবদুল খালেকের ভোট দুই লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, নির্বাচনের প্রচার প্রচারণার শুরুতে অনেকেই তালুকদার আবদুল খালেকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুল আউয়ালকে ভেবেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাদের ভোটাররা আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দেবেন না। তারা হয়তো ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী আবদুল আউয়ালকে ভোট দেবেন। গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এক লাখ ৯ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। তবে ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর ভোটও পেয়েছিলেন। এই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিরোধ রয়েছে ইসলামি আন্দোলনের। ফলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোট দেবেন না ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থীকে। আবার এবারের নির্বাচনে বিএনপির ভোটারদের কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য দলের পক্ষ আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী যদি বিএনপি বা জামায়াতের ভোট না পান তবে তাদের নিজেদের ভোট নিয়ে খুব একটা সুবিধায় থাকতে পারবেন না বলে মনে করছেন ভোটাররা। নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার শফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সেই নির্বাচনে মঞ্জু ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। তখন বিএনপির সঙ্গে জামায়াত এবং অন্য দল ছিল। কিন্তু তাদের সম্মিলিত ভোটও খালেককে হারাতে পারেনি। এবার তো বিএনপি নেই। আছে ইসলামি আন্দোলন, জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টির প্রার্থীরা। গত নির্বাচনে তাদের সবার ভোট একত্রে ২০ হাজারও হয়নি। সেই সময়ে বিএনপি এবং অন্য দলের ভোট মিলিয়েও তা এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি হয়নি। কিন্তু তালুকদার খালেক পেয়েছিলেন এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি ভোট। আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris