সর্বশেষ সংবাদ
তানোরের কাশিমবাজার-বায়া রাস্তা সংস্কার মান নিয়ে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত রাজশাহী নগরীতে নারীসহ ৮ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার নওগাঁয় শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার সাপাহারে বাড়িতে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা রুয়েটে তিনদিনের অ্যাক্রিডিটেশন মূল্যায়ন শুরু রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন ধোঁয়াশার বেড়াজালে আবদ্ধ প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ : সংসদের স্পিকার অলাভজনক-বন্ধ কারখানা নিয়ে বিশেষ রোড শোতে প্রধানমন্ত্রী

পাড়া-মহল্লায় কমিটি ও প্রার্থীদের দ্বন্দ্ব রাসিক নির্বাচনের বিষফোঁড়া!

Paris
Update : রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩

শাহানুর রহমান রানা

আসন্ন রাসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে মহানগর আ’লীগ কর্তৃক নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে গঠণ করা হয়েছে পাড়া-মহল্লা কমিটি। একেকটি ওয়ার্ডে গড়ে প্রায় তিন থেকে সাতটি করে মহল্লা কমিটি গঠণ করা হয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের মিডিয়া সেলের প্রধান ও নগর আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু জানান, নৌকা প্রতীকের প্রচারকার্য পরিচালনা করার জন্য মহল্লা কমিটি গঠণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই নির্বাচনী কেন্দ্রিক নানামূখি কর্মকান্ড শুরু করেছে মহল্লা কমিটিগুলো। এদিকে, কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনুসারিরাও নিজ নিজ ওয়ার্ডে কর্মব্যস্থতার মাঝে ডুব দিয়েছেন নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর বিজয় ভালের প্রত্যাশায়। মেয়র পদের প্রার্থীদের মধ্যে কোন প্রকার দ্বন্দ্ব-উত্তেজনা দেখা না দিলেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ও অনুসারিদের মধ্যে ঘটেছে নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনা। ওয়ার্ড কেন্দ্রিক নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে আবির্ভাব ঘটেছে আন্তঃদ্বন্দ্ব আর প্রচার-প্রচারণা বিষয়ক প্রতিহিংসার। যার কারনে, বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নগরীর বেশকয়েকটি ওয়ার্ডে প্রার্থীদের অনুসারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ঘটেছে নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনা। ফৌজদারি অপরাধের মতো ঘটনাও ঘটেছে কোথাও কোথাও। অন্যদিকে, নিজ নিজ প্রতীকের প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে লঙ্ঘিত হয়েছে আচরণবিধির বিষয়টি বলে জানান স্থানীয়রা। চা স্টলে ‘চা চক্রের’ মাঝে উভয় প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা আর হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

অন্যদিকে, রাসিক নির্বাচনে পাড়ামহল্লা কমিটির গঠণ নিয়েও কোথাও কোথাও উঠেছে নানামুখি অভিযোগ। কমিটি গঠণ ও পরবর্তী সময়ে সেটি চলমান রয়েছে নানা অসন্তোষ। মনের মতো মহল্লা কমিটি গঠণ করতে না পারার কারনে ঐসকল মহল্লা কমিটির নির্বাচন কেন্দ্রিক কর্মকান্ডের বিষয়ে নিয়মিত খোজখবর না নেবারও অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে। অন্তঃদ্বন্দ্ব আর হিংসা প্রতিহিংসার বেড়াজালে আবদ্ধ থাকা থানা ও ওয়ার্ড আ’লীগের সিংহভাগ নেতাকর্মীকে অবহিত না করেই গঠন করার চেষ্টা করা হয়েছে কোন কোন মহল্লা কমিটি বলেও অভিযোগ উঠেছে। কোন কোন ওয়ার্ডেও মহল্লা কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারির সাথে ওয়ার্ড সভাপতি-সেক্রেটারির রয়েছে রেষারেষি ও মান অভিমানের বিষয়টি বলেও জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এদিকে, গত ৯ জুন রাসিকের ২৩নং ওয়ার্ডে দুই প্রার্থীর অনুসারিদের মধ্যে ঘটেছে হাতাহাতি। সৃষ্টি হয়েছিল চরম উত্তেজনার। দুই পক্ষের অবস্থানকে কেন্দ্র করে ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত ছয়টি পুলিশের ভ্যান সেখানে উপন্থিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য। এরআগে, ৮ জুন নগরীর ২৮ নং ওয়ার্ডেও দুই প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল উত্তেজনার। সেটিকে কেন্দ্র করে পোড়ানো হয়েছে নির্বাচনী ক্যাম্প বলেও অভিযোগ আছে। ১৯নং ওয়ার্ডে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর অনুসারিদের মধ্যেও নির্বাচনী প্রচার প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে দেশীয় অস্ত্রের মহড়াও। হতাহত হয়েছে একাধিক ব্যক্তি। ১৮ নং ওয়ার্ডে অভিযোগ আছে পোস্টার লাগাতে বাঁধা প্রদানের। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েও সেটি আর সংঘাতে রূপ না নিলেও পরিবেশ এখনো থমথমে বলে জানান স্থানীয়রা। ২১ নং ওয়ার্ডের সাগরপাড়া বটতলা এলাকায় ‘চা স্টলে’ উভয় প্রার্থীর অনুসারিদেও মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতির মতোও ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বেশি ঘোলাটে হবার আগেই দায়িত্বরতরা সেটিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ত্যাগ করেন ঘটনাস্থল। ৭ নং ওয়ার্ডেও উত্তেজনা বিরাজ করেছে উভয় প্রার্থীর অনুসারিদের মধ্যে বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা। এদিকে ১৩ নং ওয়ার্ডের প্রচার প্রচারণায় কাউন্সিলর অনুসারি কর্তৃক অন্যপক্ষের অনুসারিদেরকে বাধা প্রদানের বিষয়েও উঠেছে অভিযোগ। গতকাল ১০ জুন সকালে রাসিকের ২৬ নং ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর অনুসারিদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির এক পর্যায়ে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এরআগে, গত ৫ জুন নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘণের দায়ে পাঁচজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

এদিকে, ওয়ার্ডভিত্তিক প্রতিটি মহল্লা কমিটির সদস্য সংখ্যায় ভিন্নতা থাকলেও নির্বাচনকেন্দ্রিক নৌকা প্রতীকের পক্ষে কর্মকান্ড একই ধাঁচের। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ও আসন্ন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের দায়িত্বে থাকাকালিন নানামুখি উন্নয়নচিত্রের লিফলেট মহল্লার স্থানীয়দের নিকট বিতরণ করাসহ ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে জনসাধারণদের অবগত করাই কমিটির সদস্যদের অন্যতম দায়িত্ব বলে জানায় দায়িত্বরতরা। এখানে নেই কোন স্বার্থের দ্বন্দ্ব, নেই কোন ওয়ার্ড বা থানাভিত্তিক দলীয় পদপদবী প্রাপ্তি বা বঞ্চিতের বিষয়বলী। কিন্তু, তার পরেও পাড়া-মহল্লা কেন্দ্রিক নির্বাচনকালীন অস্থায়ী এই কমিটি গঠণ নিয়েও একাধিক ওয়ার্ডে চলছে রেষারেষি, বাকবিতন্ডা, হট্টগোল, সন্তোষ-অসন্তোষের আনাগোনা, বাদ-প্রতিবাদের মতো নানাবিধ কোন্দল কলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন সচেতনরা। তারই ধরাবাহিকতায়, গত ৭ জুন সন্ধ্যায় ৬ নং ওয়ার্ডে মহল্লা কমিটির গঠণ নিয়ে সৃষ্টি হয় হট্টগোল। উক্ত ওয়ার্ডের দলীয় সূত্র জানায়, রাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের বিজয়কল্পে বেশ আগে থেকেই ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি মহল্লা কমিটি (লক্ষিপুর কাচা বাজার কমিটি) গঠণ করা হয়েছিল ওয়ার্ড ও থানা আ’লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে। সে মোতাবেক নৌকা প্রতীকের পক্ষে রুটিং মাফিক কমিটির সকলে নির্বাচনী মাঠে কাজও করে যাচ্ছে। উক্ত ওয়ার্ডের প্রতিটি কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩১ জন করে। গত ৭ জুন নতুন মহল্লা কমিটি গঠণের চেষ্টা নিয়ে বাকবিতন্ডা আর অসন্তোষের একপর্যায়ে পুরাতন কমিটিই বহাল রাখতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, রাসিকের ৩ ও ৭ নং ওয়ার্ডেও মহল্লা কমিটি নিয়ে বইছে অসন্তোষের হাওয়া। ওয়ার্ড আ’রীগের সভাপতি ও সেক্রেটারিকে মহল্লা কমিটির আহ্বায়ক না করে অন্যদেরকে দায়িত্ব দেয়ার কারণে সেখানেও অসন্তোষ। অভিযোগ আছে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে দায়িত্বশীল ও পদধারি নেতাদেরকে এবারের নির্বাচনে তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়নি। নির্বাচন কেন্দ্রিক সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়গুলোকে পর্যবেক্ষন ও বিবেচনা করে বিভিন্ন ওয়ার্ডের সচেতন রাজনীতি ব্যক্তিরা বলেন, মহল্লা কমিটি আর প্রার্থীদের আন্তঃদ্বন্দ্ব এবারের রাসিক নির্বাচনে ধীরে ধীরে বিষফোঁড়াতে রূপ নিচ্ছে।

নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাসিক নির্বাচনে মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা আহসানুল হক পিন্টু একপ্রশ্নের জবাবে জানান, যারা মহল্লা কমিটি নিয়ে অভিযোগ করছে তারা মিথ্যাচার করছে। নগর আ’লীগের তত্ত্বাবধানে ৫টি থানা মনটিরিং টিম রয়েছে। যারা প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লা নিয়মিতভাবেই মনিটরিং করছে। তিনি আরো জানান, মহল্লা কমিটি গঠণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মহল্লা কমিটির সদস্যদের মধ্যে যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তবে নিয়মানুযায়ী উক্তস্থানে নতুন কিছু মুখের রিপ্লেসমেন্ট করা হয়েছে। নির্বাচনমূখী আমাদের কর্মকন্ডে কোন প্রকার ব্যর্থয় এখনো ঘটেনি। যদি কারো কোন অভিযোগ থাকে তবে আমাদের অভিযোগ সেলে লিখিত আকারে অভিযোগ দিতে পারেন। আমরা প্রতিদিন রাত্র নয়টার পর ঐসকল অভিযোগগুলো বিবেচনা করে থাকি।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris