শনিবার

২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম বেশি স্বাধীন : তথ্যমন্ত্রী

Paris
Update : সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৩

এফএনএস
প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল সোমবার দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ভারতের তথ্য অধিদপ্তরের উদ্ধৃতি দিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ভারতের তথ্য অধিদপ্তরকে ফ্যাক্টচেকের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোন সংবাদটি সঠিক, কোনটি সঠিক না, সেটি তারা পরীক্ষা করবে, এ ধরনের সংবাদ যদি কেউ পোস্ট করে, তাহলে সেই দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যখন বলা হবে, এ সংবাদটি সঠিক না, সেটি তাদের নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে হবে। সরিয়ে না নিলে সেই ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো ব্যবস্থা আমরা নেইনি। তার মানেটা এ যে আমাদের দেশের গণমাধ্যম পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের চেয়ে অনেকে বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশ করার কারণে বিবিসির কার্যালয়ে কয়েকদিন ধরে তল্লাশি করা হয়েছে ট্যাক্স অফিসের লোকজনের মাধ্যমে। আমাদের দেশে কোনো পত্রিকা অফিসে তো ট্যাক্স অফিসের লোকজন যায়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি রমজানেই আমাদের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেয়। এবারও সেই তৎপরতা ছিল। কিন্তু সরকারের নানামুখী তৎপরতার কারণে কোনো কোনো পণ্যের দাম কমেছে। মুরগির দামে যেমন অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেটি কমেছে। এতে প্রমাণিত হয়, যদি আমরা ভোক্তা অধিকারকে আরও শক্তিশালী করতে পারি, তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করতে পারি, তাহলে পণ্যের দাম যখন-তখন অহেতুক বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। ভোক্তা অধিকারই না, এফবিসিসিআইও সোচ্চার হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় পণ্যের সংকট আছে। কোনে কোনো বিপণিবিতানে এক লিটারের বেশি ভোজ্যতেল কিনতে দেওয়া হয়নি। ছয়টি কিংবা ১২টির বেশি ডিম কিনতে দেওয়া হয়নি। যে কারণে দেখা গেছে, কেনার জন্য একই পরিবারের পাঁচজন মার্কেটে গেছেন। সেখানে পণ্যের সংকট আছে। যেটি আমাদের দেশে নেই। অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে যদি পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট হয়, তাহলে সেটি সরকারের জন্য সহায়ক হবে। এসময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচন বিমুখতা গণতন্ত্র বিমুখতার শামিল। তিনি বলেন, আমরা চাই সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করুক। তবে যেকোনো রাজনৈতিক দল সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না। কিন্তু বিএনপির মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সব সময় দোদুল্যমানতা থাকে। তারা কোনো কোনো সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, আবার কোনো কোনোটাতে করেনি। এই দোদুল্যমানতাই বিএনপির জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি সিটি নির্বাচনে আন্দোলনের অংশ হিসেবেও অংশগ্রহণ করতে পারতো। পারলে তাদের জন্য সেটি ভালো হতো এবং তারা তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে পারতো। নির্বাচন কেমন হচ্ছে সেটিও তারা পরখ করতে পারতো। যদি তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেটি তাদের জন্য মঙ্গলজনক, গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক। মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা সিটিতে একটি প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক নির্বাচন হয়েছে। এই সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে সেটি নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে। সরকার সব সময় নির্বাচন কমিশনকে ফেসিলেটেড করেছে। সুতরাং এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাই বিএনপির জন্য ভালো। নির্বাচন থেকে পালিয়ে বেড়ানো বিএনপির জন্য শুভ হয়নি। বিএনপির নির্বাচন বিমুখতা গণতন্ত্র বিমুখতার শামিল।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris