আরা ডেস্ক
আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল আজ। এই কাউন্সিলকে এইবার নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর আওয়ামী লীগ এখন একটি কঠিন সময় পার করছে। বিরোধী দলগুলো শুধু নয়, পশ্চিমা কয়েকটি দেশ এবং সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ ক্রমশ আওয়ামী লীগ বিরোধিতায় একত্রিত হচ্ছে এবং সরকার উৎখাতের জন্য দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য নানামুখী তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরকম একটি পরিস্থিতির মধ্যে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর এই কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্ট কিছু বার্তা দেবেন। দল পরিচালনায় এবং আগামী দিনে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষদের মোকাবেলা করার জন্য করনীয় জানাবেন কাউন্সিলরদেরকে এবং নেতাকর্মীদেরকে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতারা বলছেন যে, এবারের কাউন্সিল নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আওয়ামী লীগ এখন একটি কঠিন সময় পার করছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাসহ নানামুখী ষড়যন্ত্রের জন্য এবারের কাউন্সিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নেতাকর্মীরা তাকিয়ে আছে আওয়ামী লীগ সভাপতির দিকে। কাউন্সিলে তিনি কি বক্তব্য দেন সেটার উপর নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতির অনেক কিছু। আওয়ামী লীগকে এই কাউন্সিলের পর থেকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত সময়ে অর্থাৎ প্রায় একবছর কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই সময় আওয়ামী লীগকে পাঁচ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। কিছু আছে দৃশ্যমান প্রতিপক্ষ, কিছু আছে অদৃশ্যমান প্রতিপক্ষ। যে পাঁচ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের লড়তে হবে তার মধ্যে রয়েছে-
১. বিএনপি-জামায়াত : বিএনপি-জামায়াত এখন নতুন করে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করছে। তারা বলেছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। আর এরকম ঘোষণার প্রেক্ষিতেই এবারের কাউন্সিলে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন মোকাবেলার কৌশল চূড়ান্ত করবেন কাউন্সিলররা। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২. পশ্চিমা কূটনীতিকরা : পশ্চিমা কূটনীতিকরা এখন আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গত ১৪ বছর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী একটি রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমাদের সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমেছে। এ কারণেই পশ্চিমা দেশগুলোর আওয়ামী লীগের ব্যাপারে কিছুটা নেতিবাচক দিক রয়েছে। তাছাড়া পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের বাজার চীন এবং ভারতের দখলে চলে যাচ্ছে, এমনটিও মনে করে। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কি ধরনের কৌশল অবলম্বন করবে, সেটি এবার কাউন্সিলে নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে।
৩. সুশীল সমাজ : সুশীল সমাজের একটি অংশ আওয়ামী লীগের বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে সুশীল সমাজ কিছুটা কোণঠাসা হয়েছে। তারা এখন সুশাসন, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়কে সামনে নিয়ে আসছেন এবং সরকারকে কোণঠাসা করছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন যে, সুশীল সমাজ, পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকা এবং বিএনপির আন্দোলন একসূত্রে গাঁথা। এই তিন প্রতিপক্ষকে একসাথে মোকাবেলা করতে হবে। আর মোকাবেলা করার কৌশল দিবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
৪. জঙ্গি-উগ্র মৌলবাদ মোকাবেলা : আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ এবং উগ্র মৌলবাদ মোকাবেলা করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে। আর এরা যে বাংলাদেশের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু সেই সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সভাপতি সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দেবেন, কিভাবে এদেরকে মোকাবেলা করা যায় তার পথ দেখাবেন।
৫. ঘাপটি মেরে থাকা শত্রু : আওয়ামী লীগ গত ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে দলে প্রচুর অনুপ্রবেশ করেছে। এমনকি জামায়াত-বিএনপির লোকজন আওয়ামী লীগের অনেক পদ দখল করে রয়েছে। এরা আওয়ামী লীগের বড় প্রতিপক্ষ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যে সমস্ত ব্যক্তিরা অনুপ্রবেশ করেছেন তারা বিভিন্ন সময় দলের স্বার্থপরিপন্থী কর্মকাণ্ড করে দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলছেন। এই অনুপ্রবেশকারী প্রতিপক্ষদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ তার কাউন্সিলে কৌশল গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। সূত্র : বাংলা ইনসাইডার