কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আজ রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ

Paris
Update : শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ শনিবার (০৩ ডিসেম্বর)। বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশকে ঘিরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। শহরের সবগুলো প্রবেশমুখে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে থাকছে পুলিশের কড়া নজরদারি। পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, শহরের ১৭টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। শহরজুড়ে সাদাপোশাকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মাঠে কাজ করছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সমাবেশকে ঘিরে দুই সপ্তাহ জুড়ে রাজশাহী ও আশপাশের জেলাগুলোতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। সমাবেশের আগ মুহূর্তে তৎপরতা বাড়িয়েছে পুলিশ। নগরীর আমচত্বর, নওদাপাড়া, রেলগেট, কাশিয়াডাঙ্গা মোড়, তালাইমারী মোড়, কাটাখালী বাজার ও বেলপুকুরে পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। বাইরে থেকে আসা যানবাহনগুলোতে বাড়তি নজরদারি থাকছে পুলিশের। এছাড়া সমাবেশস্থল রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। মাদ্রাসার প্রধান ফটক ঘোষপাড়া মোড়ে দায়িত্ব পালন করছে বেশ কিছু পুলিশ সদস্য। মাঠ ও আশপাশের এলাকার চিত্র জানতে পুলিশের পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ওই এলাকার ওপর নজর রাখছে পুলিশ। মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রফিকুল আলম বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে সহিংস কিছু ঘটাতে না পারে সে জন্য সতর্ক আছি। সমাবেশকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়াও শহরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ১৭টি পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গোটা শহরে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাদা পোশাকে মাঠে পুলিশ রয়েছে। গোয়েন্দা শাখার সদস্যরাও কাজ করছেন। সমাবেশে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে এর মধ্যে মাদ্রাসা মাঠে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। নগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট থেকে এ ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জানা যায় পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সমাবেশকে ঘিরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে দুদিন আগে থেকেই নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন রাজশাহীতে। এর ফলে মিছিল-স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজশাহীর সমাবেশস্থল, মাদ্রাসা মাঠ এলাকা। দেখা যায়, মাদ্রাসা মাঠের পাশের ঈদগাহ মাঠে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীরা দলে দলে স্লোগান মিছিলে মেতে ওঠেন। নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য ফরহাদ আলি শাহেদ বলেন, আমি ৫০ জন কর্মী নিয়ে এসেছি। সমাবেশ সফল করেই এখান থেকে যাবো। আওয়ামী লীগকে এখান থেকে জানান দিতে চাই, বিএনপি এখনো কতটা ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। সিরাজগঞ্জ বিএনপির প্রচার সম্পাদক মকবুল বলেন, পরিবহন ধর্মঘট আমাদের সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকার যতই বাড়াবাড়ি করুক, ক্ষমতা এবার ছাড়তেই হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাধ্যমে আমাদের কর্মসূচি থামবে। নিত্যপণ্য ও জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতাকর্মীদের মৃত্যুর প্রতিবাদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দেশের প্রত্যেক বিভাগে গণসমাবেশ করছে বিএনপি। আগামী ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ হবে ঢাকায়। ঢাকার বাইরে এটিই শেষ সমাবেশ। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লার পরে ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে গণসমাবেশ করবে দলটি। রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের আয়োজন চলছে। তবে পুলিশের দেওয়া অনুমতি অনুযায়ী, বিএনপি নেতাকর্মীরা শনিবারের আগে মাদ্রাসা মাঠে সমবেত হতে পারবেন না। এ কারণে তারা অবস্থান নিয়েছেন পাশের ঈদগাহ মাঠে। এটি বিএনপির নবম বিভাগীয় গণসমাবেশ। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris