সোমবার

২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর হত্যাকারী যুবক গ্রেপ্তার

Paris
Update : শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

এফএনএস : সিরাজগঞ্জে নির্বাচনের রাতে বিজয়ী কাউন্সিলর তরিকুল ইসলাম খানের হত্যাকারী জাহিদুল ইসলামকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি গতকাল শুক্রবার সকালে সাহেদনগর ব্যাপারীপাড়া এলাকার মোকছেদের বাড়ির পাশে মাটিতে পোঁতা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর এলাকা থেকে জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম শহরের সাহেদনগর ব্যাপারীপাড়া এলাকার টিক্কা ব্যাপারীর ছেলে। গতকাল শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জ সদর থানা চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদুল ইসলাম জানান তিনি ‘উটপাখি’ প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শাহাদত হোসেন বুদ্ধিনের সমর্থক। নির্বাচনের তিনদিন আগে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার জন্য জাহিদুল ইসলাম ঢাকা থেকে সাহেদনগর ব্যাপারীপাড়ার নিজবাড়িতে যান। এরপর দুইদিন নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। নির্বাচনের আগের দিন রাতে এক আসামির বাড়িতে তার উপস্থিতিতে এজাহার নামীয় ও অন্যান্য আসামিরা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তরিকুল ইসলাম খানের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এজাহার নামীয় একজন আসামি তাকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি দেন।

ফলাফল ঘোষণার সময় অন্যান্য আসামিদের সাথে জাহিদুলও ছুরি নিয়ে শহীদগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রার্থী বুদ্ধিন ও তার সমর্থকদের সাথে উপস্থিত হন। সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে ফলাফল ঘোষণায় ‘ডালিম প্রতীক’ ৮৫ ভোটে তরিকুল ইসলামকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরপরই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় জাহিদুল তরিকুলের পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি তার বাড়ির পশ্চিম পাশের পরিত্যক্ত ডোবায় পুঁতে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর এলাকার ভাড়া বাসায় চলে যান জাহিদুল ইসলাম।

জবানবন্দিতে এজাহার নামীয় কয়েকজন আসামি ছাড়াও অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজন আসামির নাম স্বীকার করেছেন জাহিদুল ইসলাম। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশের কয়েকটি টিম তৎপর রয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৬ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ভোট গণনায় ৮৫ ভোটে বিজয়ী হন তরিকুল ইসলাম। ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরপরই পরাজিত প্রার্থী শাহাদত হোসেন বুদ্ধিনের সমর্থকরা বিজয়ী প্রার্থীদের ওপর হামলায় চালায়।

এ সময় পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিজয়ী কাউন্সিলর তরিকুল গুরুতর আহত হন। ওইদিন রাত ৮টার দিকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পরদিন ১৭ জানুয়ারি রাতে নিহতের ছেলে একরামুল হক হৃদয় বাদী হয়ে পরাজিত প্রার্থী ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন বুদ্ধিনকে প্রধান আসামি করে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে আজ্ঞাত আরও ৪০/৫০ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এ মামলার ২৭নং আসামি স্বপন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তারে করে জেলাহাজতে পাঠানো হয়।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris