এফএনএস : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সংসদে উত্থাপিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের বিল তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এইচএসসির ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থী অভিভাবক সবাই অপেক্ষা করছেন এবং আমাদের ফলাফল সব প্রস্তুতও আছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এ কথা বলেন তিনি। ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল- ২০২১ সংসদে উত্থাপনের সময় তিনি এ কথা বলেন।
এর জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সঙ্কটের কারণে এবার পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। আমরা বিকল্প একটি পদ্ধতিতে আগের দুটি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এই ফলাফল দিতে যাচ্ছি। সে কারণে বর্তমান আইনটি সংশোধন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই বিলটি আনা হয়েছে। দীপু মনি আরও বলেন, বিলটি মন্ত্রিপরিষদে আনার পর বলেছিলাম, যেহেতু ১৮ জানুয়ারি সংসদ শুরু হবে, তারপর দ্রুততার সাথে উত্থাপনের চেষ্টা করবো। সংসদ পাস করলে তারপর আমরা দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল দেব। এটি অবশ্যই সংসদের এখতিয়ার। সংসদ কবে পাস করবে তার ওপর নিশ্চয়ই কথা বলবার এখতিয়ার নেই।
সংসদের এখতিয়ারের ওপর কারো হাত দেয়ার সুযোগ নেই। অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই দ্রুততার কথা এসেছে। এটি অত্যন্ত জরুরি। আমাদের বোর্ডের সমস্ত পরীক্ষা এই আইনের অধীনেই হয়। পরে বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয় এবং একদিনের মধ্যে বিলের রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়েছে। এর আগে করোনাকাল হওয়ায় পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে সংসদে তিনটি বিল উত্থাপন করা হয়। এসব বিল দ্রুত পাস করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
দ্রুত ফলাফলের জন্য বিলগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে অল্প সময় দিয়ে পাঠানো হয়েছে। ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১ উত্থাপন নিয়ে সংসদে আপত্তি জানান জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। নিয়ম অনুযায়ী সংসদে উত্থাপনের আগে নোটিশ না পাওয়ায় তিনি আপত্তি জানান। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য নিয়েও আপত্তি জানান তিনি।
বিলের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, সংবিধানের ১৭ (ক) ধরায় বলা আছে, একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সব বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান। সেখানে ১২ বছর রাষ্ট্র দায়িত্ব নিয়েছে।
এখন আপনি পরীক্ষা তুলে দেবেন এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না? ওখানে পরীক্ষার কথা বলা আছে, পদ্ধতির কথা বলা আছে, পরীক্ষা ওঠানোর কথা নেই তাই এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না তাছাড়া কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭ (ঙ) অনুসরণ না করায় সংসদ সদস্যদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় এই এমপি। তিনি বলেন, এ বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।