চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : দশ হাজার টাকা ঋণের ৪ হাজার শোধ হয়েছে অনেক আগেই। বাকি ৬ হাজার টাকা শোধ করতে বিভিন্ন জায়গায় দিনমজুরের কাজ করে যাচ্ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বাহির মল্লিকপুর গ্রামের মৃত নুরুল আমিনের ছেলে ঋনগ্রহীতা রুবেল ইসলাম (৩৫)। গত রবিবার (১৭ জানুয়ারী) সূর্যমুখী কৃষি উন্নয়ন সংস্থায় কিস্তি দেয়ার দিন ছিলো রুবেলের। কাজ করলেও মালিক টাকা না দেয়ায় কিস্তি দেয়া সম্ভব হয়নি সেদিন। রবিবার সন্ধ্যায় টাকা না পেয়ে রুবেলের কর্মস্থলে হাজির হয় সূর্যমুখী কৃষি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মো. মাসুম। টাকা পরিশোধে রুবেল আরো সময় চাইলে তেলের মিলের গেটে ঝুলানো তালা দিয়ে মাথায় ও শরীরে আঘাত করে এনজিও পরিচালক মাসুম।
এতে গুরুতর আহত হলে রুবেলকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানকার চিকিৎসরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। মিল মালিক, আহত রুবেলের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ মাস আগে সূর্যমুখী কৃষি উন্নয়ন সংস্থা থেকে রুবেল ১০ হাজার টাকা ধার নেয়। এমনকি নিয়মিত কিস্তি দিয়ে ৪ হাজার টাকা শোধ করে। কিন্তু এরমধ্যেই রুবেলের কিডনীতে পাথর দেখা দিলে সে দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে থাকলে কর্মহীন হয়ে পড়ে। এমনকি চিকিৎসা করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ধারদেনা হয়।
পরে দীর্ঘদিন বিরতি দিয়ে সপ্তাহখানেক আগে থেকে সংসার চালাতে ও ধারদেনা পরিশোধ করতে কাজ নেয় একটি তেলের মিলে। আহত রুবেল বলেন, কিডনীতে পাথরের কারনে অসুস্থ হয়ে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সুস্থ হয়ে কাজে ফিরে শুনতে পায় এনজিও’টি জনগণের কাছ থেকে অনেক টাকা পয়সা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। রবিবার এনজিওর কর্মকর্তা মাসুম টাকা নিতে আসলে বলি একটু সময় দেন। আপনার বাকি টাকা পরিশোধ করে দিব।
এই বলে নিজ কর্মস্থলে কাজ করতে থাকি, কিন্তু মাসুম ও তার চাচাতো ভাই সুমন আংগুল দেখিয়ে বলে এক্ষুনি টাকা দে আর না হলে ঘর থেকে বের হতে দিব না, প্রয়োজনে তোকে মেরে ফেলবো। রুবেল আরো জানায়, মিলের দরজায় ঝুলে থাকা তালা দিয়ে চোরের মত বেধড়ক মারপিট করতে থাকে এবং সজোরে মাথায় একাধিক আঘাত করতে থাকে। মিলের মালিক মো. গিয়াস উদ্দিন জানায়, আঘাত করলে মাথা ফেটে রক্ত পড়তে থাকে, রক্তঝরা অবস্থায় ঘরের মধ্যে মাটিতে নুয়ে পড়ে রুবেল।
পরে স্থানীয় লোকজন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। রুবেলকে মারার জন্য এনজিও কর্মকর্তা মাসুম আগে থেকে পরিকল্পনা করে আসে। এনিয়ে সূর্যমুখী কৃষি উন্নয়ন সংস্থার কোন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ও তাদের অফিসও বন্ধ পাওয়া যায়। এব্যাপারে মুঠোফোনে নাচোল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) সেলিম রেজা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।