এফএনএস : ইউক্রেইনে প্রথম চার দিনের লড়াইয়ে রাশিয়ার পাঁচ হাজারেরও বেশি সেনা নিহত হয়েছে বলে কিয়েভের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে। গতকাল সোমবার ফেইসবুকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার আনুমানিক পাঁচ হাজার ৩০০ সেনা নিহত হয়েছে। একই সময় ইউক্রেইনীয় বাহিনীগুলো রাশিয়ার ১৯১টি ট্যাঙ্ক, ২৯টি যুদ্ধবিমান, ২৯টি হেলিকপ্টার ও ৮১৬টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। বিবিসি জানিয়েছে, তারা এসব দাবি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিশ্বাস, লড়াইয়ের শুরুর পর্যায়ে রাশিয়ার পক্ষে ‘ব্যাপক’ হতাহত হয়েছে।
গত রোববার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বাহিনীগুলো ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে স্বীকার করেছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি তারা। এদিকে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর গত চার দিনের যুদ্ধে নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০২ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এই আগ্রাসন ‘গুরুতর মানবিক পরিণতি’ বয়ে এনেছে এবং এতে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই ইউক্রেনে সংঘাত চলছে। গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। তারপর থেকেই উত্তেজনা বাড়ছে। এই সংঘাতে দুপক্ষেরই ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে। এদিকে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তোনভ এন-২২৫ নামে তাদের একটি প্লেন ধ্বংস করেছে রাশিয়া। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্লেন। ম্রিয়া বা স্বপ্ন নামের এই বৃহদাকার প্লেনটি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি এয়ারফিল্ডে রাখা হয়েছিল। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি রুশ সেনাদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে। তবে ইউক্রেন বলছে, তারা আবারও এই প্লেন নির্মাণ করবে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা এক টুইট বার্তায় বলেন, রাশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্লেন ম্রিয়া ধ্বংস করতে পারে। তবে একটি শক্তিশালী, স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক ইউরোপীয় রাষ্ট্র গঠনে আমাদের যে স্বপ্ন তা তারা ধ্বংস করতে পারবে না। আন্তোনভ এন-২২৫ প্লেনটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি উকরোবরনপ্রোম। গত রোববার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, প্লেনটি ধ্বংস হলেও পরবর্তীতে তারা রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নিয়েই এটি পুনর্নিমাণ করবে। এতে তিন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে এবং এটি পুনর্নিমাণে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে গতকাল সোমবারও দেশটিতে সংঘাত চলমান রয়েছে।
তবে কয়েকদিন ধরে চলা কারফিউ তুলে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির প্রায় সব জেলাতেই এখনও রুশ সৈন্যদের সঙ্গে লড়াই চলছে। কারফিউ তুলে নেওয়ায় মুদি দোকানগুলো খোলা হয়েছে। ফলে মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছে। গত দুই দিন ধরে বেশিরভাগ মানুষই বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে অবস্থান করছিলেন। এখন কিছুটা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন তারা। তবে দুপক্ষের সংঘর্ষের কারণে প্রতিনিয়তই সতর্ক থাকতে হচ্ছে। লোকজন সারাক্ষণই টেলিভিশনের পর্দা এবং মোবাইলের মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি নজরে রাখছেন।